ফরিদগঞ্জে জন্ম নিবন্ধন নিয়ে বাণিজ্যের অভিযোগ

ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি: ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি জন্ম নিবন্ধন সংশোধন নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার মানুষ। এমনই অভিযোগ ভুক্তযোগী মানুষের মুখে মুখে। উপজেলার প্রায় সব ইউনিয়ন পরিষদেই এ চিত্র দেখা গেছে।
জানা গেছে, স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জন্মসনদে জন্ম তারিখ সংশোধনের জন্য ১০০ এবং অন্যান্য তথ্য সংশোধনে ৫০ টাকা ফি নির্ধারিত রয়েছে। এছাড়া সংশোধনের পর সনদের কপি কোনো টাকা ছাড়াই বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষাতেই সরবরাহের কথাও বলা আছে।
কিন্তু ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১নং বালিথুবা (পশ্চিম) ইউনিয়ন পরিষদে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। এখানে জন্মসনদ সংশোধনের সরকারি ফি ৫০ টাকার পরিবর্তে ২০০-৩০০ টাকা নিচ্ছেন পরিষদের সচিব মো. খবির উদ্দিন। এর চেয়ে কম টাকায় কোনো কাজ করবেন না বলেও প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
ভুক্তভোগী চান্দ্রা বাজারের ব্যবসায়ী আরিফ হোসেন বলেন, জন্মসনদ সংশোধনে ইউপি সচিবের কাছে গেলে ৩০০ টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে কাজ করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন তিনি।
আরেক ভুক্তভোগী সকদিরামপুর গ্রামের এমদাদ পাঠান বলেন, জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের জন্য সরকারি ফি চেয়ে চারগুণ বেশি দিতে হয়েছে।
একই গ্রামের নাছির উদ্দিনও এ অনিয়মের শিকার। একই অভিযোগ ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীর মিজির। তিনি বলেন, দেশে যদি সব সরকারি সেবা নির্দিষ্ট ফি-তে পাওয়া যেতো, তবে এ দেশকে সোনায় মোড়ানো যেতো।
এলাকাবাসীর মতে, সচিব হিসেবে ইউপিতে খবির উদ্দিন যোগদানের পর থেকেই চলছে দুর্নীতি। এ নিয়ে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. শফিকুর রহমান পাটোয়ারীর কাছে অভিযোগ দিলেও কোনো প্রতিকার হয়নি।
বেশি ফি নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে ইউপি সচিব খবির উদ্দিন বলেন, কাজের চাপ বেশি হওয়ায় লোক ভাড়া করে কাজ করাতে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, কিছু ক্ষেত্রে জন্মসনদ সংশোধনের জন্য উপজেলা থেকে অনুমোদন আনতে হয়। অনুমোদনের কাজটি করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) ব্যক্তিগত সহকারী জাকির হোসেন। এজন্য তাকেও টাকা দিতে হয়।
তবে অভিযোগের ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে জাকির হোসেন কথা শেষ না করেই ফোন কেটে দেন।
এ ব্যাপারে ১নং বালিথুবা (পশ্চিম) ইউপি চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন স্বপন মিয়াজী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার আগে ৪০০-৫০০ টাকা নেওয়া হতো। এখন সেটা কমানো হয়েছে। যদিও সরেজমিনে তার কথার সত্যতা মেলেনি।
এ বিষয়ে ইউএনও শিউলি হরি জানান, জন্মসনদ সংশোধনের কাজে অতিরিক্ত ফি নেওয়ার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.