ফেরদৌসকে সাড়ে ৫ হাজার বর্গফুটের ফ্ল্যাট উপহার দিলেন কে?

কততম জন্মদিন, সে বিষয়ে কিছুই না জানালেও, দিনটিতে কী উপহার পেলেন, তা অকপট বললেন ‘হঠাৎ বৃষ্টি’খ্যাত চিত্রনায়ক ফেরদৌস। আজ মঙ্গলবার দুপুরে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানোর পর ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে ফেরদৌস বলেন, ‘আজ একটি অসাধারণ উপহার পেয়েছি। এটা একেবারেই অবাক করার মতো। আর উপহারটি পেয়েছি আমার স্ত্রীর কাছ থেকেই।’

ফেরদৌসের স্ত্রী তানিয়া আহমেদ বাংলাদেশ বিমানের পাইলট। ২০০৪ সালের ৯ ডিসেম্বর বৈমানিক তানিয়ার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন দুই বাংলার জনপ্রিয় নায়ক ফেরদৌস। তাঁদের ঘরজুড়ে এখন ছোটাছুটি করে দুই মেয়ে নুজহাত ও নামিরা। চিত্রনায়ক স্বামী ফেরদৌসের জন্মদিন ঘিরে বরাবরই বৈমানিক স্ত্রী তানিয়ার ভিন্ন রকম পরিকল্পনা থাকে। আর এখন এই পরিকল্পনায় যোগ দেন দুই মেয়েও। মেয়েরা বাবার জন্য পছন্দের নানান খাবার তৈরি করেন। বাবা ফেরদৌসও ভীষণ আনন্দ পান। তবে এবার আনন্দ নয়, একটা অবাক করা ঘটনা ঘটিয়েছেন বৈমানিক স্ত্রী। দুপুরে ফেরদৌসকে নিয়ে যান একটি অফিসে। যেখানে গিয়ে ফেরদৌস জানতে পারেন, তাঁকে এবারের ঈদে সাড়ে পাঁচ হাজার বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট উপহার দিচ্ছেন তানিয়া। স্ত্রীর কাছ থেকে এমন উপহার পেয়ে অবাক হয়েছেন বলে জানান ফেরদৌস।

 ফেরদৌসকে-সাড়ে-৫-হাজার-বর্গফুটের-ফ্ল্যাট-উপহার-দিলেন-কে

জানা গেছে, বনানী ডিওএইচএস এলাকায় ফেরদৌসকে নতুন এই ফ্ল্যাট উপহার দিয়েছেন তাঁর স্ত্রী তানিয়া ফেরদৌস। প্রথম আলোকে ফেরদৌস বলেন, ‘বিয়ের পর থেকে সব সময় কোনো না কোনোভাবে এই দিনে আমাকে চমকে দেয় তানিয়া। তবে এবারেরটা ধারণার বাইরে। নিঃসন্দেহে এটা ভীষণ আনন্দের সংবাদ। সবার কাছে আমাদের জন্য দোয়া চাই। আমরা যেন একে অপরকে চমকে দিয়ে জীবনটা পার করে দিতে পারি।’

চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক ফেরদৌস ছোটবেলায় কখনোই ভাবেননি রুপালি পর্দায় কাজ করবেন। মা–বাবাও চাইতেন না তাঁদের ছেলে সিনেমায় কাজ করুক। আর ফেরদৌসের স্বপ্ন ছিল বৈমানিক হয়ে আকাশপথে ওড়াউড়ি করবেন। স্বপ্ন পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নেওয়া শুরু করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিভাগে পড়ার সময়ই ভর্তি হন ফ্লাইং ক্লাবে। কিন্তু একটা সময় পড়াশোনা শেষ করে নাম লেখান ঢাকাই চলচ্চিত্রে। প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘হঠাৎ বৃষ্টি’র কল্যাণে দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়ে যান ফেরদৌস। এরপর শুধু সামনের দিকে এগিয়ে চলা। ফেরদৌসের ওড়াউড়ির স্বপ্নটা পূরণ না হলেও জীবনসঙ্গী যে ওড়াউড়ি পেশায় আছে, এটা তাঁর ভীষণ রকম ভালো লাগার বলেও জানান।

জন্মদিন প্রসঙ্গে ফেরদৌস বলেন, ‘সাধারণত জন্মদিন খুব একটা পালন করি না আমি। দিনটাতে পরিবার, বন্ধুবান্ধব নিয়ে থাকাই আমার পছন্দ। যখন বুঝতে শুরু করলাম, তখন স্কুল-কলেজের বন্ধুরা খুব বাসায় আসত। ওরা বড় করে বন্ধুর জন্মদিন পালন করত। খুব মজা করত। দেখা যেত, যাদের সঙ্গে এক বছর দেখা নেই, তারাও আমার জন্মদিনে উপস্থিত। সিনেমায় এসে অনেকে যেমন বড় আয়োজনে জন্মদিন পালন করেন, আমার তা–ও হয়নি। বরাবর পরিবার আর বন্ধুবান্ধব নিয়েই আমি থেকেছি। ইদানীং আমার দুই মেয়ে বাবার জন্মদিন নিয়ে খুব আগ্রহী। কেক কাটবে, মাসের প্রথম দিন থেকে বিভিন্ন ধরনের কার্ড বানাবে। এসব আমি খুব উপভোগ করি। জন্মদিনে আমি কখনোই কোনো কাজ রাখি না। পরিবার ও বন্ধুবান্ধবদের এই দিনে কোনোভাবেই মিস করতে চাই না।’

ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর হিসাব কষলে ‘দোলা’ ফেরদৌসের প্রথম ছবি। এ ছবিতে তিনি ওমর সানীর ডামি শট দিয়েছিলেন। ফেরদৌস সেদিনের কথা মনে করে বলেন, ‘সানী ভাই প্লেন চালাতে পারবেন না। তো “দোলা” ছবিতে সানী ভাইয়ের প্লেনের ভেতরের যতগুলো শট ছিল, সব কটিতেই ছিলাম আমি। আমাকে দেখা না গেলেও আমার হাত, আমার কাঁধ সবই দেখা গেছে। এটা এত দিন কেউ জানতেন না। সেই সুবাদে পরিচালক দিলীপ সোমের সঙ্গে আমার একটা বন্ধুত্ব তৈরি হয়।’
১৯৯৬ সালে ‘পৃথিবী আমারে চায় না’ ছবির মধ্য দিয়ে নায়ক হিসেবে প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান ফেরদৌস। এরপরের ছবিটি ছিল ‘বুকের ভেতর আগুন’। এটি ছিল সালমান শাহর অসমাপ্ত ছবি। ‘পৃথিবী আমারে চায় না’ ছবির জন্য ফেরদৌসকে ২৫ হাজার টাকা পারিশ্রমিক দেওয়া হয়েছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *