ফরিদগঞ্জে ৬ গ্রামের মানুষের জন্য বাঁশের সাঁকো আর কতকাল

ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৬টি গ্রামের মানুষের পারাপারের একমাত্র ভরসা বাঁশের সাঁকো। বর্ষা এলে দুর্ভোগ বাড়ে। স্কুল-কলেজের ছেলে-মেয়েরা চরম ভোগান্তিতে পড়ে। ঝড়বৃষ্টিতে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার বিপজ্জনক হয়ে পড়ে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, জাতীয় সংসদ, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আসলে নেতা আর কর্মীদের মুখে শুধু কথার ফুলঝুরি ফোটে। নির্বাচন শেষ হলে তাদের আর সাক্ষাৎ মিলে না। বছরের পর বছর শুধুই আশ্বাস আর আশ্বাস। চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার সুবিদপুর পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের উত্তরে সিআইপি বেড়িবাঁধ সংলগ্ন খালের উপর একটি সেতু নির্মাণের অভাবে এলাকাবাসী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে প্রতিনিয়ত যাতায়াত করছেন। ব্রিজ যে কবে নাগাদ হবে তা কেউ জানে না। গোবারচিত্রা- বদরপুর গ্রামের মাঝামাঝি সিআইপি খালের ওপর সেতু নির্মাণ এখনও ধোঁয়াশা। উপজেলার ৬টি গ্রামের প্রায় ১২ হাজার লোকের দীর্ঘদিনের দাবি এখানে একটি ব্রিজের। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিসহ সরকারের উচ্চমহলে বারবার ধর্না দিয়ে আশ্বাস মিললেও সেতু বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।
সেতু না থাকায় যাতায়াত, উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে আনা-নেয়া, অন্যান্য মালামাল বহনে ভোগান্তি ও অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে। শুধু বাঁশের একটি সাঁকো অত্র অঞ্চলের মানুষের একমাত্র ভরসা।
উপজেলার উত্তর- পূর্বাঞ্চলের ঘড়িহানা, চৌরাঙ্গা, গোবারচিত্রা, বদরপুর, মুকুন্দপুর ও বাছপাড় ছয় গ্রামের প্রায় ১২ হাজার লোকের যাতায়াতের একমাত্র পথ এ বাঁশের সাঁকো। জনগুরুত্বপূর্ণ ওই স্থানে আজও সেতু নির্মিত না হওয়ায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। ফলে কৃষিসমৃদ্ধ এই এলাকায় আজও তেমন আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি। এখানে একটি সেতু নির্মিত হলে শিক্ষার্থীসহ হাজার হাজার এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লাঘবের পাশাপাশি সময় ও অর্থের সাশ্রয় হবে।
বদরপুর গ্রামের ইউপি সদস্য মোস্তফাসহ অনেকে জানান, স্বল্প সময়ে জেলা ও উপজেলা সদর, মুন্সীরহাট জিএন্ডএ আলী উচ্চ বিদ্যালয়, মূলপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, মূলপাড়া সামছুদ্দিন খান কারিগরি ও বানিজ্য কলেজ, মুন্সীরহাট আই এইচ ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, মুন্সীরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বদরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বদরপুর নূরাণী মাদ্রাসা, মুন্সীরহাট বাজার এবং একতা বাজারে যাতায়াতে এলাকার লোকজন এ পথে চলাচল করে থাকে। এ ছাড়া কৃষিপণ্য আনা-নেয়াও করে থাকে।
তারা আরো জানান, এখানে সেতু না থাকায় উৎপাদিত পণ্য পারাপারের জন্য অতিরিক্ত টাকা গুনতে হয়। আবার সময়মতো বাজারে পৌঁছানো দুরূহ হয়ে উঠে। কত কষ্ট না দেখলে বুঝবেন না।
সুবিদপুর পশ্চিম ইউপি চেয়ারম্যান মো. মহসিন হোসেন জানান, গ্রামবাসীর একটি সেতুর জন্য দুর্ভোগের সীমা নেই। ইউনিয়ন পরিষদের এখতিয়ার না থাকায় ইচ্ছা থাকলেও সেতু তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published.