মনোনয়ন প্রত্যাশীদের লবিং-তদ্বির শুরু : ডিসেম্বরে চাঁদপুর জেলা পরিষদের নির্বাচন

চলতি বছরের ডিসেম্বরে চাঁদপুর জেলা পরিষদের বর্তমান পরিষদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে । মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা থাকায় আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই জেলা পরিষদ নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বর্তমান পরিষদের মেয়াদ শেষ হতেও বাকী আছে মাত্র তিন মাস। তাই নির্বাচনী ঘন্টা বেজে ওঠায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতারা কেন্দ্রে শুরু করেছেন লবিং-তদ্বির।

জেলা পরিষদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে চলছে বিভিন্ন স্তরের মানুষের মাঝে নানা জল্পনা-কল্পনা। কে পাবেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন- এ কৌতুহল এখন দলীয় নেতাকর্মীদের। ইতোমধ্যেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী এমন অন্তত ৮ জনের নাম শোনা গেছে। আরো কয়েকজন নেতাও গোপনে মনোনয়ন চাইছেন বলে জানা গেছে। তারা এখনই প্রকাশ্যে আসতে চাইছেন না।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের সূত্র জানায়, আসন্ন জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান বর্তমান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ ওচমান গণি পাটওয়ারী, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ ইউসুফ গাজী, চাঁদপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এম এ ওয়াদুদ, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক আহসান উল্যাহ আখন্দ, সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ তাফাজ্জল হোসেন এসডু পাটওয়ারী, অ্যাড. মজিবুর রহমান ভূইয়া, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সহ-সম্পাদক শাহীন পাটওয়ারী।

জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক আহসান উল্যাহ আখন্দ বলেন, আমি যেহেতু আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত তাই মনোনয়ন আমি চাইতেই পারি। এখনই ঠিকঠাক কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে আমি কিছু করতে যাবো না।

মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইউসুফ গাজী ১৯৬৯ সালে ছাত্রলীগের মাধ্যমে আওয়ামী রাজনীতিতে যুক্ত হন। এরপর আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে বিভিন্ন পদে থেকে দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করেন। এর মধ্যে তিনি নির্বাচিত হন উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌরসভা চেয়ারম্যান। এছাড়া আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ২০০১ সালে সংসদ নির্বাচনও করেন। মনোনয়ন প্রত্যাশা বিষয়ে তিনি বলেন, দল যদি প্রয়োজন মনে করে আর যদি মনোনয়ন দেয় তাহলে নির্বাচন করবো। আর না হলে করবো না।

এদিকে গত নির্বাচনে মনোনয়ন চেয়েও দলীয় টিকিট না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি আলহাজ ওসমান গণি পাটওয়ারী। সে নির্বাচনে তিনি চাঁদপুর-২ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য নূরুল আমিন রুহুলকে পরাজিত করে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এবারো তিনি আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চাইবেন।

এ বিষয়ে ওচমান গণি পাটওয়ারী বলেন, ১৯৭৩ সালে স্কুল ছাত্রলীগের সভাপতি থেকে শুরু। ১৯৯২ সাল থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সাথে সম্পৃক্ত। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশনায় কাজ করেছি। সার্বিক দিক বিবেচনা করে আমি দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ প্রত্যাশা করি।

এদিকে দু’ বারের জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল বলেন, নেতাকর্মীরা চায়, সে কারণে আমি দলের কাছে মনোনয়ন চাইতেই পারি। আমাদের নেত্রী সিদ্ধান্ত নিবেন। যাকে যোগ্য মনে করবেন তিনি তাকে মনোনয়ন দিবেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দেশের সর্ববৃহত রাজনৈতিক দল। নির্বাচনে অনেকে মনোনয়ন প্রত্যাশা করতেই পারেন।

চাঁদপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ তোফায়েল হোসেন বলেন, জেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটার হলেন পৌরসভা, উপজেলা এবং ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিরা। এ নির্বাচনে জেলার ৮টি উপজেলা, ৬টি পৌরসভা ও ৮৯ ইউনিয়নে মোট ভোটার রয়েছেন ১২৬০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৯৬৮ জন এবং মহিলা ভোটার ২৯২ জন।

তিনি বলেন, আগামী ডিসেম্বর মাসে বর্তমান পরিষদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। বিধি অনুযায়ী মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের তিন মাসের মধ্যেই নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে বিশেষ কারণে নির্বাচন করা না গলে মেয়াদ শেষের পরের তিন মাসের মধ্যেও নির্বাচন করতে পারে কমিশন। তবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শেষে ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে জেলা পরিষদ নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০১৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

স্টাফ রিপোর্টার

Leave a Reply

Your email address will not be published.