দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন করতে পেরে আমরা আনন্দিত : হাইকমিশনার

 

 

এস আর শাহ আলম

চাঁদপুর সফরে এসে দ্বিতীয় দিনেও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে চাঁদপুর পৌরসভার চলমান বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাই কমিশনার রবার্ট চ্যাটারটন ডিকসন।

গতকাল ২৫ আগস্ট বৃহস্পতিবার সকালে শহরের পুরানবাজার ১ নং ওয়ার্ড মেঘনা সিডিসি ক্লাস্টার এর আয়োজনে স্থানীয় বউবাজার ও ম্যারকাটিজ রোড দক্ষিণ এলাকায় ইউএনডিপি’র খওটচঈ প্রকল্পের বাস্তবায়িত

কাজগুলো ঘুরে দেখেন তিনি। এরপর ইউএনডিপি’র সিডিসি প্রকল্পের সদস্যদের সাথে মতবিনিময় সভায় মিলিত হন ব্রিটিশ হাইকমিশনার।

ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন,”এসব প্রকল্পের মাধ্যমে মানুষজনকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি, পড়াশোনা, আত্নকর্মসংস্থান বিষয়ে সচেতন করতে পেরে আমরা বেশ আনন্দিত। যা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।”

পাশাপাশি চলমান উন্নয়ন কাজ ছাড়াও বাংলাদেশের সাথে আরো বড় ধরনের কাজ করবার ইচ্ছা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্য সরকার বস্তির দরিদ্র মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সমস্যা সমাধানে আরও আন্তরিকতার সাথে কাজ করার উপর গুরুত্বারোপ করেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার।

মতবিনিময় অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে পৌর মেয়র মোঃ জিল্লুর রহমান তাঁর বক্তব্যে পৌর এলাকার উন্নয়ন এবং মানুষদের সাবলম্বী করতে বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য সরকারের সহযোগিতা চান।

অনুষ্ঠানে ইউএনডিপি বাংলাদেশের উপ আবাসিক প্রতিনিধি ভ্যান নগ্তয়েন, স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের যুগ্ম সচিব ও জাতীয় প্রকল্প পরিচালক মোঃ মাসুম পাটওয়ারী, এফসিডিও এর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট এডভাইজার আনোয়ারুল হকসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন এসময় উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সচিব-স্থানীয় সরকার বিভাগ ও জাতীয় প্রকল্প পরিচালক- প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্প মোঃ মাসুম পাটোয়ারী এবং ইউএনডিপি উপ-

আবাসিক প্রতিনিধি ভ্যান নগুয়েন।

চাঁদপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী এইচ এম শামসুদ্দোহা, পৌর সচিব আবুল কালাম ভুইয়া, প্যানেল মেয়র মোহাম্মদ আলী মাঝি, ২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল মালেক শেখ, ১,২ ও ৩ নং ওয়ার্ড মহিলা কাউন্সিলর

ফেরদৌসি আক্তারসহ আরো অনেকে।

উল্লেখ্য, চাঁদপুর পৌরসভা এবং ইউএনডিপির যৌথ পার্টনারশীপের মাধ্যমে দরিদ্র মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সমস্যা সমাধানে এই প্রকল্পের বিভিন্ন অনুদান ও অবকাঠামো উন্নয়নমূলক কাজ চাঁদপুর শহরের টেকসই

উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে।

রোহিঙ্গা ইস্যু সমাধানে মিয়ানমার সরকারের উপর এক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের চাপ প্রয়োগ করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন ব্রিটিশ হাই কমিশনার রবার্ট চ্যাটারটন ডিকসন।

গতকাল ২৫ আগস্ট বৃহস্পতিবার দুপুরে চাঁদপুর পৌরসভায় শহুরে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন (টঘউচ) প্রকল্পের দুই দিনব্যাপী পরিদর্শন শেষে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, আজ রোহিঙ্গা ট্রাজেডির পঞ্চম বর্ষপূর্তি। রোহিঙ্গারা অনেক ভাগ্যবান। যখন লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছিল তখন এদেশের সরকারের কাছ থেকে অভূতপূর্ণ সহযোগিতা পেয়েছিল। রোহিঙ্গাদের

রাখাইনে ফেরত পাঠাতে মিয়ানমার সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এটি খুব সহজ নয় যে এত তাড়াতাড়ি বিষয়টি সমাধান হবে। এজন্য একত্রে বিভিন্ন দেশের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা যদি চায়, তাদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে দিতে চাই। আমরা যখনই তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবো তখনই তাদেরকে দেশে ফিরে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। যদি তারা এদেশেই

থাকতে চায় তাহলে স্বেচ্ছাসেবীর মাধ্যমে ক্যাম্পে অবশ্যই তাদের স্বাভাবিক জীবনমান ও রোহিঙ্গা শিশুদের লেখাপড়া সহ সার্বিক বিষয় নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

 

এর আগে দুই দিনব্যাপী প্রকল্প পরিদর্শনে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়কৃত কাজ মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শন করেন তিনি।
এসময় চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র মো. জিল্লুর রহমান জুয়েল, ইউএনডিপির ডেপুটি আবাসিক প্রতিনিধি বেন গুয়েন, এলজিডির যুগ্ম সচিব মোঃ মাসুম পাটওয়ারী উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *