ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা ছাত্রলীগ রাখে : নুরদেরকে দেখিয়ে জয়

ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা ছাত্রলীগ রাখে : নুরদেরকে দেখিয়ে জয়
ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা ছাত্রলীগ রাখে : নুরদেরকে দেখিয়ে জয়

চাঁদপুর সময় রিপোট-ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরদের দেখিয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয় মন্তব্য করেছেন এসব নামসর্বস্ব সংগঠনকে ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে তাদের সংগঠন। আজ বুধবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বরে ছাত্রলীগের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের এক যুগ পূর্তি উপলক্ষে দুস্থ মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র ও স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন জয়।ঢাবির আবাসিক হল খুলে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে পরীক্ষা নেওয়ার দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে ছাত্র অধিকার পরিষদ। আজ বুধবার ১৫তম দিনে কর্মসূচি সাময়িক স্থগিত ঘোষণা করতে বিকেলে রাজু ভাস্কর্যে সমাবেশ ডাকে সংগঠনটি।ছাত্র অধিকার পরিষদের সমাবেশ দেখিয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি বলেন, ‘দেখুন, আমাদের ডান পাশে যাদের ছাত্র সমাবেশ হচ্ছে, সেখানে ২০ জন ছাত্রও নেই৷ কী দেউলিয়াত্ব ওই সংগঠনের! তাদের নেতাকর্মীরা ধর্ষণের মতো কর্মকাণ্ড করেন। জনপ্রিয়তা পেতে হলে জনগণ ও শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করতে হয়, কিন্তু তারা কাজ করেন টাকার জন্য৷ মুক্তিযুদ্ধের মহান শহীদদের নিয়ে তারা কটূক্তি করেন, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য অবমাননাকারীদের সহায়তা করার চেষ্টা করে এই নামসর্বস্ব সংগঠন। সবাইকে হুঁশিয়ারি করে বলতে চাই, ছাত্রলীগ কিন্তু মাঠে আছে৷ এসব নামসর্বস্ব সংগঠনকে ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা ছাত্রলীগ রাখে৷ আমরা কাজে বিশ্বাসী, কথায় নয়৷’তিনি বলেন, ‘আজকে ছাত্রলীগের সুনাম দেখে একটি পক্ষের গায়ে জ্বালা ধরে৷ অনেকেই নামসর্বস্ব সংগঠন নিয়ে ডানে-বামে ছাত্র সমাবেশ করেন, ২০ জনের মতো কর্মীও যাদের নেই৷ সেই সংগঠনের নাম বিক্রি করে তারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চান৷ তাদের উদ্দেশে বলতে চাই- জনপ্রিয় সংগঠন ছাত্রলীগ আপনাদের নিয়ে ভাবে না৷ আপনাদের মতো পুঁচকে, যাদের ২০টি নেতাকর্মীও নেই, যাদের জামায়াত-শিবির ও বিএনপির মদদপুষ্ট ছাত্রদলের সঙ্গে আঁতাত করে চলতে হয়, তাদের বাংলাদেশের মানুষ ও শিক্ষার্থীরা বয়কট করেছে৷’ছাত্রলীগের অনুষ্ঠানে সংগঠনটির সভাপতির বক্তব্য দেওয়ার পরপরই ছাত্র অধিকার পরিষদের সমাবেশে বক্তব্য দেন নুরুল হক নুর। তিনি ‘সহমত ভাই রাজনীতি, জিন্দাবাদ আর জ্বি ভাই রাজনীতি, ভেড়ার পালের মতো নেতার পেছনে ছোটা রাজনীতি—ছাত্ররাজনীতির নামে এসব অপরাজনীতি দিয়ে কোনো পরিবর্তন আসবে না৷’

স্থ্যবিধি মেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি বলেন, ‘হাট-বাজার, লঞ্চঘাট, অফিস-আদালত সবকিছুই পূর্ণোদ্যমে চলছে। তাহলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে সমস্যা কোথায়?’

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নুর বলেন, ‘শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে, শিক্ষা খাতে বাজেট বাড়াতে হবে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নোংরা রাজনীতি থেকে মুক্ত করতে হবে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দলীয় বিবেচনায় উপাচার্য নিয়োগ বন্ধ করতে হবে৷’তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ার দাবির সঙ্গে ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, ছাত্র অধিকার পরিষদ ও প্রগতিশীল ছাত্রজোট সবাই একমত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় এ দাবি উপেক্ষা করতে পারে না। তারপরও বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়া হচ্ছে না। নিশ্চয়ই এর পেছনে কিন্তু রয়েছে।ছাত্রলীগের অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য। এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী৷ এতে আরও বক্তব্য দেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের ত্রাণ ও দুর্যোগবিষয়ক সম্পাদক ইমরান জমাদ্দার৷অন্যদিকে ছাত্র অধিকার পরিষদের সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন- সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রাশেদ খাঁন, যুগ্ম-আহ্বায়ক ফারুক হোসেন, ঢাবি শাখার সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.