ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘দ্য আইসম্যান কমেথ’

হ্যারি হোপের পানশালায় নানা পেশার, নানা দেশের, নানা মানুষ কিছু অবাস্তব স্বপ্ন নিয়ে বেঁচে থাকে। সেই পানশালার সবাই নিজের জীবনের ব্যর্থতা থেকে বেরিয়ে পুনরায় নতুন করে জীবন শুরু করতে চায় আগামীকাল থেকে। কিন্তু তাদের সেই আগামীকাল আর আসে না। চার অঙ্কের নাটকটি শেষ হয় সেলসম্যান হিকি কর্তৃক স্ত্রী হত্যার আত্মস্বীকৃত উন্মোচন এবং পিতৃপরিচয় সংকটে ভোগা ডোনা প্যারিটের আত্মহত্যার মাধ্যমে।

‘দ্য আইসম্যান কমেথ’ নাটকের গল্প এটি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন থেকে থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ মঞ্চে নিয়ে আসছে মার্কিন নাট্যকার ইউজিন ও’নীল–এর লেখা এ নাটক।

আজ ১ থেকে ৪ জুলাই পর্যন্ত প্রতিদিন সন্ধ্যা সাতটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটমণ্ডল মিলনায়তনে মঞ্চস্থ হবে নাটকটি। বিভাগের তৃতীয় বর্ষ পঞ্চম সেমিস্টারের শিক্ষার্থীদের অভিনয়ে নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছে বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তানভীর নাহিদ খান।

নাটকে নৈরাজ্যবাদী নেতা ল্যারি ভিল চরিত্রে অভিনয় করেছে মহিউদ্দিন রনি, পানশালার মালিক হ্যারি হোপ চরিত্রে জাদিদ ইমতিয়াজ আহমেদ, সেলসম্যান হিকি চরিত্রে প্রাণকৃষ্ণ বণিক, বার টেন্ডার রকি চরিত্রে জয়া মারিয়া কস্তা ও বার সিঙ্গার চাক চরিত্রে ইফতি শাহরিয়ার রাইয়ান, হল্যান্ডের সাবেক জেনারেল ওয়েটজয়েন চরিত্রে মুজাহিদুল ইসলাম, ক্যাপ্টেন লুইস চরিত্রে রিফাত জাহান, লেফটেন্যান্ট ম্যাকগ্লোয়েন চরিত্রে তরিকুল সরদার, ডোনা প্যারিট চরিত্রে মৌমিতা সরকার, সাবেক হার্ভার্ড শিক্ষার্থী উইলি চরিত্রে তাহিয়া তাসনিম মীম, টুমোরো আন্দোলন নেতা জিমি টুমোরো চরিত্রে সালমান নূর,যৌনকর্মী চরিত্রে রিফাত করবী, দেবলীনা দৈবী ও রিজভী সুলতানা এবং মানসিক বিকারগ্রস্ত মদ্যপ হুগো চরিত্রে অভিনয় করছে মিরহাজুল শিবলী।

 ঢাকা-বিশ্ববিদ্যালয়ের-প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী-উপলক্ষে-‘দ্য-আইসম্যান-কমেথ

নাটকটির নেপথ্যে, মঞ্চ ও আলোক পরিকল্পনা এবং অভিনয় সৃজন রূপায়ণ করেছেন বিভাগের চেয়ারম্যান আশিকুর লিয়ন। তিনি বলেন, ‘থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ একাডেমিক আয়তনে নাটক বিষয়ে বহু অক্ষীয় জ্ঞান আহরণে গুরুত্ব দিয়ে দেশজ, প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের নাট্য পরিবেশনাবিষয়ক জ্ঞান চর্চা করে আসছে। তার ধারাবাহিকতায় পাঠ্যক্রমের অংশ হিসেবে পাশ্চাত্যের নাট্য পরিবেশনা উপস্থাপনের মাধ্যমে আমাদের এবারের আয়োজন।’ নাটকে দ্রব্য পরিকল্পনা করেছে বিভাগের শিক্ষক উম্মে সুমাইয়া মনি ও আহসান খান, সংগীত পরিকল্পনা করেছেন রুদ্র সাওজাল কাব্য, প্রক্ষেপণ করেছেন ওবায়দুর রহমান সোহান এবং আলোক প্রক্ষেপণ করেছেন শাহাবুদ্দিন মিয়া, পোস্টার ডিজাইন করেছেন দেবাশীষ কুমার দে।

নির্দেশক তানভীর নাহিদ খান বলেন, ‘বর্তমান সময়ে মহামারি, জলবায়ুর বিরূপ পরিস্থিতি, দুর্যোগের মাঝেও আগামীর স্বপ্ন দেখার মাঝেই মানুষ বেঁচে থাকার প্রেরণা পান। এ ক্ষেত্রে বলতে হয় সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতেও নাটকটি প্রাসঙ্গিক।’ নাটকের অভিনয়পদ্ধতির বিষয়ে নির্দেশক বলেন, বাস্তববাদী ধারার এই নাটকে নিবিড় অভিনয় প্রশিক্ষণের প্রতি মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে এবং সব ধরনের অভিনয় ত্রুটি বিলোপের অভিপ্রায় নাট্যানুশীলনে চর্চিত হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.