পর্যটনে অপার সম্ভাবনাময় কচুয়ার ঘুরগার বিল

চাঁদপুরের কচুয়া ও কুমিল্লার চান্দিনা এ দু’ উপজেলার মাঝামাঝিতে পর্যটনের হাতছানি দিচ্ছে সাচারের ঘুরগার বিল। দিগন্ত বিস্তৃত জলরাশি ও বর্ণিল জলজ উদ্ভিদ আর প্রাকৃতিক ও দেশি প্রজাতির মাছে ভরপুর এই বিল। বর্ষা মৌসুমে কচুয়া, দাউদকান্দি, চান্দিনাসহ বিভিন্ন উপজেলা ও বহির্জেলার ভ্রমণ পিপাসু মানুষের জন্য এই স্থানটি আনন্দের খোরাক যোগায়।

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার বিতারা, সাচার ইউনিয়ন, পালাখাল মডেল ও কচুয়া উত্তর ইউনিয়নে উত্তর ও পূর্ব দিকে চান্দিনার বিলটির অবস্থান। সরকারি-বেসরকারি মিলে এ বিলের আয়তন প্রায় ৫০০ একর। তবে এখানে বেশিরভাগ জমিই ব্যক্তি মালিকানাধীন।
বিলের লাল সাদা শাপলার মায়াবী সৌন্দর্যের হাতছানিতে সেখানে ভিড় করছেন দর্শক। কচুয়া-গৌরিপুর সড়কের শিমুলতী থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে বিলে যাওয়া যায়। তারপর হাঁটাপথ পেরিয়ে বিতারা গ্রাম হয়ে ঘুরগার বিল।

তথ্যমতে, প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা লাল ও সাদা শাপলা বিলের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে। এবিলে কৈ, শিং, মাগুর, টেংরা, শোল, বোয়াল, টাকিসহ বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়। এ বিলের মাছ রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বাজারজাত করা হয়। পাশাপাশি এ বিলে রয়েছে বিবিধ প্রজাতির জলজ প্রাণী ও মৌসুমি অতিথি পাখি। বিলের পানিতে রয়েছে নিমজ্জিত বিভিন্ন প্রজাতির শৈবালসহ নানা উদ্ভিদ।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিতারা ও সাচার গ্রামের পাশে খালে বাঁধা অনেক ছোট নৌকা। অনেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছেন। ছোট নৌকা ভাড়া নিয়ে ঘুরছেন। খালের স্বচ্ছ পানিতে হাত ভিজিয়ে সুখানুভূতি নিচ্ছেন। পরিবারের ছোট সদস্যদের বিলের বিভিন্ন জলজ উদ্ভিদ সম্পর্কে ধারণা দিচ্ছেন। কেউ শাপলা তুলছেন। কেউ ছবি বা সেলফিতে ব্যস্ত। কেউ গলা ছেড়ে গাইছেন- ‘ওরে নীল দরিয়া, আমায় দে রে দে ছাড়িয়া…’। অন্যদিকে দূরের কোনো নৌকায় সাউন্ডবক্সে বাজছে আঞ্চলিক গান। এ সময় ঘুরগার বিল আনন্দ বিলে রূপ নেয়।

‘কথিত আছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হেলিকপ্টারযোগে স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে এ বিল পরিদর্শন করেছিলেন। উদ্দেশ্য দেশের প্রেক্ষাপটে এ বিলের অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা যাচাই। কিন্তু পঁচাত্তরের নির্মম ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তীতে গৃহীত পদক্ষেপের আর কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। অথচ এটি হতে পারত আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র কিংবা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের কেন্দ্রবিন্দু। গড়ে উঠত পাখি ও জলজ প্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল। ’

স্থানীয় বাঁইছারা গ্রামের ইসমাইল ভূঁইয়া বলেন, ঘুরগার বিলের জীববৈচিত্র আমাদের প্রকৃতি সম্পর্কে শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে। বিলটি সংরক্ষনে চারদিকে বেড়িবাঁধ স্থাপন করা এখন সময়ের দাবি।

অভয়পাড়া গ্রামের ঢাবি শিক্ষার্থী শরীফুল ইসলাম আরশ বলেন, বাড়ির পাশে বিলটির অবস্থান হওয়ায় শৈশব থেকে এ বিলের নামকরণ নিয়ে বিভিন্ন কথা শুনে আসছি। কেউ বলেন ঘুরগা নামের এক ধরনের পোকার প্রচুর বিচরণ ছিল এ বিলে। সে পোকার নামে এর নামকরণ। কেউ বলেন এত বড় বিল ঘুরতে ঘুরতে শেষ করা যায় না বলে এর নাম ঘোরার বিল বা ঘুরগার বিল। এ বিল সংরক্ষণ জরুরি। এতে প্রাকৃতিক মাছ উৎপাদনের পাশাপাশি চিত্তবিনোদনেরও সুযোগ রয়েছে।

বিতারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইসহাক সিকদার বলেন, এটি চান্দিনা-কচুয়া দুই উপজেলার মাঝামাঝি একটি দর্শনীয় স্থান। বর্ষা মৌসুমে দূর-দুরান্ত থেকে মানুষ এখানে নৌকা ভ্রমণে ঘুরতে আসেন।

কচুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার দীপায়ণ দাস শুভ বলেন, ঘুরগার বিলে দেশীয় প্রজাতির সুস্বাধু মাছ সম্পর্কে শুনেছি। বিলটিতে প্রাকৃতিক মাছ উৎপাদনের সুযোগ থকায় এখানে পরিকল্পিতভাবে মাছ চাষের উদ্যোগ নিলে আমিষের চাহিদা মেটানো যাবে।

কচুয়া প্রতিনিধি, ১৮ আগস্ট ২০২১;

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *