ঠান্ডায় সর্দি-জ্বরে কাঁপছে মানুষ

দেশে এক দিনে করোনাভাইরাস শনাক্তের হার আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। বাড়ছে নতুন ধরন ওমিক্রনের সংক্রমণ। এ পরিস্থিতিতে সারাদেশের অনেক ঘরই যেন জ্বর-সর্দিতে ‘হাসপাতালে’ পরিণত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিয়মিত করোনা আক্রান্তের যে সংখ্যা জানাচ্ছে, বাস্তব পরিস্থিতি তার চেয়েও বেশি ভয়াবহ। করোনা পরীক্ষায় মানুষের অনাগ্রহ এবং সংক্রমিতদের কোনো ব্যবস্থাপনায় না রাখাটা লাগামহীন সংক্রমণের কারণ হিসেবে দায়ী করছেন তারা।
করোনার চেয়েছে এখন স্বাভাবিক জরে কাঁপছে চাঁদপুরের প্রতিটি ঘর। প্রতিটি ঘরে এখন কোন না কোন সদস্য জ্বরে ভূগতে দেখা যায়। শিশু বৃদ্ধসহ সব বয়সি মানুষই আক্রান্ত হচ্ছে স্বাভাবিক জ্বর সর্দিতে।

নতুন বছরের শুরু থেকেই এ হাসপাতালে জ্বর-সর্দিসহ করোনা উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের ডাক্তার বলেন, সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন অসংখ্য রোগী হাসপাতালে আসছেন। তাদের মধ্য থেকে কোভিড পরীক্ষায় অনেকেরই পজিটিভ আসছে। কিন্তু জটিলতা কম থাকায় হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা খুবই কম। বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৪ জন করোনায় আক্রান্ত রোগী ভর্তি আছেন। তাদের মধ্যে পাঁচজন নতুন, বাকিরা আগে থেকেই ভর্তি ছিলেন।

প্রতিদিনই আমাদের হাসপাতালের আউটডোর রোগীতে ঠাসা থাকে। সংখ্যায় যদি বলি, প্রতিদিন এক থেকে দেড়শ রোগী আসেন সর্দি-জ্বর নিয়ে। তাদের অনেকেই করোনা পরীক্ষা করাতে চান না। যারা পরীক্ষা করান, তাদের মধ্যে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৪৫ জনের মতো করোনা পজিটিভ আসে। প্রতিদিনই আমাদের হাসপাতালের আউটডোর রোগীতে ঠাসা থাকে। সংখ্যায় যদি বলি, প্রতিদিন এক থেকে দেড়শ রোগী আসেন সর্দি-জ্বর নিয়ে। তাদের অনেকেই করোনা পরীক্ষা করাতে চান না। যারা পরীক্ষা করান, তাদের মধ্যে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৪৫ জনের মতো করোনা পজিটিভ আসে।

‘একজন রোগীর যদি শুধু সর্দি-জ্বর বা কাশি থাকে, তাহলে ভয় কম। আবার যদি তাদের কো-মরবিড কন্ডিশন না থাকে, তাহলেও ভয় কম। যদি মাত্রাতিরিক্ত জ্বর, গলাব্যথা বা শ্বাসকষ্ট থাকে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। প্রয়োজনে হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে। অন্যথায়, বাসায় থেকে টেলিমেডিসিন সেবা নিতে হবে।’

সতর্কতার পরামর্শ দিয়ে এ চিকিৎসক বলেন, সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। বাসায় থাকলেও আইসোলেটেড থাকতে হবে। বাইরে একেবারে ঘোরাফেরা করা যাবে না। আশা করি, আক্রান্তরা চার-পাঁচ দিনের মধ্যেই সুস্থ হয়ে যাবেন। তবে শ্বাসকষ্ট বা অন্য কোনো সমস্যা হলেই হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে।

ওমিক্রনের স্ট্রেইন সম্পর্কে আমরা এখনও পুরোপুরি পরিষ্কার নই। এটি মৃত্যুর কত বড় কারণ, তা এখনও বোঝা যাচ্ছে না। তবে আমরা দেখছি, ওমিক্রনে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তির হার এখনও কম। রোগীরা ঘরে বসেই চিকিৎসা নিচ্ছেন।
করোনার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১৭ লাখ ৭৩ হাজার ১৪৯ জন। মারা গেছেন ২৮ হাজার ৩২৯ জন / করোনা শনাক্তে রেকর্ড দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার ইতোমধ্যে রেকর্ড ছাড়িয়েছে। ৩০ জানুয়ারি দেশে করোনা সংক্রমণের হার দাঁড়ায় ৩৩ দশমিক ৩৭ শতাংশে। এর আগে দেশে সর্বোচ্চ শনাক্তের হার দেখা যায় ২০২০ সালের ১২ জুলাই। সেদিন দেশে আট হাজার ৬৮টি নমুনা পরীক্ষা করে দুই হাজার ৬৬৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার ছিল ৩৩ দশমিক ০৪৪ শতাংশ। ২০২১ সালের ২৮ জুলাই এক দিনে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ২৩০ জনের করোনা শনাক্ত হয়।

সবশেষ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, করোনাভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে করোনায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৩২৯ জনে। একই সময়ে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১০ হাজার ৩৭৮ জনের। এখন পর্যন্ত মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখ ৭৩ হাজার ১৪৯ জনে। শনাক্তের হার ৩১ দশমিক ১০ শতাংশ।
২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম তিনজনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। গেল বছরের ৫ ও ১০ আগস্ট দুদিন সর্বাধিক ২৬৪ জন করে মারা যান। তবে চাঁদপুরে সনাক্তের হার বেড়েই চলেছে। সর্দি জ্বর নিয়ে অনেকেই আসছে হাসপাতালে।

স্টাফ রিপোর্টার

Leave a Reply

Your email address will not be published.