হাজীগঞ্জে লড়ছেন ৩০ চেয়ারম্যান প্রার্থী : আ’লীগ থেকে ৩ প্রার্থী বহিষ্কার

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ১১টি ইউনিয়নে চেয়ারের জন্য লড়ছেন ৩০ জন প্রার্থী। নৌকা প্রতীকের ১১ জনের বাহিরে স্বতন্ত্র পরিচয়ে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনী মাঠে বিভিন্ন প্রতীক নিয়ে লড়ছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ও জাতীয়তা বাদী দল বিএনপির ১৯ জন প্রার্থী।

এর আগে গত ৬ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন এমন দলীয় নেতৃবৃন্দ ও সমর্থক এবং বিএনপি, জামায়াত ও জাকের পার্টিসহ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ১১টি ইউনিয়নে ২৫ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন।

এদিকে উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নৌকার প্রার্থীরা হলেন, ১ নম্বর রাজারগাঁও ইউপিতে আ. হাদী মিয়া, ২ নম্বর বাকিলা হাবিবুর রহমান লিটন, ৩ নম্বর কালচোঁ উত্তর মানিক হোসেন প্রধানীয়া, ৪ নম্বর কালচোঁ দক্ষিণ আক্তার হোসেন মিকন, ৫ নম্বর হাজীগঞ্জ সদরে আলহাজ্ব সফিকুর রহমান মীর, ৬ নম্বর বড়কূল পূর্ব আহসান হাবিব, ৭ নম্বর বড়কূল পশ্চিম বীর মুক্তিযোদ্ধা মনির হোসেন গাজী, ৮ নম্বর হাটিলা পূর্ব মোস্তফা কামাল, ৯ নম্বর গন্ধর্ব্যপুর উত্তর কাজী নুরুল রহমান বেলাল, ১০ নম্বর গন্ধর্ব্যপুর দক্ষিণ গিয়াসউদ্দিন বাচ্চু ও ১১ নম্বর হাটিলা পশ্চিম ইউনিয়নে মজিবুর রহমান।

জানা গেছে, দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা ও বিদ্রোহী প্রার্থী ঠেকাতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ২০১৬ সালে দলীয় গঠণতন্ত্র সংশোধন করে দলের প্রতীকের বিরুদ্ধ নির্বাচন করা দলীয় নেতাদের সরাসরি বহিষ্কারের ধারা অন্তর্ভুক্ত করে। এরপর থেকে এই ধারা অনুযায়ী বিদ্রোহী প্রার্থীদের বহিস্কার শুরু হয়।

এবারের আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ থেকে বিদ্রোহী হয়ে লড়ছেন এমন তিন প্রার্থীকে বহিষ্কার করেছে উপজেলা আওয়ামী লীগ। এরা হলেন, ১ নম্বর রাজারগাঁও ইউনিয়নের রফিকুল ইসলাম, ৮নম্বর হাটিলা ইউনিয়নে সোহরাব হোসেন মিয়াজী ও ৯নম্বর গন্ধর্ব্যপুর উত্তর ইউনিয়নে রফিকুল ইসলাম মিলিটারি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গাজী মো. মাঈনুদ্দিন।

অপর দিকে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের নিশ্চয়তা না থাকার অভিযোগে বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে আর কোনো ভোটে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। কিন্তু স্থানীয় সরকারের নির্বাচন নিয়ে দেখা গেছে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র পরিচয়ে মাঠে নেমেছেন বিএনপির প্রার্থীরা। সারা দেশের ন্যায় এর ব্যতিক্রম হাজীগঞ্জেও দেখা যায়নি। বিভিন্ন ইউনিয়নে উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দ স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।

হাজীগঞ্জে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বীতায় স্বতন্ত্র হিসাবে আওয়ামী লীগের পদধারী ও সমর্থক প্রার্থীদের মধ্যে রাজারগাঁও ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের সমর্থক আনারস প্রতীকে মো. রফিক পাটওয়ারী, কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের সমর্থক আনারস প্রতীকে মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ফরাজী, হাজীগঞ্জ সদর ইউনিয়ন যুবলীগের (পূর্ব) সাধারণ সম্পাদক আনারস প্রতীকে ইউসুফ প্রধানীয়া সুমন, বড়কুল পূর্ব ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আনারস প্রতীকে মজিবুর রহমান মজিব নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন।

হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নে উপজেলা আওয়ামী লীগের ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান চশমা প্রতীকে সোহরাব হোসেন মিয়াজী, গন্ধর্ব্যপুর উত্তর ইউনিয়নে উপজেলা আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান আনারস প্রতীকে রফিকুল ইসলাম মেলেটারী এবং একই ইউনিয়নে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা সদস্য ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান চশমা প্রতীকে মো. ইউনুছ মিয়া, হাটিলা পশ্চিম ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের সমর্থক ও ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোটরসাইকেল প্রতীকে মোহাম্মদ আলী (এম আলী মুজিব) নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

অপর দিকে বিএনপির পদধারী ও সমর্থক প্রার্থীদের মধ্যে রাজারগাঁও ইউনিয়নে বিএনপির সহ-সভাপতি চশমা প্রতীকে মো. সিদ্দিকুর রহমান, বাকিলা ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপির সহ-যুব বিষয়ক সম্পাদক ঘোড়া প্রতীকে মো. জুলহাস মিয়া, একই ইউনিয়নে উপজেলা যুবলদলের যুগ্ম আহবায়ক ও সাবেক চেয়ারম্যান আনারস প্রতীকে মিজানুর রহমান মিলন, কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নে বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা স্বপন ঘোড়া প্রতীকে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন।

বড়কুল পশ্চিম ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপির সদস্য আনারস প্রতীকে নুরুল আমিন হেলাল, হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নে বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনারস প্রতীকে মোশারফ হোসেন, গন্ধর্ব্যপুর উত্তর ইউনিয়নে উপজেলা যুবদলের সদস্য ঘোড়া প্রতীকে নেছার আহমেদ, গন্ধর্ব্যপুর দক্ষিণ ইউনিয়নে বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক আনারস প্রতীকে মো. নাছির উদ্দিন, হাটিলা পশ্চিম ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ঘোড়া প্রতীকে ইমাম হোসেন লিটন নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব হেলাল উদ্দিন মিয়াজী জানান, দলীয় প্রতীক চেয়ে যারা মনোনয়ন পায়নি, এদের মধ্যে যারা ভিন্ন প্রতীকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন, তাদের বিরুদ্ধে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম. এ রহিম পাটওয়ারী জানান, কেন্দ্রিয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। তাই আমরা দলীয়ভাবে কাউকে মনোনয়ন বা সমর্থন দেইনি। এখন আমাদের নেতাকর্মীদের মধ্যে কেউ যদি নির্বাচনে অংশ নেয়, সেটা তার বা তাদের ব্যক্তিগত বিষয়।

উল্লেখ্য, চলতি মাসের ২৬ ডিসেম্বর এসব ইউনিয়নে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। বর্তমানে দল নাকি ব্যক্তি ইমজের প্রার্থী পরিষদের চেয়ারে বসবেন এমন সমীকরণ ভোটারদের মাঝে চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *