লাইভ শেষ হওয়ার ঘণ্টাখানেকের মধ্যে পুলিশ প্রশাসন থেকে যোগাযোগ করা হয়: তাশরীফ খান

এক দিন আগে ফেসবুক লাইভে এসে সিলেটে ত্রাণ দিতে গিয়ে বিরূপ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন গায়ক তাশরীফ খান। আজ শুক্রবার দুপুরে জানালেন, গতকাল রাতে স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে যে জটিলতা সৃষ্ট হয়েছিল, সেটার আপাতত অবসান হয়েছে। এখন স্থানীয় পুলিশের কাছ থেকে আন্তরিক সহযোগিতা পাচ্ছেন। পুরো বিষয়টি নিয়ে সিলেট পুলিশ প্রশাসন এখন বেশ আন্তরিক বলে জানালেন তাশরীফ।

প্রথম আলোকে তাশরীফ বললেন, ‘গতকাল আমার ফেসবুক লাইভ শেষ হওয়ার ঘণ্টাখানেকের মধ্যে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়। সিলেট বিমানবন্দর থানার ওসি সাহেব জানিয়েছেন, তাঁরা আমার ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করবেন। তিনি এ-ও জানিয়েছেন, আমাদের ত্রাণ কার্যক্রমের বিষয়টি তিনিও অবগত আছেন।’
তাশরীফের সঙ্গে যখন শুক্রবার দুপুরে কথা হচ্ছিল, তখন তিনি সিলেটের বিয়ানীবাজার এলাকায় স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে নিয়ে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চালিয়ে নিচ্ছিলেন। তিনি বললেন, ‘শহরের দিকে পানি কমতে শুরু করলেও, সিলেটের জকিগঞ্জ, কানাইঘাটসহ নানা জায়গায় এখনো অনেক পানি। এদিককার মানুষের জন্য ত্রাণসহায়তা কম আসছে, তাই আমরা এখন এদিকে গুরুত্ব দিচ্ছি। আগামী কয়েক দিন এদিককার বন্যার্ত মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করব।’

তাশরীফ আরও বলেন, ‘সিলেটের এয়ারপোর্ট ও কোতোয়ালি থানার টহল গাড়ি একটু পরপর আমাদের খোঁজখবর নিচ্ছে। আমাদের ত্রাণের নিরাপত্তা দিচ্ছে। সেদিন যে পুলিশ সদস্য আমাকে ধমক দিয়েছেন, পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁকে খুঁজে বের করে বিষয়টি জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলেও আমাকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।’

লাইভ শেষ হওয়ার ঘণ্টাখানেকের মধ্যে পুলিশ প্রশাসন থেকে যোগাযোগ করা হয়, তাশরীফ খান

গতকালের দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে তাশরীফ বলেছিলেন, ‘সারা দিন কাজ করার পর গতকাল আড়াইটার দিকে ঘটনাটি। আমি জায়গাটার নাম বলব না। সিলেটের মধ্যেই। আমার গলাব্যথা ছিল। সবাই লাল চা খাচ্ছিলাম। গলা বসে গিয়েছিল। সেখানে পুলিশের একটি গাড়ি এল। আমরা বসে আছি। গাড়ির ড্রাইভারের পেছনের জায়গাটাকে কী বলে জানি না। সেখানে একজন অফিসার বসে ছিলেন। তিনি এসে ধমকের সুরে বললেন, “আপনারা এখানে কী করছেন?” আমি বললাম, “স্যার আমরা ঢাকা থেকে এখানে ত্রাণ দিতে এসেছি। আপনাদের সিলেটের জন্যই কাজ করছি। আমি একটু চা খেতে এসেছি। খেয়েই চলে যাব।” তিনি সরাসরি আমাকে ধমক দিয়েছেন। বললেন, “চলে যান এখান থেকে।” তখন আমার খুব কষ্ট লাগছে, আমাদের কেন ধমক দেওয়া হবে। আমি তাশরীফ খান বাদ দিলাম, সব বাদ দিলাম। আমি একজন নাগরিক, আমাকে কেন ধমক দেওয়া হবে? আমি বলেছি, “স্যার, একজন নাগরিককে এভাবে ধমক দেবেন না। আমরা সিলেটের জন্য কাজ করছি।

আমরা এখানে চুরিচামারি করতে আসি নাই। এটা করবেন না।” আমি তাঁকে অনুরোধ করেছি, “স্যার, আমি চায়ের কাপটা শেষ করে চলে যাব, দুইটা মিনিট সময় দেন।” তখন আমাকে আঙুল তুলে বলা হয়েছে, “এহন ভালো কইরা বলতেছি, এরপরে খারাপ করে বলব। এক্ষুনি চলে যান।”’

মানুষকে সহায়তা করতে এসে এমন ঘটনায় মর্মাহত হয়েছেন তাশরীফ ও তাঁর টিম। তিনি মনে করেন, ভালো একটি কাজ করতে এসে এমন দুর্ব্যবহার কাজের মনমানসিকতা নষ্ট করে দেয়। প্রশাসন তাঁদের সহায়তা করছে। কারণ, মানুষের জন্য তাঁরাও রাতদিন কাজ করে যাচ্ছেন, তাঁদের খাওয়ার ঠিক নেই। ঘুমানোর ঠিক নেই।

সেই ঘটনা প্রসঙ্গে তাশরীফ আরও বলেছিলেন, ‘আমি তখন চায়ের কাপ রেখে চলে যাই। কোনো কথাও বলিনি। কাউকে ব্যবহার শেখাতেও আসিনি। আমি এখানে ফাইট করতেও আসিনি। আমি কারও কাছে বিচারও দিচ্ছি না। আমি শেয়ার করছি, স্যার, আপনি যদি এই লাইভ দেখে থাকেন, আমার হাম্বল রিকোয়েস্ট। আমার টিমের পক্ষ থেকে বলছি, দয়া করে এই সময়ে পারলে আমাদের একটু পাশে দাঁড়ান। পারলে আমাদের একটু সাহস দিয়েন। আমাদের আপনাদের সাহসটা খুব দরকার। আপনারা সাহস দিলে আমাদের কাঁধটা আরও ভারী হয়ে যায়। আর আমাদের সহায়তা দেওয়ার মতো সেই যোগ্যতাটা হয়েছে।’ সেখানকার কাউকে তিনি চেনেন না। তবে সিসি ক্যামেরা ছিল বলে লাইভে জানান তাশরীফ। এই সময় তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের যদি ফান্ডিং আসে আর প্রশাসনের ফুল সাপোর্ট পাই, প্লেসের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়, আমাদের যদি পর্যাপ্ত সিকিউরিটি দেওয়া হয়, ট্রান্সপোর্ট দেওয়া হয়, তাহলে সিলেটের যতগুলো আশ্রয়কেন্দ্র আছে, সিলেট, সুনামগঞ্জ, সারা দেশে বন্যা হচ্ছে, আমরা দায়িত্ব নিয়ে পুরো দেশের বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারব। এটা আমি স্ট্রংলি বিশ্বাস করি, পারব। আমাদের দায়িত্ব দিয়ে দেখতে পারেন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *