চাঁদপুরে ঝুঁকি নিয়ে পদ্মা-মেঘনা পাড়ি দেয় শতাধিক যাত্রীবাহী ট্রলার

চাঁদপুর শহর থেকে প্রতিদিন মেঘনা নদীর পশ্চিমের ৩০টি চরের হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পদ্মা-মেঘনা নদী পাড়ি দিচ্ছে। এ সব এলাকার মাঝি ও চালকরা কোন নিয়ম মেনে না চলায় আতংকের মধ্যে থাকতে হয় নদী পারাপাড়ের মানুষ । সরকারী ভাবে দেওয়া লাইফ জ্যাকেট ও বয়া দেয়া হলে ও তারা সেগুলো ব্যবহার করার ক্ষেত্রে উদাসীন।

চাঁদপুর জেলা শহর থেকে প্রায় ৩০টি চরাঞ্চলে শতাধিক যাত্রীবাহী ট্রলার উত্তাল ঢেউ ও ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে ঝুঁকি নিয়ে মেঘনা নদীর পশ্চিমে পাড়ি দিচ্ছে। ট্রলারগুলোতে পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট ও বয়া না থাকায় প্রতিনিয়তই থাকে দুর্ঘটনার আশঙ্কা। প্রায় সময়ই যাত্রীসহ মালবাহী ট্রলার মেঘনায় নিমজ্জিত হয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগকালীন সময়ে নদীতে নিরাপত্তায় নিয়োজিত আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারী আরো বাড়ানোর দাবী করেছেন জনপ্রতিনিধিসহ যাত্রীরা।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, চাঁদপুর জেলা সদর, মতলব উত্তর, সদরের হরিণা ফেরিঘাট ও হাইমচর উপজেলার বেশ কয়েকটি ঘাট থেকে প্রতিদিন নিয়মিত পদ্মা-মেঘনার পশ্চিম পাড়ে ট্রলারগুলো ছেড়ে যায়। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত এসব ট্রলারগুলোতে নিত্য প্রয়োজনীয় মালামালসহ যাত্রী পারাপার হয়। এর মধ্যে শহরের পুরান বাজার থেকে ছেড়ে যায় শরীয়তপুর ফেরিঘাট, দক্ষিণ তারাবুনিয়া মোল্লার বাজার, উত্তর তারাবুনিয়া চেয়ারম্যান স্টেশন, রাজরাজেশ্বর ঘাট, বাঁশগাড়ী, মতলব উত্তরের জহিরাবাদ, চরবাঘা ইউনিয়ন, গৌরাঙ্গের বাজার, শরীয়তপুরের কাঁচিকাটা।

চাঁদপুর শহরের বাসিন্দা ও রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শফিউল্লাহ প্রধান বলেন, বছরের সব সময়ই নদীর আচরণ বুঝে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। তবে নিরাপদ বাহন থাকলে ঝুঁকিটা কমে। তবে এসব ট্রলারে লাইফ জ্যাকেট, বয়া ও ট্রলার চালকদের প্রশিক্ষণ খুবই প্রয়োজন। চরাঞ্চলের প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও অন্যান্য সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের লোকজন ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হচ্ছে।

রাজরাজেশ্বর ইউনয়িনের চেয়ারম্যান হযরত আলী বেপারী এ বলেন, চরাঞ্চলে চিকিৎসা, বাজারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক সুবিধা না থাকার কারণে তাদেরকে ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে দিয়ে মেঘান পাড়ি দিয়ে শহরে আসতে হয়। এখন নদীতে পানি বাড়ছে। বর্ষা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিলে নদী ভয়ঙ্কর হয়ে উঠে। ট্রলাগুলোতে পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট ও বয়া থাকা প্রয়োজন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে গত কয়েক বছর দেয়া হয়েছে। এগুলো অনেক মাঝি ট্রলারে রাখে আবার কেউ রাখে না। আজকে সন্ধ্যায় আমি নিজে পরিষদ থেকে আসার সময় ঝড়ের মুখে পড়েছি। আল্লাহর ইচ্ছায় বড় ধরণের বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছি। তবে এই সময়টাতে মেঘনায় ভ্রমনের জন্য ঘুরতে আসা ট্রলারগুলো বন্ধ রাখাসহ প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো দরকার।

চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএ’র উপ-পরিচালক কায়সারুল ইসলাম বলেন, এই ট্রলারগুলো চলাচলে আমাদের কোনো অনুমোদন নেই। তবে পুরানবাজার থেকে আলুরবাজারসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলে ঝুঁকি নিয়ে যাতে ট্রলারগুলো চলাচল করতে না পারে, তার জন্য নৌ-পুলিশকে চিঠি দিয়ে অবহিত করা আছে। কালবৈশাখী আসার প্রাক্কালে আমরা এ সংক্রান্ত কিছু পদক্ষেপ নিয়ে থাকি। যাতে করে ট্রলারগুলো ঝড়ের সিগনাল অনুসরণ করে, সেজন্য সার্বক্ষণিক আবহাওয়া অফিসের সংকেত অনুসরণ করতে বলা হয়ে থাকে।

নিজস্ব প্রতিনিধি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *