দুই পাড়ের মানুষের জন্য এখনো নৌকাই ভরসা

মো. আনিছুর রহমান সুজন

চোখের সামনে দৃশ্যমান সেতু নদীর উপর দাঁড়িয়ে। কিন্তু সেতু দিয়ে পারপার তো দুরের কথা এখন পর্যন্ত হেটে পার হওয়াও দুষ্কর। গত দুই/তিন বছর ধরে দুই পাড়ের হাজার হাজার মানুষের দু:খ হ্রাসের চেয়ে বেড়েছে। কারণ সেতুর দুই পাশের সংযোগ অংশের কাজ এখনো শেষ হয়নি। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আশার বাণী শোনালেও এলাকার লোকজনের কাছে তা শুধুই ভ্রম।
ডাকাতিয়া নদীর উপর নির্মানাধীন চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ ও চাঁদপুর সদর উপজেলার সংযোগকারী ভাষাবীর এম এ ওয়াদুদ সেতুর কথা এটি। ফলে দুই পাড়ের মানুষের চলাচলের জন্য ভরসা এখনো নৌকাই।
জানা গেছে, এককালের প্রমত্তা ডাকাতিয়া নদীর উপর ২০১৭ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ফরিদগঞ্জ উপজেলার বালিথুবা পুর্ব ইউনিয়নের চর রনবলিয়া গ্রাম ও চাঁদপুর সদর উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের ছোটসুন্দর গ্রামের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত বগার গুদাড়ায় এলাকায় দিয়ে ২৭৭ মিটার দীর্ঘ ভাষাবীর এম এম ওয়াদুদ সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্যে দিয়ে সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়।
৩৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ঢাকার প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার নবারণ টেড্রার্স লি.সেতুটির মূলকাজ নদীর উপরের কাজটি সম্পন্ন করে। পরে ২০২০-২১ অর্থবছরে দ্বিতীয় ধাপের কাজের জন্য ২৮কোটি ৯৫ লক্ষ ৮২ হাজার ৮৫৪ টাকা ব্যয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান রিজভী কনস্ট্রাকশন ও ইউনুছ আল মামুন (জেবি) যৌথ ভাবে কাজ শুরু করে।
ফরিদগঞ্জ উপজেলার বালিথুবা পুর্ব ইউনিয়নের চররনবলিয়া গ্রামের নুর মোহাম্মদ (৬৫) জানান, নিজেদের জমি দিয়েছি এই সেতুর জন্য। সেতু হলে দুই পাড়ের মানুষের জন্য ভাল হবে এই ভেবে। কিন্তু বছরের পর বছর যাচ্ছে, সেতুর কাজ শেষ হয় না। মরার আগে দেখতে পারবো কিন না জানি না। চাঁদপুর সদর উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের ছোটসুন্দর গ্রামের বাসিন্দা মাধব দাস (৪৫) বলেন, সেতুর উপর দিয়ে আমরা চলাচল করবো জানি না।
সরেজমিন মঙ্গলবার সেতুর নির্মাণকাজ এলাকায় গেলে দেখা যায়, সেতুর ফরিদগঞ্জ উপজেলা অংশে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ৮/১০ জন শ্রমিক সেতুর ডায়াফাক্টের কাজ করছে। অপর পাড়ের পিয়ারের ক্যাপের কাজ শেষে একটি ডায়াফাক্টের কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাইট প্রকৌশলী নাঈমুর রহমান।
তিনি জানান, সেতুর সংযোগ অংশের জন্য দুই পাড়েই নির্মাণ কাজ চলছে। চাঁদপুর সদর অংশের কাজ অনেকখানি শেষ হয়েছে। এখন ফরিদগঞ্জ অংশের কাজ চলছে। আশা করছি আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে সেতুর সংযোগ অংশ ও সড়কের কাজ প্রায় শতভাগ শেষ হবে। প্রতিদিন রাতে দিনে গড়ে ৩০জন শ্রমিক কাজ করছে। গত দুই মাস ধরে কাজে গতি এসেছে বলে জানান।
চাঁদপুর এলজিইডি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইউনুস হোসেন বিশ্বাস জানিয়েছেন, ভাষাবীর এম এ ওয়াদুদ সেতুর দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ ডিসেম্বর’ ২০২১ সালে মেয়াদ শেষ হয়। পরবর্তীতে মেয়াদ বৃদ্ধি করে জুন’২৩ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর আগেই পুরোপুরি সম্পন্ন হওয়ার আশা করছি।
প্রসঙ্গত, চাঁদপুর-হাইমচর আসনের এমপি ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির পিতা ভাষাসৈনিক মরহুম এম.এ ওয়াদুদের নামানুসারে ব্রিজটির নামকরণ করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *