নকল ও ভেজাল বিরোধী কার্যক্রম বাড়াতে হবে

কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম জুয়েল আমরা অনেক সময় পথের মধ্যে অনেক ব্যবসায়ীর নামি-দামি কোম্পানির নামে সাবান, পারফিউম, বিভিন্ন ইলেকট্রনিকস দ্রব্য বিক্রি করতে দেখি। তাদের সামনে ক্রেতাদেরও ভিড় লক্ষণীয়। অনেকে এসব জিনিস নকল জেনেও কেউ কিছু বলেন না। ভেজাল ও নকলসামগ্রীর ফাঁদে সবচেয়ে বেশি পড়েন দেশের নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ। তাদের স্বাদ থাকলেও সাধ্য না থাকায় এসব জিনিস দেখে কিছু না বুঝেই কিনে ফেলেন। ফলে তারা ঠকেন বেশি।

অন্যদিকে দেশে এসব বিষয়ে অভিযোগ জানানোর জন্য ভোক্তা অধিকার সংস্থা থাকলেও বেশিরভাগ মানুষ জানেই না কীভাবে অভিযোগ করতে হয় এবং এর প্রতিকার কী! মাঝে মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নকল দ্রব্যসামগ্রীর কারখানা সিলগালা করতে দেখা গেলেও তাদের দণ্ড পর্যাপ্ত না হওয়ায় তারা কিছু জরিমানা দিয়ে আবার একই ব্যবসা করতে থাকে। বর্তমানে আরও একটি ভয়ঙ্কর বিষয় হচ্ছে, জীবন রক্ষাকারী ওষুধের মতো জিনিস নকল হচ্ছে। এসব ওষুধ মানুষ খেয়েও যাচ্ছে। এমন নকল ওষুধ যখন মানুষের দেহে কোনো কাজই করছে না কিংবা রোগ সারছে না, তখন অযথা মানুষ চিকিৎসক কিংবা ওই ওষুধের বদনাম করছে।

এমন দুর্বিষহ অবস্থা থেকে বাঁচাতে হলে প্রথমে আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে। আমাদের খবর নিতে হবে এসব ভেজাল ও নকলসামগ্রী কোথায় বিক্রি করা হয়। এর পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় তা জনগণের নজরে আনতে হবে। যেহেতু এসব ব্যবসার সঙ্গে অনেকেই জড়িয়ে থাকে, সেহেতু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একার পক্ষে তা পুরোপুরি বাজার থেকে বন্ধ করা সম্ভব নাও হতে পারে। তবে জনগণ সহায়তা করলে এটি রাতারাতি বন্ধ করা সম্ভব।

ভেজাল ও নকল দ্রব্যাদি বাজারজাতকরণের জন্য শাস্তির বিষয়টি বেশ ভালোভাবে চিন্তা করা উচিত। কারণ এসব বিষয়ের কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান না করলে এটির সব সময় পুনরাবৃত্তি ঘটতেই থাকবে। শুধু সামান্য অর্থদণ্ড দিয়ে তাদের ছেড়ে দিলে তারা আরও নকল ও ভেজালসামগ্রী বাজারে বিক্রি করে ওই দণ্ডিত অর্থ তুলতে চাইবে। এর চেয়ে নকল ও ভেজালসামগ্রী যেখানেই পাওয়া যাবে এবং সে যার কাছ থেকে নিয়েছে তাকে, প্রয়োজনবোধে সংঘবদ্ধ হলে পুরো দলকে তৎক্ষণাৎ কারাগারে পাঠানোর ব্যবস্থা করলে এ কাজে অনেকেই নিরুৎসাহিত হবে। এর বাইরে এসব নকল ও ভেজালসামগ্রী বাজারজাত রোধে বাজার মনিটারিং আরও জোরদার করা জরুরি।

বর্তমানে বাজারে যে হারে নকল ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে, এতে মানুষের বিবেকবোধ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এমন ওষুধে মানুষের জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন জড়িয়ে আছে। আমরা প্রত্যেকেই প্রত্যাশা করি, একটি সুখী ও নির্ভেজাল জীবনযাপন। আমরা সবাই অনেক পরিশ্রম করে জীবনের জন্য আয় করি শুধু টাকা দিয়ে পরিবার-পরিজনকে বাজার থেকে নির্ভেজাল ও খাঁটি জিনিসটি কিনে খাওয়ানোর জন্য। কিন্তু বাজারে গিয়ে আমরা প্রতিনিয়তই ঠকছি ভেজাল ও নকলসামগ্রীর ফাঁদে পড়ে। এমন ঠকবাজদের ধরিয়ে দেওয়া আমার-আপনার নৈতিক দায়িত্ব। আসুন, সবাই বাজার থেকে নকল ও ভেজালসামগ্রী ধরিয়ে দেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সাহায্য করি এবং নকল ও ভেজালসামগ্রী নিজ থেকেই বর্জন করি। এ বিষয়ে জনগণকে সজাগ করি। নিজে বাঁচি, জনগণকে বাঁচাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published.