নানা সমস্যায় চলছে লেডী দেহলভী সপ্রাবি’র পাঠদান

আশিক বিন রহিম: নানা সমস্যার মধ্যদিয়ে চলছে চাঁদপুর শহরের লেডি দেহলভী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম। এ বিদ্যালয়টি দীর্ঘ দিনের পুরনো হলেও এর স্যানিটেশন ব্যবস্থা একেবারেই নাজুক। উন্নত টয়লেট ও উন্নত স্যানিটেশন এবং পানি নিস্কাশনের কোন ব্যবস্থা না থাকায় ছাত্র- ছাত্রীদের একই টয়লেটে প্রতিদিন যৌথভাবে ব্যবহার করতে হচ্ছে। ফলে এসব সমস্যা ও সংকটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে স্কুলের পাঠদান।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, তিনতলা বিশিষ্ট ভবনটিতে সর্বমোট ৭ টি শ্রেণী কক্ষ, ১ টি অফিস রুম এবং ১টি স্টোর রুম রয়েছে। তবে এরমধ্যে শিক্ষার্থীরা ব্যবহারের জন্য উন্নত মানের টয়লেট করা হয়নি। ভবনটির নিচ তলার পেছনের অংশে ছোট্ট একটি কক্ষে দুটি টয়লেট থাকলেও সেটিকে যৌথ ভাবে ব্যবহার করছেন ছেলে এবং মেয়ে শিক্ষার্থীরা।
ছাত্র-ছাত্রীরা হাত মুখ ধুয়ে পরিস্কার হওয়ার জন্যও নেই কোন স্যানিটেশন ব্যবস্থা। বিদ্যালয় ভবনের নিচের এক কোনে ছাদে থাকা ট্যাংকি থেকে পাইপ টেনে কয়েকটি কল স্থাপন করলেও কয়েকদিন ব্যবহারের পর ড্রেনেজ এবং পানি নিস্কাশনের কোন ব্যবস্থা না থাকায় সেগুলো এখন ব্যবহার করতে পারছেনা শিক্ষার্থীরা। তাই সেগুলোকে বন্ধ করে রাখা হয়েছে।
এছাড়াও একটি টিউবওয়েল বসানো হলেও সেটিও এখন অকেজো হয়ে পড়ে আছে। শুধু তাই নয়। খবর নিয়ে জানা গেছে, গ্রামের অন্যান্য প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে দপ্তরি, নৈশ প্রহরী, পিওন এবং ঝাড়ুদার থাকলেও এ বিদ্যালয়টিতে কোন পদেই কোন লোক নিয়োগ নেই। তাই শ্রেণীকক্ষ, অফিসকক্ষসহ বিদ্যালয়ের পরিবেশ সৌন্দর্য রাখতে পরিস্কার পরিছন্নতার কাজ নিয়মিত শিক্ষদেরকেই করতে হয়।
সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে এ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ব্যধিত অন্যান্য ৭ জন শিক্ষকই হচ্ছেন নারী। তাই অফিসের যেকোন কাগজ পত্রের কাজ বাহিরে থেকে করাতে হলে প্রধান শিক্ষককেই পিওনের কাজ সারতে হয়। বিদ্যালয়টিতে পিওন, দপ্তরি, এবং ঝাড়ুদার না থাকায় শুধু শিক্ষার্থী নয়, শিক্ষকদেরও নানা সমস্যায় পড়তে হয়।তাই অন্যান্য পদগুলো পূর্নতা না পেলেও এ বিদ্যালয়টিতে অন্তত একজন পিওন খুব জরুরী হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন অভিবাবকরা।
অভিভাবকরা জানান, স্কুলটি এলাকার শিক্ষার মান উন্নয়নে অনেক ভূমিকা পালন করেছে। ভালো পড়ালেখা হওয়াতে বিদ্যালয়ে ছেলে মেয়েদের ভর্তি করানো হয়। কিন্তু নানা সমস্যা থাকায় একদিকে যেমন ছাত্র-ছাত্রীদের কষ্ট হচ্ছে অন্যদিকে শিক্ষকরাও ভোগান্তির মধ্যে পড়ছেন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৩ সালে চাঁদপুর শহরের আলীম পাড়াস্থ লেডী দেহলভী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়। শুরু থেকেই শিক্ষকদের আন্তরিকতায় ভালোমানের পড়ালেখা হয়ে আসছে এ বিদ্যালয়ে। ২০০৪ সাল থেকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজী আবদুল হক যোগদান করার পর থেকে এসব সমস্যার মধ্য দিয়েই অনেক কষ্ট করে প্রায় ৪শ’ শিক্ষার্থীকে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করে চলেছেন।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজী আব্দুল হকের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, বিদ্যালয়ে অনেক সমস্যা রয়েছে। বিশেষ করে টয়লেট এবং স্যানিটেশন এবং পানি নিস্কাশনের কোন ব্যবস্থা নেই। উন্নতমানের টয়লেট না থাকায় একই টায়লেটে ছেলে মেয়েদরকে যৌথ ভাবে ব্যবহার করতে হচ্ছে।এসব সমস্যার মধ্যদিয়েও আমরা বহু কষ্ট করে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাচ্ছি। তিনি বলেন, উর্ধ্বতন কর্মকতারা যখনই আমাদের স্কুলে অডিটে আসেন, তখন এসব সমস্যা নিয়ে আমরা মুখিক ভাবে বেশ কয়েকবার অবগত করেছি। কিন্তু আজও কোন কাজ হয়নি। অভিবাবকরাও এসব সমস্যা নিয়ে আমার সাথে কথা বলেছেন। তাই প্রয়োজনে আমি আবারো এসব সমাধানের জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত ভাবে আবেদন করবো।
এ ব্যাপারে চাঁদপুর সদর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আব্দুল হাইয়ের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, এ বিদ্যালয়ের রাজস্ব পদে এসব পদ গুলো থাকলেও সেগুলো খালি রয়েছে। সেজন্য আউট সোসিংয়ের মাধ্যমেও দপ্তরি বা পিওন নিয়োগ দেয়া যাচ্ছেনা। রাজস্ব পদের সেই খালি পদ গুলিতে যদি সরকার লোক নিয়োগ দেয় তাহলে এসব পদে লোক নিয়োগ হবে। নয়তো আউট সোসিংয়ের মাধ্যমে লোক নিয়োগ দেয়ার কোন সুযোগ নেই।
আলাদাভাবে উন্নত টয়লেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের আলাদা ভাবে উন্নত টয়লেট করার জন্য সার্ভেয়ার ডিজাইনে পড়েনা। সেজন্য আলাদা টয়লেট করা হয়নি। তারপরেও আমি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী ইঞ্জিয়ারের সাথে আলাপ করে দেখবে সেখানে আলাদা কোন টয়লেট করা যায় কিনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *