চাঁদপুরে অটোরিকশার চার্জে ট্রান্সফরমারের উপর অতিরিক্ত চাপ : প্রায় রাতে জ্বলে যাচ্ছে পেইজ

মুহাম্মদ বাদশা ভূঁইয়া

লোডশেডিং মারাত্মক আকারে প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। বিনা নোটিশে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। বিদ্যুতের লুকোচুরিতে জনগণ অতিষ্ঠ। লোডশেডিংয়ের জন্য স্থানীয়রা অবৈধভাবে চলাচলকারী অটোরিকশা ও ইজিবাইকের ব্যাটারি চার্জ দেওয়াকে দায়ী করছে। এসব যানবাহন শুধু বিদ্যুৎ

নয়, যানজটেরও সৃষ্টি করছে। স্থানীয়রা এসব যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চাঁদপুর পৌর শহর অন্তত ৩০০ হাজার ব্যাটারি চালিত রিকশা ও ভ্যান এবং প্রায় ১৫০০ শত ইজিবাইক চলাচল করে। এছাড়া

প্রতিদিনই প্রায় ৮-১০টি নুতন রিকশা-ভ্যান রাস্তায় নামছে। এর কোনোটিই পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে রেজিস্ট্রেশন করা নেই। এসব ইজিবাইক

ও রিকশা-ভ্যানের ব্যাটারি চার্জ এবং রাখার জন্য দুই শতাধিক গ্যারেজ গড়ে উঠেছে। গ্যারেজে চার্জসহ একটি রিকশা রাখতে ৬০ টাকা ও চার্জসহ একটি

ইজিবাইক রাখতে ১৬০ টাকা দিতে হয়। তবে অধিকাংশ গ্যারেজে বিদ্যুতের ব্যবহার ঠিকমতো করা হচ্ছে না। মিটার টেম্পারিংয়ের মাধ্যমে তারা বেশি

বিদ্যুৎ ব্যবহার করে কম বিল দিচ্ছে। অভিযোগ পাওয়া গেছে।

চাঁদপুর বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মিজানুর রহমান জানান, আমাদের পৌর এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা ২৩ মেগাওয়াট।

 

 

বর্তমানে চাহিদার ৬০ শতাংশ সরবরাহ মিলছে। তাই বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে লোডশেডিং করতে হয়।

তিনি বলেন,একটা অটোরিকশা বা ভ্যানে একবার চার্জ দিতে ৩ ইউনিট ও ইজিবাইক ১২ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যয় হয়। প্রতিদিন ৪ হাজার ৫০০ শত রিকশা-

 

ভ্যান ও ইজিবাইকের ব্যাটারি চার্জে প্রায় ৩-৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যয় হয়ে থাকে।

তার দাবি, অধিকাংশ গ্যারেজে বিদ্যুতের মিটার আছে। তাই বিদ্যুৎ চুরির সম্ভবনা নেই। তবে এসব রিকশা ও ইজিবাইকের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহের ওপর

চাপ পড়ছে।

তিনি আরো জানান, অটো গ্যারেজ মালিকদের প্রতি নির্দেশনা রয়েছে প্রতিটি গ্যারেজে আলাদা আলাদা রঙের পেজ ব্যবহার করার জন্য। কিন্তু তারা যদি

সাধারণ গ্রাহকের বিদ্যুৎ ব্যবহারে সমস্যা সৃষ্টি করে তাহলে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড চাঁদপুর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ তাদেরকে আইননিক ব্যবস্থার

 

 

আওতায় আনা হবে।

 

চাঁদপুর পৌরসভার ১১ নং ওয়ার্ডের কোল্ড স্টের মোড় ট্রান্সমিটার বাস্ট হওয়ার ঘটনা প্রায় ঘটে, ২/১ দিন পরপরই পেজ ভয়াবহভাবে আগুন জ্বলে উঠার

ঘটনাও ঘটে। কয়েক ঘন্টা চেষ্টা করার পর বিদ্যুতের কর্মকর্তারা সচল করে দেয়।

 

এলাকাবাসীর দাবি রাত ১১টার পরে শহরের অটো রিক্সা গুলো গ্রেজে চার্জের জন্য দেয়া হলেই পেইজে লোড নিতে পারে না। তাই ট্রান্সমিটার এর পেজ

 

জ্বলে যাওয়ার দুর্ঘটনা ঘটে।
চাঁদপুর ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) মোঃ জহিরুল ইসলাম জানান, পৌরসভায় ২৭২৫ অটোরিকশা ও ইজি বাইক রয়েছে। রেজিস্ট্রেশন এসব যানবাহন একদিকে বিদ্যুতের অপচয় করছে। অন্যদিকে সড়ক-মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি করছে। এদের নিয়ন্ত্রণ করতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। অচিরে ই এইসব শর্ট থেকে নিয়ন্ত্রণ না করলে ভবিষ্যতে বিদ্যুতের ব্যাপক ক্ষতি হবে।
চাঁদপুর শহর পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি খোরশেদ আলম হাওলাদার জানান, প্রায় ৩০০০ হাজার ইজিবাইক অটোরিকশা-ভ্যান চলাচল করে। অধিকাংশের মালিক দরিদ্র। মাঝে মাঝে ট্রাফিক বিভাগ ও পৌরসভা অভিযান চালিয়ে এসব গাড়ি আটক করে থাকে। তিনি চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে শোরুম মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.