দাদুভাই স্মৃতি পদক পাচ্ছেন চাঁদপুরের ২ কৃতিসন্তানসহ তিন বিশিষ্ট জন

আশিক বিন রহিম শিল্প-সাহিত্যের অনন্য ভূমি চাঁদপুরের দুইজন চাঁদমুখসহ দাদুভাই স্মৃতি পদক পাচ্ছেন দেশের তিন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। তারা হলেন সাংবাদিকতায় সাইফুল আলম, ছড়া সাহিত্যে ফারুক হোসেন ও গান রচনায় মো. মঞ্জুর উল আলম চৌধুরী। এ মাসেই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই পদক হস্তান্তর করা হবে।
জাতীয় শিশু কিশোর ও যুবকল্যাণ সংগঠন চাঁদের হাটের প্রতিষ্ঠাতা বিশিষ্ট সাংবাদিক, ছড়াকার, গীতিকার ও নাট্যকার রফিকুল হক দাদুভাইয়ের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে চাঁদেরহাট কেন্দ্রীয় পরিষদ প্রতি বছর দাদুভাই স্মৃতি পদক প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
দাদুভাই যেসব মাধ্যমে সাফল্যের সঙ্গে কাজ করেছেন সেসব মাধ্যমের বিভিন্ন ব্যক্তিত্বকে প্রতি বছর জানুয়ারিতে দাদুভাইয়ের জন্মদিনে এই পদক প্রদানের মাধ্যমে সম্মানিত করার জন্যই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। জুরি বোর্ড প্রতি বছর দেশের একজন গীতিকার, সংগঠক, সাংবাদিক, নাট্যকার ও ছড়াকারকে পদক প্রদানের জন্য নির্বাচিত করবেন।
এবছর সাংবাদিকতায় এই পদক পাওয়া চাঁদপুরের কৃতি সন্তান সাইফুল আলম দেশবরেণ্য একজন সাংবাদিক ও শিশুসাহিত্যিক। তিনি বাংলাদেশের সর্বাধিক জনপ্রিয় পত্রিকা ‘দৈনিক যুগান্তর’-এর সম্পাদক। জাতীয় শিশু-কিশোর সংগঠন ‘চাঁদের হাট’-এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক হিসেবে এক যুগ (১৯৭৯-১৯৯০) দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি শিশু কল্যাণ পরিষদের ব্যবস্থাপনা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ও সদস্য হিসেবে কয়েক দফায় দায়িত্ব পালন করেন। সাংবাদিকদের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠান জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ছিলেন। তিনি ১৯৫৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। বাবা মোহাম্মদ আলী আরশাদ মিয়া, মা বেগম শামসুন নাহার। ১৯৭৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকা অবস্থায় সাপ্তাহিক ‘কিশোর বাংলা’য় সহসম্পাদক হিসেবে সাংবাদিকতা জীবন শুরু করেন।
চাঁদপুরের আরেক কৃতিসন্তান ফারুক হোসেন একাধারে একজন জনপ্রিয় ছড়াকার, শিশু সাহিত্যিক ও গল্পকার। পাশাপাশি ভ্রমণকাহিনী লিখেও দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছেন। তিনি ১৯৬১ সালের ১ জানুয়ারি চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার প্রতাপপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা মোঃ মোজাম্মেল হোসেন, মা ফিরোজা বেগম। বিসিএস ১৯৮৫ ব্যাচে সহকারী সচিব হিসেবে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস এ যোগদান। এরপর
বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে কাজ করেন। মাঠ পর্যায়েও উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৯ এ তিনি সচিব পদে পদোন্নতি লাভ করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রথম নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২০ সালের ফ্রেব্রুযারীতে তিনি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি বিশ্ব ব্যাংকের পরিসি প্রকিউরমেন্ট কনসালটেন্ট হিসেবে কর্মরত আছেন।
এযাবত তার তার প্রকাশিত গ্রন্থসংখ্যা অর্ধশতাধিক। সাহিত্যকর্মে স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য পুরস্কার, চন্দ্রাবতী একাডেমি স্বর্ণপদক, মাইকেল মধুসুদন একাডেমি পুরস্কার, সাহিত্য মঞ্চ কর্তৃক প্রবর্তিত মোহাম্মদ নাসীরউদ্দীন সাহিত্য পুরস্কার, কবি আবু জাফর ওবায়দুলাহ স্মৃতি পুরস্কার, অগ্রণী ব্যাংক –শিশু একাডেমী শিশু সাহিত্য পুরস্কার, সিকান্দার আবু জাফর পুরস্কার, চ্যানেল আই –সিটি ব্যাংক-আনন্দ আলো শিশু সাহিত্য পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মান।
মঞ্জুর উল আলম চৌধুরী ১৯৬৪ সালে রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার রানীপুকুর ইউনিয়নের তাজনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বুয়েট থেকে যন্ত্র প্রকৌশলে স্নাতক। সিভিল সার্ভিসে ১০ম বিসিএস এর মাধ্যমে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস এ যোগদান করেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচাক (আরএস) দায়িত্বরত রয়েছেন। মঞ্জুর উল আলম চৌধুরী একজন গীতিকার হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠ। গান লেখা শুরু ২০০৫ সাল থেকে। তার রচিত গানের সংখ্যা প্রায় শতাধিক। ওপার বাংলার ইন্দোবাংলা কালচারাল সোসাইটি ২০১৭ সালে তাকে শ্রেষ্ঠ গীতিকারের পুরস্কার প্রদান করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.