ডাকাতিয়ায় ট্রলার-বাল্কহেড সংঘর্ষে ৫ শ্রমিক নিহত

আশিক বিন রহিমচাঁদপুরে ডাকাতিয়া নদীতে বালুবাহী বাল্কহেডের ধাক্কায় মাটি বোঝাই ট্রলারের ৫ শ্রমিক নিহত হয়েছে। ৩১ জানুয়ারী সোমবার ভোরে চাঁদপুর সদর উপজেলার মমিনপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। তবে ভাগ্যক্রমে ১১ শ্রমিকের মধ্যে ৬ জন প্রাণে বেঁচে যান। খবর পেয়ে, চাঁদপুর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা চালায়।
নিহতরা হলেন, আউয়াল মাঝি (৫৫) মোবারক হেসেন ( ৩৫), নাছির হোসেন (৩২), আলামিন (৩৫) ও কালা মিয়া (৩৩)। নিহতদের সকলের বাড়ি কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলায়। নিহতরা চাঁদপুরে স্থানীয় ব্রিকফিল্ডগুলোতে মাটি কাটার শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিল।
এদিকে এই ঘটনায় ঘাকত বাল্কহেডের ৪ শ্রমিককে আটক করেছে চাঁদপুর নৌ-থানা পুলিশ। সোমবার বেলা ১২টার দিকে তাদের আটক করা হয়।আটককৃতরা হলেন- মো. জাবেদ, আবুল বাশার, মো. ইউনুস ও দিদার।
দুর্ঘটনায় প্রাণে বেঁচে যাওয়া ট্রলারে শ্রমিক ফরিদ হোসেন জানান, আমরা মাটিভর্তি ট্রলার নিয়ে আমাদের সাইট দিয়েই যাচ্ছিলাম। মমিনপুর এলাকায় পার হবার সময় কুয়াশায় ককারণে উল্টো দিক থেকে আসা এমবি ইকবাল হোসেন-১ নামে একটি বালুবাহী বাল্কহেড আমাদের ট্রলারকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে আমাদের ট্রলারটি পানিতে ডুবে যায় এবং ট্রলারের থাকা আমাদের ১১ জন যাত্রীর মধ্যে ৫জন নিহত হয়।
চাঁদপুর সদর নৌ-থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মুজাহিদ ইসলাম এই ঘটনা নিশ্চিত করে জানান, বালুবাহী বাল্কহেডের ধাক্কায় ৫ জন শ্রমিক নিহত হওয়ার খবর পেয়েছি। বর্তমানে সেখানে নৌ-পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে।
চাঁদপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক বলেন, ‘বালুবাহী বাল্কহেড হাজীগঞ্জ থেকে চাঁদপুরে আসছিল। ঘন কুয়াশার কারণে চাঁদপুরের ডাকাতিয়া নদীর মমিনপুর এলাকায় মাটিবাহী ট্রলারের সঙ্গে ওই বাল্কহেডের সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনার পর বাল্কহেড ও ট্রলারটি ডুবে যায়। এতে নদীতে পড়ে যান ১১ শ্রমিক। পরে অন্যরা সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও পাঁচ শ্রমিক নিহত হন।’
চাঁদপুর নৌ পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘আমরা বালুবাহী বাল্কহেডটি আটক করেছি। বাল্কহেডের সুকানিসহ চার জনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলা করা হবে। এ ছাড়া তদন্তের জন্য তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হবে।
স্থানীরা জানান, গভীর রাতে এসব বাল্কহেড নদীপথে বেপরোয়াভাবে চলাফেরা করে। এতে অনেক সময় নদীতে স্থানীয় জেলেরা দুর্ঘটনার শিকার হন। অনেক সময় নদীতে ছোট ছোট নৌকা দিয়ে মাছ ধরার সময় ওইসব বাল্কহেড তাদের নৌকার ওপর উঠে যায় বলেও দাবি করেন তারা।
এ বিষয়ে স্থানীয় ৮নং বাঘাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন গাজী বিল্লাল জানান, নৌপথের দুর্ঘটনা রোধে প্রশাসনের আরো কঠোর হওয়া প্রয়োজন। ঘন কুয়াশায় বাল্কহেড চলাচলের কারণে ৫টি তাজা প্রাণ চলে গেলো। আমি যতটুকু জানি এসব বাক্লহেড রাতের বেলা বা ঘন কুয়াশায় চলাচলের অনুমতি নেই। তারপরও তারা কিভাবে চলে তা জানি না। তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের আরো কঠোর নজরদারির প্রয়োজন।
বিআইডব্লিউটিএর ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মো. রেজাউল করিম জানান, নৌপথে চলাচলকারী বেশিরভাগ বাল্কহেড নির্ধারিত কোনো গ্রেডের মাস্টার বা ড্রাইভার ছাড়াই চলাচল করছে। রাতে এবং ঘন কুয়াশায় যাতে তারা চলাচল না করে সে বিষয়ে নৌপুলিশ, জেলা প্রশাসন ও কোস্টগার্ডের নিকট চিঠি ইস্যু করেছি। কিন্তু তারপরও কিছু অসাধু বাল্কহেড ব্যবসায়ী তাদের এমন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে আর এতেই এসব দুর্ঘটনা ঘটছে।
নৌ পুলিশের এসপি মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জানান, নৌপথের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছে নৌ-পুলিশ। তবে তার মধ্যেও কিছু কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এমন কার্যক্রম চালাচ্ছেন। যার কারণে সংগঠিত হচ্ছে এমন দুর্ঘটনা।
তিনি জানান, এই দুর্ঘটনায় ইতোমধ্যে বালুবাহী বাল্কহেড জব্দ করেছে পুলিশ। এছাড়াও বাল্কহেডের গ্রিজার ম্যান ইউনুস মিয়া ও সুকানীসহ মোট চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে হবে। তাহলেই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.