ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে কাল

এম কে এরশাদ

মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা (২৮ অক্টোবর) রাত ১২টায় শেষ হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা শেষে কাল রাত থেকে পদ্মা মেঘনা ও নদীতে নামতে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে জেলেরা ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চাঁদপুর সদর উপজেলার ইব্রাহিমপুর ইউনিয়ন, রাজরাজেশ্বর ইউনিয়ন,বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন,কল্যাণপুর ইউনিয়ন,তরপুচন্ডী ইউনিয়ন, মডেল লক্ষীপুর ইউনিয়ন,হানাচর ইউনিয়ন, চান্দ্র ইউনিয়ন, হাইমচর উপজেলা কয়েকটি ইউনিয়ন,১নং গাজীপুর ইউনিয়ন, ২নং আলগী দূর্গাপুর (উঃ) ইউনিয়ন, ৩নং আলগী দূর্গাপুর (দঃ) ইউনিয়ন,৪নং নীলকমল ইউনিয়ন, ৫নং হাইমচর ইউনিয়ন, ৬নং চরভৈরবী ইউনিয়ন, মতলব উত্তর উপজেলা অমিরাবাদ ইউনিয়ন, জহিরাবাদ, মহনপুর ইউনিয়ন মতলব দক্ষিন উপজেলাসহ প্রায় ৩ টি উপজেলার নদীর পাড়ের জেলেরা ইলিশ শিকারের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ।
অনেক জেলেরা জানায়, তারা ২২ দিন ধরে পদ্মা মেঘনা ও নদীতে মাছ শিকারে নামতে পারেননি। সংসারে অভাব-অনটন প্রকট আকার ধারণ করেছে। ইতিমধ্যেই জেলেরা বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ, কেউবা এনজিও, সমিতি ও বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন। ট্রলার, নৌকা ও জাল মেরামত কাজ সম্পন্ন করে রাত থেকেই নদীতে নামতে তারা সব আয়োজন সমাপ্ত করেছে।
মা ইলিশের প্রজনন নিরাপদ করার জন্য গত ৭ অক্টোবর রাত ১২টা থেকে ইলিশ নিধনে নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছিল। প্রতিবছরের মতো এবারও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ নিধন করছে এবং বাধা দিতে গেলে প্রশাসনের ওপর হামলাসহ নানা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। জেলেদের হামলায় চাঁদপুর নৌ-থানাসহ পুলিশ আহত হয়েছ।

তবে জানাযায়, এ বছর নিষেধাজ্ঞার মধ্যে চাঁদপুরের মেঘনায় বেপরোয়াভাবে ইলিশ নিধন করা হয়েছে। অভিযান চালাতে গিয়ে একাদিক প্রশাসনের ওপর হামলাসহ একাধিক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চাঁদপুর সদর রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নে জনপ্রতিনিধি মেম্বাররাসহ সেখানে জেলেদেরকে নদীতে নামিয়ে দিচ্ছে এবং রাতে আধারে মা ইলিশ চর অঞ্চল বিক্রি করছে দেদারছে। যারা সেখানা অড়ৎ বশিয়ে মা ইলিশ বিক্রি করছে তারা হলেন মোঃ সফিকুল দেওয়ান, মোঃ ছানু মোল্লা (৫০) মোঃ তাজল ইসলাম,(৫২) মোঃ খোকা মোল্লা(৫০) আব্দুল আলী সরকার, মোঃ শরবত আলী গাজী, মতলব উত্তর জহিরাবাদ ইউনিয়নের মোঃ ইউছুব বেপারী,। সেখানে তাদের নিয়ন্ত্রনে চলে শতশত জেলে নৌকা জানা যায় প্রতি বছর জেলেদের দাদন দিয়ে মা ইলিশ শিকারের জন্য নামিয়ে দেয়। এদের মধ্যে কেউ যদি আটক হয় তাহলে তারাই টাকা খরছ করে জামিন করান কোট থেকে। চাঁদপুর আনন্দ বাজার লালপুর শতশত জেলে নদীতে নামিয় নিয়ন্ত্রন করে মা ইলিশ বিক্রি করছে
তিনি হলেন মোঃ সাজু বাড়ী তাহার চাঁদপুর শহরের কাছাকলনী এলাকায় তার রয়েছে মাছঘাট ব্যাবসায়ীদের সাথে ব্যাবসা জেলে নৌকা প্রতি টাকা হাতিয়ে নেয় লাখ লাখ টাকা নৌকা আটক হলে সাথে সাথে ছুটে যান থানায় ছারিয়ে নিতে পরে না ছারলে জামিন করার জন্য কোটে ছুটেন অথবা তার লোক পাঠান। তিনি প্রতি বছর অফেক্ষায় থাকেন কখন মা ইলিশ অভিযান আসবে আর জাটকা অভিযান হবে। এ সময় চাঁদপুর নৌ- থানার ওসি কামরুজ্জামান বলেন নৌ এসপি সারের নির্দশে আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছি নদীতে আমাদের অনেক পুলিশ আহত হয়ছে। তারপরেও নদীতে রয়েছে সর্বক্ষন পুলিশ, ম্যাজিস্ট্রেট, মৎস্য কর্মকতাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, শত শত জেলে আটক করতে সক্ষম হয়েছি শেষ সময় অভিযান চলবে মা ইলিশ রক্ষায় কাজ করবো।
এদিকে অনেক জেলেরা
জানান, প্রভাবশালী মাছঘাট ভাড়াটিয়া মৌসুমি জেলেরা ইলিশ নিধন করে এবং তাদের ইন্ধনে প্রশাসনের ওপর হামলা চালনোর ধৃষ্টতা দেখায় মৌসুমি জেলেরা।
নিষেধাজ্ঞার সময় অভিযান পরিচালনাকারী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অভিযানের সময়সীমা কিছুদিন বৃদ্ধি থাকলে যেসব মা ইলিশ এখনো ডিম ছাড়তে পারেনি তার অধিকাংশই ডিম ছাড়তো। কেননা শেষ দিনে অভিযানে জব্দ মা ইলিশের পেটভর্তি ডিম দেখা গেছে।
অভিযানে অংশ নেওয়া সদস্যরা জানান, মা ইলিশ কিংবা জাটকা রক্ষার অভিযান প্রায়ই মাঝ নদীতে থমকে দাঁড়ায়। আধুনিক নৌযান ব্যবস্থা না থাকায় ট্রলার নিয়ে জেলেদের কাছে পৌঁছানোর পূর্বেই জেলেরা জাল ও ট্রলার নিয়ে তীরে উঠে যেতে সক্ষম হয় এবং পালিয়ে যায়।
এই সময় চাঁদপুর পদ্মা মেঘনা মিঠা পানিতে প্রচুর ইলিশ ডিম ছাড়তে আসে। এসব নদীতে সার্বক্ষণিক নজরদারি হলে ইলিশ উৎপাদন আরও বেড়ে যেত।
এদিকে, মা ইলিশ রক্ষায় চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট’র নেতৃত্বে যৌথ টিম কাজ করেছে
। সবাই একযোগে কাজ করায় এবার অভিযানে ব্যাপক সফলতাও এসেছে। তবে কিছু কিছু জায়গায় জেলেরা অতর্কিত হামলা চালানোর ফলে অনেক প্রশাসন হামলার শিকার হয়েছেন। মা ইলিশ রক্ষায় তাই আগামীতে সংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে। এদিকে চাঁদপুরের শিক্ষা মন্ত্রী বলেছেন জেলেদের পিছনে যারা কাছ করে তাদের নদিতে তামাচ্ছে তাদের আইনের আওতায় আনন্তে হবে তাহলে মা ইলিশ রক্ষা হবে। এ বিষয় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ প্রশাসন বিষয়টি নজর রাখবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *