দেশে দু’দিনে প্রথম ডোজ নিলেন ১ কোটি ২৩ লাখ

আবদুল গনি চাঁদপুরে এ পর্যন্ত ৬৭ দশমিক ৩ ভাগ নর-নারীকে টিকা প্রয়োগ করা হয়েছে। জেলা-উপজেলায় জেলা-উপজেলায় গণ টিকার দিন প্রয়োগ ২ লাখ ৫ হাজার জন নর-নারীকে বা ১৮ বছর বয়সের ওপরে সকলকে এটি কার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। চাঁদপুরের লক্ষমাত্রা ছিল ৯১ হাজার ৮শ । অথচ ঐদিন ৩০১টি কেন্দ্রের এর মাধ্যমে ২ লাখ ৫ হাজার জনকে আওতায় আনা হয়েছে।
চাঁদপুর সিভিল সার্জন কার্যালযয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি দুপুরে মেডিকেল অফিসার ডা.ইছারুহুল্লাহ এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বেঁধে দেয়া একটি এলাকার মোট জনসংখ্যার ৭০ ভাগ টিকা প্রয়োগে আসলে বুঝা যাবে ঐ এলাকায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। সেক্ষেত্রে চাঁদপুরে মোট অর্জিত হয়েছে ৬৭ শতাংশ। আর ৬৫ হাজার মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারলেই চাঁদপুর জেলা ৭০ ভাগে পেীছে যাবে। আজও প্রথম প্রদান করা হচ্ছে ।’
স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের টিকা প্রয়োগে খুবই সন্কোষজনক পর্যায়ে চাঁদপুর জেলা বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জেলার বিশেষ বিশেষ এলাকা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কেন্দ্রে সোমবার টিকা প্রদান করা হয়েছে বলে ঐ মেডিকেল কর্মকর্তা জানান।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকারের বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইনে দু’দিনে রেকর্ড সংখ্যক মানুষ টিকা নিয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে,ক্যাম্পেইনে দেশে ১ কোটি ২৩ লাখ ৮ হাজার ৫শ জন মানুষ টিকার প্রথম ডোজের আওতায় এসেছে।
সোমবার ২৮ ফেব্রুয়ারি অধিদপ্তরের টিকাদান সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানা গেছে। এতে স্বাক্ষর করেছেন অধিদপ্তরের মেনেজমেন্ট ইনফরমেশন শাখার পরিচালক ও লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা.মিজানুর রহমান।
এতে বলা হয়েছে, তিন দিনের বিশেষ ক্যাম্পেইনের দ্বিতীয় দিনে রোববার ২৭ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে প্রায় ২৮ লাখ ডোজ (২৭ লাখ ৯৩ হাজার ১১৭ ডোজ) টিকা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে টিকার প্রথম ডোজ ১১ লাখ ৩৩ হাজার ৭৭৫, দ্বিতীয় ডোজ ৭ লাখ ৭৪ হাজার ৪৩৮ ও বুস্টার ডোজ নেন ৮৪ হাজার ৯০৪ জন।
এর আগের ক্যাম্পেইনের প্রথম দিনে ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রথম ডোজ টিকা নেন ১ কোটি ১১ লাখ ৭৪ হাজার ৭২৫ জন। দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ৮ লাখ ১৫ হাজার ৭৩ জন।
এছাড়া বুস্টার ডোজ নিয়েছেন আরও ৭৩ হাজার ৮৫৫ জন। সবমিলিয়ে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির প্রথম দিনেই রেকর্ড ১ কোটি ২০ লাখ ৬৩ হাজার ৬৫৩ ডোজ টিকা দেয়া হয়।
বিশেষ এ টিকা কর্মসূচিতে এত সংখ্যক মানুষকে টিকা দেওয়ায় বিশ্বে টিকাদানে রেকর্ড হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন টিকাদানে বিশ্বে দশম। ২৬ ফেব্রুয়ারি এক কোটি টিকা দেয়ার কর্মসূচি ছিল, স্বাস্থ্য বিভাগের সব পর্যায়ের লোকদের প্রচেষ্টায় এটি সফলভাবে করতে পেরেছি। এটি অনেক বড় অর্জন। এতে করে মোট জনগোষ্ঠীর ৭৩ শতাংশকে টিকার আওতায় আনা গেল।
এর আগে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি একদিনের জন্য বিশেষ এ কর্মসূচি চালু হলেও ওই দিন সারা দেশের লাখ লাখ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে টিকাকেন্দ্রে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকা নেন। মানুষের অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়ায় বিশেষ ক্যাম্পেইনের কার্যক্রমের মেয়াদ আরও দুই দিন বাড়িয়ে সোমবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত করা হয়।
দেশে গত বছর ২৭ জানুয়ারি সরকারি উদ্যোগে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করোনার টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়। ওই দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট উৎপাদিত অক্সফোর্ডের অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
পরে ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে গণটিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে দেশে অ্যাস্ট্রাজেনেকার, ফাইজার, সিনোফার্ম, মডার্না, সিনোভ্যাক ও জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকা দেয়া হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.