আমাদের ফ্যামিলিতে জায়েদ খান কীভাবে ক্ষতি করতে চাচ্ছেন, এটা বলতে গেলে লম্বা ঘটনা: ফারদিন

এবার মুখ খুললেন ওমর সানী ও মৌসুমী দম্পতি সন্তান ফারদিন এহসান স্বাধীন। জায়েদ খানকে ঘিরে বাবা-মায়ের সঙ্গে যে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে তা নিয়ে কথা বললেন ফারদিন। বাবা-মায়ের ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার আব্বা এত বছর ধরে চলচ্চিত্র আছেন, তিনি তো না বুঝে কথা বলবেন না। আর যাঁকে নিয়ে অভিযোগ এসেছে, তাঁকে (জায়েদ খান), দিয়ে তো সব সম্ভব। এর চেয়ে বেশি নোংরা কিছু করা সম্ভব। সবকিছুই সম্ভব। তবে তাঁকে আমার ফ্যামিলির জন্য কোনো একটা ইস্যু বা টিস্যু কোনো কিছুই মনে করি না।’

ফারদিন বলেন, ‘আমার বাবা সিনিয়র, তিনি (জায়েদ) বেয়াদবি করছেন। এ বেয়াদবির কারণে একটা থাপ্পড় দিয়ে বসেছেন। থাপ্পড়ের পর যদি তিনি পিস্তল বের করেন, সেটা তো অবশ্যই দুঃখজনক। এই শিক্ষাটা তো আমি আমার বাবা-মায়ের কাছ থেকে পাইনি। বাট আমাদের ফ্যামিলিতে জায়েদ খান কীভাবে ক্ষতি করতে চাচ্ছেন, এটা বলতে গেলে লম্বা ঘটনা।’
ফারদিন বলেন, ‘ আমার আম্মাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম। বলেছিলাম মা, তুমি যে অডিও বাইটের প্রথমে বা লাস্টে যে বললে, কী বললে? জানাতে চেয়েছিলাম, বিশ্রী একটা পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। (কারণ, সিচুয়েশনটা আগলি না।) এটা সমাধান করতে হবে ঘরোয়াভাবে। এটা গণমাধ্যম পর্যন্ত যাওয়া লাগবে না। বা চলচ্চিত্রে সিনিয়রেরা আছেন তারাই বিষয়টি সমাধান করতে পারেন।’

আমাদের ফ্যামিলিতে জায়েদ খান কীভাবে ক্ষতি করতে চাচ্ছেন, এটা বলতে গেলে লম্বা ঘটনা: ফারদিন

ফারদিনের ভাষায়, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে জায়েদ খানকে কিছুই মনে করি না। আর ফ্যামিলির জন্য তো আরও কিছুই না। এখন কাউকে যদি ক্ষতি করতে চান, তাহলে তাঁর ব্যবসাকে ঘাই দেওয়ার চেষ্টা করবেন, তাঁর পরিবারের ক্ষতি করার চেষ্টা করবেন। জায়েদও তাই করেছেন।’
ফারদিন ব্যবসা করেন। সেখানেও ক্ষতি করার চেষ্টা করছেন জায়েদ খান এমনটা উল্লেখ করে এই তারকা সন্তান বলেন, ‘তার তো কোনো সিনেমা নেই, কোনো কাজ নেই। কাজ না থাকলে যা হয়। আমরা সবাই ব্যস্ত থাকি। তার না আছে ক্যামেরার জীবন, না আছে অন্য জীবন। যার কিছুই থাকে না, তার টার্গেট থাকে যার কিছু থাকে তারটা নিয়ে সে নষ্ট হবে বা তারটা নিয়ে সে ভালো হবে। এটা ইন্ডাস্ট্রির সবাই জানে। এফডিসির সবাই আমার পরিচিত। আঙ্কেল খালা মামা। আমি ইন্ডাস্ট্রির ভাগনে, ভাতিজা, ছেলে। তাদের কে বলতে হয় জায়েদ খান নিম্ন মানের মানুষ।’
তার বাবার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মায়ের অডিও বার্তা প্রসঙ্গে মায়ের কাছে জানতে চেয়েছিলেন? তখন আপনার মা মৌসুমি কী বলেছিলেন, জানতে চাইলে ফারদিন বলেন, ‘তখন মা বলেন, “দেখ বাবা আমি তো তখন রাগের মাথায় বলেছি। তোমার বাবার সঙ্গে একটু রাগারাগি হয়েছে। সেভাবেই বলেছি। আমি কিন্তু মিথ্যাচার করছে সানী এটা ডিরেক্ট বলি নাই। যতটুকু বলেছি, আমি রাগের মাথায় বলেছি।”’

বাবা–মাকে সব সময় সবার আগে গুরুত্ব দেন ফারদিন। বেশ কিছুদিন আগে থেকেই বুঝতে পারছিলেন তার মায়ের মন খারাপ। মায়ের বক্তব্য নিয়ে মায়ের ভক্তদের উদ্দেশ করে এ সময় ফারদিন বলেন, ‘চিত্রনায়িকা মৌসুমির পেছনে একটি মানুষ আছে। মানুষ রাগ করে অনেক সময় অনেক কিছু বলে। আম্মু আব্বুর ওপর রাগ করে কথাগুলো বলেছেন।’
আর আমি গত তিন চার মাস ধরেই বুঝে আসছি জায়েদ ক্ষতি করার চেষ্টা করছেন। ঘটনার দিন রাতে তিনি আমাকে পুলিশকে দিয়ে ফোনও দিয়েছে। তাকে ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই পছন্দ করেন না।’
ফারদিন বলেন, ‘তিনি (জায়েদ খান) থাপ্পড় খাওয়ার যোগ্য দেখেই থাপ্পড় খেয়েছেন। আর আমার বাবা পাগল না। বুঝেই সেসব করেছেন। মায়ের দুর্বলতার সুযোগ নিয়েছেন তিনি। তাকে প্রপারলি শাস্তি দিয়েছেন আব্বা।’

সবশেষে ফারদিন বলেন, ‘মা বলেছেন বাবার সঙ্গে কিছুটা রাগারাগি হয়েছে। আমার দর্শক ভক্ত, শুভাকাঙ্ক্ষী যারা একটু কষ্ট পাচ্ছেন, আমি একটু সুস্থ হলেই আবার অডিও বার্তা হোক, ভিডিও বার্তা হোক, যেভাবেই হোক আমি মনের কথা জানাব। আর বাবা–মায়ের মধ্য কিছুটা মনোমালিন্য হয়েছে, এর মানে এই নয়, সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়ে যাবে। তেমন কিছু না।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *