সংগীতশিল্পী পলাশের হার্ট অ্যাটাক, হাসপাতালে ভর্তি

গত সোমবার রাতে বুকে ব্যথা শুরু হয়। আস্তে আস্তে ব্যথা বাড়তে থাকে। ব্যথার তীব্রতা সহ্য করতে না পেরে গুলশান নিকেতনের বাসা থেকে গাড়ি চালিয়ে হাসপাতালে ছুটে যান। অ্যানজিওগ্রাম করার পর চিকিৎসকেরা জানতে পারেন, তাঁর হার্টে ব্লক ধরা পড়েছে। চিকিৎসকের দ্রুত পরামর্শে তাঁর হার্টে রিং (স্টেন্ট) পরানো হয়।

দুই দিন করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) রাখার পর আজ বুধবার দুপুরে পলাশকে হাসপাতালের কেবিনে নেওয়া হয়েছে। সংগীতশিল্পী পলাশের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থার খবর এভাবেই প্রথম আলোকে জানালেন তাঁর বড় ভাই আলী আহসান। তিনি বললেন, ‘পলাশের ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। ভাগ্যিস নিজে গাড়ি চালিয়ে দ্রুত হাসপাতালে গিয়েছিল, তা না হলে যে কী হতো আল্লাহ জানেন। পরীক্ষা–নিরীক্ষা শেষে জানা যায়, পলাশের হার্টে ৯৯ পার্সেন্ট ব্লক ধরা পড়েছে। আল্লাহর অশেষ রহমতে, দ্রুত সিদ্ধান্তে রিং পরানোয় এ যাত্রায় রক্ষা হয়েছে।’

সংগীতশিল্পী-পলাশের-হার্ট-অ্যাটাক-হাসপাতালে-ভর্তি

আলী আহসান জানালেন, পলাশ এখন ভালো আছেন। তাই চিকিৎসকেরা তাঁকে কেবিনে দিয়ে দিয়েছেন। আজ ও কাল হাসপাতালে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকার পর হয়তো বাসায় পাঠিয়ে দেবেন। সবার কাছে আমার ভাইয়ের জন্য দোয়া চাই।’
একসময়ের তুমুল জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী পলাশের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে দুই শতাধিক অ্যালবাম প্রকাশ পেয়েছে। এর মধ্যে একক অ্যালবামের সংখ্যা ৩০-এর অধিক। চলচ্চিত্রে তাঁর গাওয়া গানের সংখ্যা এক হাজারের মতো। পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও।

নব্বই দশকের তুমুল জনপ্রিয় ও বৈচিত্র্যময় কণ্ঠের এই শিল্পী মধ্যে গানে অনিয়মিত হয়ে পড়েন। অডিও ইন্ডাস্ট্রির ধস ও ব্যক্তিগত কারণেও গান থেকে দূরে ছিলেন তিনি। গত বছর অবশ্য বিরতি ভেঙে ফিরেছেন গানের অঙ্গনে। নব্বই দশকে ‘অরবিট’ নামের ব্যান্ডদল গড়ে সংগীতজীবন শুরু করেন পলাশ সাজ্জাদ। এরপর আধুনিক, ফোক, হারানো দিনের গান, রিমিক্স, র‌্যাপ গানসহ সংগীতের বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ছিল তার সফল পদচারণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *