পর্যটন কেন্দ্রে সতর্কতা জরুরী

সম্প্রতি সরকার দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলো খুলে দিয়েছে। এরপর থেকে ঐসব পর্যটন তথা বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে মানুষের উপচে পড়া ভীড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। করোনা মহামারির উর্ধগতির মধ্যে মানুষের এমন উপস্থিতি কতটা বিপদ ডেকে আনকে কেউ কি ভেবে দেখেছেন ? সরকার দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবন যাত্রা স্বাভাবিক রাখতে পর্যায়ক্রমে সবই খুলে দিচ্ছে। এটা অত্যন্ত যৌক্তিক বিষয়।

ধারাবাহিক লকডাউনে মানুষের জীবন যাত্রা যখন স্থবির হয়ে পড়েছিল তখন সবত্রই হাহাকার দেখা দেয়। দেশের নিন্ম আয়ের মানুষেরা পড়েন ভীষণ বিপাকে। এসময় অনেকেই বলতে থাকেন ‘আমরা করোনাকে ভয় পাই না, লকডাউকে ভয় পাই।’ মানুষের জীবন যাত্রার পরিস্থিতি কতটা বেশামাল হলে নিজেকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে দ্বিধাবোধ করে না। জীবন যতোদিন আছে জীবিকা ততোদিন থাকবে। পরিবারের সদস্যদের মুখে দু’বেলা আহার জোটাতে মানুষ জীবন বাজী রাখতে এতটুকু কুণ্ঠাবোধ করে না। সেখানে করোনা কতটা আর ভয়ংকর ? এমন প্রশ্ন ঐসব মানুষের।

এমনই পরিস্থিতিতে সরকার তা উপলব্ধি করেই মানুষের জীবন স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে। তবে সরকারের এমন মনোভাবের কারণে মানুষ যেন বেমালুম ভুলেই গেছে করোনার কথা। যে যার মতো করে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে চলার প্রবণতা দিন দিন বেড়েই চলছে।

আমরা দেখতে পাচ্ছি দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলো খুলে দেয়ার কারণে সেখানে স্বাস্থ্যবিধি একেবারেই উপেক্ষিত। শাটডাউন আর লকডাউনের সময় আইনশৃংখলা রক্ষাকারি বাহিনী মানুষকে কর্মহীন করে রাখার জন্য যেমন তৎপর দেখেছি, মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে সেরকম তৎপর দেখছি না। সরকার লকডাউন প্রত্যাহার করেছে কিন্তু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাতো আর প্রত্যাহার করেনি? বরং সরকার বলেছে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে এবং মাস্ক পরিধান করতে। এটা বাস্তবায়নে পুলিশ প্রশাসনের তৎপরতা নেই কেন প্রশ্ন অভিজ্ঞ মহলের।

আমরা মনেকরি পুলিশ ভাইয়েরা যদি লকডাউনের মতো মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে তৎপর হন তাহলে অবশ্যই তা সম্ভব। যেমনটা দেখেছি লকডাউনের সময়। হাট-বাজার আর অফিস আদালত নয় সবখানে যাতে ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধি বজায় থাকে সে জন্য পুলিশি তৎপরতার কোন বিকল্প নেই।

সম্প্রতি দেশের অন্যন্য পর্যটন কেন্দ্রগুলোর মতো চাঁদপুরের পর্যটন স্পটখ্যাত বড় স্টেশন মোলহেড এলাকায় মানুষের প্রচন্ড ভীড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রতিদিন শত শত মানুষ ভীড় করছে এলাকাটিতে। কিন্তু অধিকাংশ মানুষকেই স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যায়নি। এব্যাপারে চাঁদপুরের স্থানীয় পত্রিকাগুলো সংবাদ পরিবেশন করে আসলেও কারোই যেন কোন চৈতন্য নেই।

বিনোদন জীবিকার মতো অধিক গুরুত্বপূর্ণ কিনা তা সবারই ভেবে দেখা দরকার। রোজগার করলে দু’বেলা আহার জোটে কিন্ত বিনোদনের নামে নগন্য প্রয়োজনকে আজ এতোটাই গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে যে, যেন ঘুরাঘুরি না করলে মরে যাবে। অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে মহামারি মানুষ মারছে না মেরে ফেলছে মানুষের মানসিকতাকে।

প্রতিদিন শত শত মানুষ এখনো আক্রান্ত হচ্ছে। হাসপাতালগুলোর চিত্র কতটা ভয়াবহ তা কেবল সংশ্লিষ্টরাই ভালো করে জানেন। আমরা যারা ছল-চাতুরি করে অযথাই ঘোরাঘুরিতে লিপ্ত তাদের কারণে আবার লকডাউনে যাবে দেশ। জীবিকার চাইতে যদি বিনোদন বড়ো হয়ে দেখা দেয়, তাহলে আর কলের গান শুনিয়ে কি লাভ হবে?

মোদ্দাকথা হলো, আসুন সবাই সচেতন হই। অযথা ঘোরাফেরা না করে প্রয়োজনে সতর্কতা বজায় রেখে চলি। সময় ও সুযোগের সদব্যাবহার করা অপরিহায। জীবনের খাতা থেকে আমরা যে সময় খুইয়ে ফেলেছি তা কখনোই আর ফিরে পাবো না। কিন্তু আগামির প্রজন্ম যেন নিরাপদ এবং সুন্দর একটি জীবন পেতে পারে সেই জন্য সবাইকে এখনই সতর্ক হতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *