নয়াপল্টনে নিহত ১, গুলিবিদ্ধ বিএনপির ২০ নেতাকর্মী

স্টাফ রিপোর্টার ১০ ডিসেম্বরকে সামনে রেখে নয়া পল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পর অন্তত ছয় জন সিনিয়র নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতদের বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার দেখানোর প্রক্রিয়া চলছে।
গতকাল বুধবার (৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার আগে-পরে আটক হয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালাম, উত্তর কমিটির আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস ও কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন, অন্তত শতাধিক নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। আহত হয়েছেন দুই শতাধিক।
পুলিশের সূত্র জানিয়েছে, আজ রাতে বিএনপি’র সিনিয়র নেতাদের ডিবি কার্যালয়ে রাখা হবে। আর বাকি নেতাকর্মীদের পল্টন, মতিঝিল, শাহবাগ, কলাবাগান, ধানমন্ডি, শাহজাহানপুর থানায় রাখা হবে।
বুধবার (৭ ডিসেম্বর) বিকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বিএনপির সংঘর্ষের পর সন্ধ্যার দিকে বিএনপি কার্যালয়ে প্রবেশ করে ডিবি পুলিশের সদস্যরা। পরে তারা অভিযান শুরু করে। কার্যালয়ের ভেতরে অবস্থানরত শতাধিক নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশ ভ্যানে তুলে নেওয়া হয়।
রাজধানীর নয়াপল্টনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে বিএনপির অন্তত ২০ নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছে। গুলিবিদ্ধ নেতাকর্মীদের নিতে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দুটি অ্যাম্বুলেন্স আনা হয়েছে। আজ বুধবার পৌনে ৩টার দিক থেকে পুলিশের সঙ্গে বিএনপির এ সংঘর্ষ শুরু হয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার (অপারেশন) বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে যা যা ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন পুলিশ সে ব্যবস্থা নিয়েছে। কারণ আমাদের ফার্স্ট প্রায়োরিটি হচ্ছে জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য ও নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য যত ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার স্যারের নির্দেশে সে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং করে যাব।’
এ পর্যন্ত কতজনকে আটক করা হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, ‘এ মুহূর্তে আমরা অ্যাকশন মুডে আছি, অ্যাকশন মুডে থাকার সময় এ ধরনের কথা বলা যাবে না।’
সংঘর্ষে আহতরা হলেন—মকবুল, রনি, মনির, আনোয়ার ইকবাল, খোকন, আসাদুজ্জামান, বিপ্লব হাওলাদার, আরেফিন আহামেদ, মেহেদী হাসান, জহির। তাদেরকে ঢামেক হাসপাতালের জরুরিকে বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. বাচ্চু মিয়া বলেন, মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য রাখা হয়েছে।
বিএনপি কার্যালয়ে ডিবির অভিযান
রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অভিযান চালিয়েছে ডিবি পুলিশ। বুধবার (৭ ডিসেম্বর) বিকাল ৫টা ৬ মিনিটে ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (অপারেশন) বিপ্লব কুমার সরকার ডিবির মতিঝিল বিভাগের একটি ইউনিটসহ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয় প্রবেশ করেন। তারা কার্যালয়ের ভেতরে অভিযান চালাচ্ছেন।
বিএনপি কার্যালয়ের ভেতরে দরজা লাগিয়ে অবস্থান নেন যেসব নেতাকর্মীরা, তাদের দরজা ভেঙে গ্রেফতার করা হয়। অন্তত পাঁচ থেকে সাত জন নেতাকে বিএনপি কার্যালয়ের ভেতর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সন্ধ্যা নাগাদ পুরো পল্টন এলাকা পুলিশ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। ৫টার দিকে কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ আশপাশের এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ এবং গ্রেফতার অভিযান চালানো হচ্ছে।
এদিকে বিএনপিকর্মীরা জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসকে সন্ধ্যা ৫টার দিকে গ্রেফতার করে নিয়ে গেছে ডিবি পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বুধবার দুপুরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ সিনিয়র কয়েকজন নেতা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করছিলেন। অফিসের নিচে অবস্থান করছিলেন নেতাকর্মীরা। দুপুর আড়াইটার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ অবস্থান নেয় কার্যালয়ের সামনে। এরপর ৩টার দিকে সংঘর্ষ শুরু হয়।
বিকাল ৪টার দিকে মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার হায়াতুল ইসলাম খান উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, সকাল থেকে বিএনপি নেতাকর্মীরা সড়ক অবরোধ করে অবস্থান নিলে তাদের সরে যেতে বলা হয়। এজন্য তাদের সময় দেওয়া হলেও তারা সরে যায়নি। এসময় পুলিশ তাদের উঠিয়ে দিতে গেলে তারা অতর্কিতে পুলিশের ওপরে হামলা করে।
তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত পুলিশের কতজন সদস্য আহত হয়েছে এ বিষয়ে তথ্য নাই। এছাড়া কতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে তা বলা যাচ্ছে না। তাদের রাস্তা থেকে উঠিয়ে দিতে গেলে শক্তি প্রয়োগ করা হয়েছে। তখন তো এখানে সংঘর্ষ হবেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *