নৌরুটে দুর্ঘটনার দায় কার ?

কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম জুয়েল সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নারায়নগঞ্জ রুটের লঞ্চে একটি খারাপ অবস্থা বিরাজ করছে। এই রূটের লঞ্চগুলো প্রায়শঃ দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে। দুর্ঘটনা যেন পিছু ছাড়ছে না এই রুটে চলাচলকারী নৌযানগুলোর। একেরপর এক দুর্ঘটনায় অনেকটা মৃত্যুপুরিতে পরিনত হয়েছে শীতলক্ষ্যা নদী। অথচ প্রাচ্যের ডান্ডি খ্যাত এই জনপদে নৌযান চলাচলের ইতিহাস অনেক প্রাচীন। গত কয়েক বছর যাবত যা হচ্ছে তাতে ঐ জেলার প্রতি অনেকটা কালিমা লেপন করা হয়েছে। অথচ অতিগুরুত্বপূর্ণ এই রুটে প্রতিদিন শত শত নৌযান চলাচল করে থাকে দেশের অতিগুরুত্বপূর্ণ নৌরুট হিসেবে।
আমরা মনেকরি কেন এভাবে অহরহ দুই নৌ যানের মধ্যকার সংঘর্ষে দুর্ঘটনা ঘটছে তা অধিক গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা দরকার। তিন কার্যদিবসের তদন্তে এই দুর্ঘটনার সঠিক কারণ খুঁজে পাবে বলে মনেহয় না। এটাকে নিছক একটি দুর্ঘটনা মনে না করে একটি জাতীয় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে এর জন্য উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা দরকার। তাহলে এই দুর্ঘটনার ইতিবৃত্তান্ত উঠে আসবে। তা না হলে একটি দুর্ঘটনা আর একটি তদন্তের মাঝেই আটকে থাকবে কিন্তু মৃত্যুর মিছিল কোন ভাবেই থামানো যাবে না।

এ জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবী। তাছাড়া ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, চাঁদপুর, শরীয়তপুর রুটের সাথে নারায়নগঞ্জের সাথে অনেক গুরুত্বপূর্ণ নৌ সম্পর্ক রয়েছে। এসব রুটেও প্রতিনিয়ত ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে চাঁদপুরের সাথে সংযুক্ত সকল রুটের নৌযান চলাচলেও এখনো সঠিক নিয়মনীতি পরিপালন হয় না। নৌরুটে এখনো নিয়মনীতি পরিপালনে উদাসীনতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। তাই গোড়ায় গলদ নিয়ে এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি সেক্টর চলে না।
আমরা এ ব্যাপারে সরকারকে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.