ফরিদগঞ্জে ‘কালো মাছি’ চাষে স্বাবলম্বী শফিকুর

ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি ৩০ বছর প্রবাসে ছিলেন শফিকুর রহমান (৬০)। বিদেশ থেকে ফিরে ২০২১ সালের ১৫ ডিসেম্বর হাঁস-মুরগি ও মাছের প্রাকৃতিক খাবার ‘ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাই’ বা ‘কালো মাছি’ চাষ শুরু করেন। এখন এই পোকার চাষ করে স্বাবলম্বী তিনি।
জানা গেছে, পোলট্রি এবং মাছের বিকল্প খাদ্য হিসেবে নতুন সংযোজন হয়েছে ‘ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাই’। এটি এক ধরনের পোকা। এই পোকার প্রথম চাষ হয় আফ্রিকাতে। বর্তমানে বাংলাদেশে এই পোকার চাষ বেশ জনপ্রিয় হচ্ছে।
চাঁদপুর জেলায় প্রথম এই পোকার চাষ শুরু করেন ফরিদগঞ্জ উপজেলার প্রবাসফেরত শফিকুর রহমান। উপজেলা সদর থেকে চার কিলোমিটার দূরে রূপসা উত্তর ইউনিয়নের দক্ষিণ গাব্দেরগাঁও গ্রামে খামার গড়ে তুলেছেন শফিকুর রহমান। মাত্র দুই কেজি লার্ভা দিয়ে খামারের কার্যক্রম শুরু করেছিলেন তিনি। লার্ভা থেকে পিউপা হয়ে সেগুলো এখন মাছিতে রূপান্তর হয়েছে। বর্তমানে সেগুলো ডিম দিচ্ছে।
শফিকুর রহমান জানান, এই পোকা ও লার্ভা হাঁস-মুরগি এবং মাছের সুপারফিড হিসেবে পরিচিত। এতে প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন, ক্যালসিয়ামসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে। এই খাবার খাওয়ালে অন্য কোনো ভিটামিনের দরকার হয় না। উৎপাদন খরচ তেমন নেই বললেই চলে। অন্য খাবারের চেয়ে এ লার্ভা ৮০ শতাংশ খরচ বাঁচায়।
শফিকুর রহমান বলেন, প্রথমে ছয় হাজার টাকায় দুই কেজি লার্ভা কিনে ব্যবসা শুরু করলে আজীবন লাভ পাওয়া যায়। এতে উৎপাদন খরচ ৫০ শতাংশ বাঁচায়।
শফিকুর রহমান জানান, এই চাষের জন্য প্রাথমিক উপকরণ হিসেবে দুই কেজি লার্ভা, একটি নেটের মশারি, পাঁচটি গামলা, দুই কেজি মুরগির খাবার ও চার কেজি ওয়েস্ট (গোবর সার, কাঁচা সবজি বা ফলের উচ্ছিষ্ট ও গাছের পাতা) প্রয়োজন। কাঁচা সবজি, ফল ও গাছের পাতা সংগ্রহ করে প্রক্রিয়াজাত করা হয়। পরে এতে লার্ভা ছাড়া হয়। লার্ভা পরবর্তী সময়ে মাছিতে রূপান্তর হলে ডিম দেয়। একটি মাছি ৭০০ থেকে ৮০০টি ডিম দেয়। পরে তা লার্ভায় পরিণত হয়। কিছু লার্ভা পরিপূর্ণ মাছি উৎপাদনের জন্য ব্যবহার হয়। এ লার্ভাগুলো নেটের মধ্যে রাখা হয়। ডিম পাড়ার জন্য কাঠের টুকরা রাখা হয়। ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাই বা কালো মাছির আয়ু মাত্র ৪৫ দিন। ডিম ফোটার ছয় থেকে ৩০ দিন পর্যন্ত এটি হাঁস-মুরগি ও মাছকে খাওয়ানো যায়।
ইয়াছিন নামের এক যুবক বলেন, ‘আমার একটি পোলট্রি খামার রয়েছে। আগে বাজার থেকে খাবার কিনে খাওয়াতাম। কিন্তু মানুষের কাছে শোনার পর ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাই মুরগির খাবার হিসেবে ব্যবহার শুরু করেছি।’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমি দুই মাস আগে মাছির লার্ভা বাজারজাত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে লার্ভা সরবরাহ করার ব্যবস্থা রয়েছে। আমি তরুণ উদ্যোক্তাদের লার্ভা চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মামুনুর রহমান বলেন, ‘আপনাদের মাধ্যমে আমি বিষয়টি জানতে পেরেছি। বিষয়টির নতুনত্ব রয়েছে। এই চাষ প্রশংসার দাবি রাখে। আমি খামার পরিদর্শন করব।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.