নবজাতকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবার দায়িত্ব রাষ্ট্রের

কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম জুয়েল দরিদ্রতাও নবজাতকের ঝুঁকি বাড়ায়। সম্প্রতি এ রকম একটা খবর চোখে পড়েছে যে, হাসপাতালে সন্তান প্রসবের বিল পরিশোধ না করতে পারায় নবজাতককে বিক্রি করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সেই বিল সমন্বয় করেছে। অভিভাবক দরিদ্র হওয়ার কারণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এ জাতীয় ধৃষ্টতা ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ কঠির শাস্তির দাবি রাখে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের জন্য কী কী পদক্ষেপ নিয়েছেন তা জনসম্মুখে আসলে সাধারণের মনে নেতিবাচক আচরণ থেকে বিরত থাকার মনোবৃত্তি জন্মে।
অনেকে মনে করেন প্রযুক্তির কারণে বিয়েপূর্ব যৌন সম্পর্ক বেশি হচ্ছে। আবার এক্সট্রা ম্যারেটাইল রিলেশনও বেড়ে গেছে। এতেও নবজাতক ঝুঁকির মুখে পড়ছে। নিজেকে সুরক্ষিত করবার জন্য নারীকেই সচেতন হতে হবে বলে অনেকেই মত প্রকাশ করছেন। এমন মত ফেলে দেওয়া যায় না। কিন্তু এমন মত পোষণকারীরা ভুলে যান যে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা, শিল্প, সংস্কৃতি, সুস্থ ধর্মীয় বোধ, আইনি ও বিচার ব্যবস্থা ইত্যাদির উপাদান ও কৌশল উপযুক্ত নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন না হলে নাগরিকের সুস্থভাবে বেড়ে ওঠবার সম্ভাবনা থাকে না। এই নাগরিকের কাতারে নারীও আছেন, থাকেন। সুস্থতা শুধু শরীরের নয়, মনেরও। ভিন্ন সংস্কৃতি ও অপসংস্কৃতির প্রবেশ ও তার চর্চাও সমাজে শরীর ও মনের সুস্থতা নষ্ট করে। এটা বললে কতটা ভুল বলা হবে যে, দেশে নিজস্ব সংস্কৃতি অনেকটা পোশাকি হয়ে গেছে, আর বোধে ও আচরণে পাশ্চাত্য সংস্কৃতির প্রাদুর্ভাব রয়ে গেছে, যাচ্ছে। ব্যক্তিত্বের ভেতর এমন বৈপরীত্য অন্যত্র আঘাত করছে যার একটি অংশ হলো, নবজাতক।
পরিশেষে বলব, নবজাতকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। নবজাতক রাষ্ট্র বহির্ভূত কোনো প্রাণী নয়। কোন কৌশলে, কোন শৃঙ্খলায়, কোন শিক্ষায় রাষ্ট্র নবজাতকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, সেটা রাষ্ট্রযন্ত্রকে গুরুত্বসহকারে ভাবতে হবে। ডাস্টবিন, পরিত্যক্ত ব্যাগ নয়, একটা সুস্থ কোল হোক নবজাতকের আশ্রয় স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.