সিসিব্লকে তলা ফাঁটার আশঙ্কায় চাঁদপুর হরিণা ফেরীঘাটে চালকদের দুর্ভোগ

মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে রক্ষায় চাঁদপুর হানারচর ইউনিয়নের হরিণা ফেরীঘাটে পানি উন্নয়ন বোর্ড সিসি ব্লক ও জিওব্যাগ ভর্তি বালু ফেলে সংরক্ষণ কাজ করেছে। নদী তীরবর্তী সিসি ব্লকে চাঁদপুর-শরিয়তপুর রূটে চলাচলরত বড় ফেরী গুলো আটকে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, সিসি ব্লকে আটকে গিয়ে ফেরীর তলা ফেটে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে ১০ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিআইডব্লিটিসি হরিণাঘাট ম্যানেজার (কমার্স) আব্দুন নূর তুষার জানান, চাঁদপুর-শরিয়তপুর রূটে ৬টি ফেরী গাড়ি পারাপার করছে। সবগুলোর কে-টাইপের ফেরী। আমরা চেষ্টা করছি এ ফেরীগুলো দিয়েই গাড়ি পারাপার স্বাভাবিক রাখতে। এমনকি জোয়ারে ঘাটে যাতে গাড়ি পারাপারে সমস্যা না হয় সেজন্য আমরা হাই ওয়াটার ঘাট কিছুদিন পূর্বেই চালু করেছি। ফেরীর যেকোন সমস্যা মনিটরিংয়ে আমরা অর্পিত দায়িত্ব পালনে অঙ্গিকারবদ্ধ।

জানা যায়, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় ২৫টি জেলার গুরুত্বপূর্ণ নৌরূট হচ্ছে চাঁদপুর-শরিয়তপুরের এই ফেরিঘাট। নির্মাণাধীন পদ্মা সেতুর পিলারে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে তিনটি ফেরি আঘাত করার ঘটনায় মাওয়া ঘাটে পদ্মা সেতুর নিচ দিয়ে ভারি যানবাহনবাহী ফেরি চলাচল করতে পারবে না। এমন সিদ্ধান্তে অতিরিক্ত গাড়ির চাপ, নদীর প্রচন্ড স্রোতে ফেরি ঘাটের পন্টুন সরানোর কাজ করার কারণে যানবাহন পারাপার ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া অতিরিক্ত স্রোতের কারণে কাঠালবাড়ী-মাওয়া নৌ-রূটে যানবাহন পারাপার বন্ধ থাকায় দৌলতদিয়া ঘাট প্রান্তে ঢাকামুখী যানবাহনের অতিরিক্ত চাপও রয়েছে। এতে করে সর্বদিকের চাপ যাচ্ছে চাঁদপুর-শরিয়তপুরের ফেরীঘাটে।

এ ব্যাপারে চাঁদপুর পওর উপ-বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নকিব আল হাসান বলেন, হরিণা ফেরীঘাট এলাকাটি প্রতিরক্ষার কাজ চলমান রয়েছে। সেখানে ঢাকার ডিজাইনে এলাকাটি প্রতিরক্ষার কাজে সিসি ব্লক ও বালুভর্তি জিও ব্যাগ রাখা হয়েছে। এলাকাটি প্রতিরক্ষায় ডিজাইন বদলানোর সুযোগ নেই। তবে এই ঘাটে ফেরী চলাচল স্বাভাবিক রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে কার্যক্রম সঠিকভাবে করতে সংশ্লিষ্ট সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে সমন্বিত পরিকল্পনা হাতে নিচ্ছেন।

বিআইডব্লিউটিএ প্রকৌশল বিভাগ চাঁদপুর ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আমজাদ হোসেন বলেন, ফেরীতে গাড়ী পারাপার সেবা সহজতর করতে রো রো ফেরীঘাট করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কাজে পূর্বের ঘাটগুলোর সাথে হরিণাঘাটে ১টি এবং শরিয়তপুরের আলুবাজারে নতুন করে আরো ১টিসহ মোট ২টি ঘাট করা হবে। ইতিমধ্যে আমরা ঘাট নির্ধারণে জায়গা পরিদর্শন শেষ করেছি। কাজটি করতে পারলে চালকসহ সকলে এর সুফল পাবে বলে আশা করছি।

এদিকে শরিয়তপুরের নরসিংহপুর ফেরীঘাটের ইজারাদার প্রতিনিধি রতন খালাশী এবং চাঁদপুর হরিণাঘাট ইজারাদার প্রতিনিধি জসীম ঢালী বলেন, মাওয়া-শিমুলিয়া ফেরীঘাট বন্ধের কারনে চাঁদপুর-শরিয়তপুর রূটে চলাচলকারী ফেরীতে যানবাহন পারাপারের চাপ বেড়েছে। আর এই চাপ বেড়ে যাওয়ায় আরো ফেরীর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে নজর দিলে পারাপারে অপেক্ষারত গাড়ী চালকদের ভোগান্তি অনেকটা কমবে। তাছাড়া কাবেরী ফেরী বাদে বাকি ফেরীগুলো গাড়ীর লোড বইতে হীমশিম খাচ্ছে। তাই এ বিষয়ে বড় ফেরী প্রয়োজন বলে আমরা মনে করছি।

এদিকে ফেরী চালকদের পক্ষে কাবেরী ফেরীর ইনচার্জ আব্দুর রব বলেন, ফেরীর ধারণ ক্ষমতার বাইরে যানবাহব লোড করার সুযোগ নেই। এক্ষেত্রে জাহাজের চালকসহ সংশ্লিষ্ট সকলে সব সময় সতর্ক থাকে।

স্টাফ রিপোর্টার

Leave a Reply

Your email address will not be published.