বালিয়ায় জেলেদের চাল বিতরণে অনিয়মে তদন্ত

চাঁদপুর প্রতিনিধি চাঁদপুরে সদর উপজেলার ৯নং বালিয়া ইউনিয়নে জাটাকা রক্ষায় জেলেদের মাঝে বিকল্প খাদ্য সহায়তা হিসেবে চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করেছে উপজেলা প্রশাসন। সরকারি নিদের্শনা উপেক্ষা করে চাল কম দেয়া এবং প্রত্যেক জেলেদের কাছ থেকে ২শ’ টাকা করে আদায়ের অভিযোগটি ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে বলেও জানা গেছে।

এ বিষয়ে চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা শাহনাজ জানান, জেলেদের চাল কম দেয়া এবং টাকা নেয়ার বিষয়টি আমাদের জেলা প্রশাসক স্যার এবং আমি অবগত হয়েছি। পরবর্তীতে ডিসি স্যারের নির্দেশে বিষয়টি তদন্ত করার জন্যে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তিনি ইতোমধ্যে তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দিয়েছেন।

তিনি আরো জানান, সরকার পরিবহন খরচ বহন করার পরেও এইভাবে জেলেদের কাছ থেকে টাকা নেয়াটা অনিয়মের মধ্য পরে। অভিযোগ প্রমানিত হলে আমরা বিষয়টি বিভাগীয় উর্ধতন কতৃপক্ষকে জানাবো।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা সহকারি মৎস্য কর্মকর্তা মাহাবুব রশীদ জানান, আমাদের সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন এবং এই ঘটনায় জড়িত মেম্বাররা অভিযোগ স্বীকার করেছেন। আমরা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কাছে আমাদের তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করেছি।

এদিকে ৭ মার্চ তৃতীয় ধাপেও বাকি ৫টি ওয়ার্ডে চাল বিতরনে জেলেদের কাছে ২শ’ টাকা করে আদায় করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পূর্বের মতো কম চালও কম দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এ নিয়ে জেলেদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
উল্লেখ্য : জাটকা ইলিশ রক্ষায় সরকার বিকল্প খাদ্য সহায়তা হিসেবে নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে বিনামূল্যে চাউল বিতরণ করছে। নিষেধাজ্ঞার সময় জাটকা নিধন না করার শর্তে প্রত্যেক জেলেকে ২ মাসে ৪০ কেজি করে মোট ৮০ কেজি চাল দেয়ার কথা। গেল কয়েক বছর ধরে ২ মাসের ৮০ কেজি চাল একসাথে দেয়া হচ্ছে। চাঁদপুর সদর উপজেলার ৯নং বালিয়া ইউনিয়নের জেলেদের অভিযোগ, তাদের ৮০ কেজি করে চাল দেয়ার কথা থাকলেও দেয়া হচ্ছে ৭০ থেকে ৭২ কেজি করে। বস্তাগুলো বোঙা দিয়ে ফুটো করে চাল কমিয়ে ফেলা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রত্যেক জেলের কাছ থেকে আগ্রিম ২শ’ টাকা করে নেয়া হয়েছে।

ক্ষুব্ধ জেলেরা আরো বলেন, দুই মাস নদীতে মাছ না ধরার শর্তে সরকার তাদের খাদ্য সহায়তা হিসেবে বিনামূল্যে চাল দিচ্ছে। আর বাকি সবকিছুই তাদের কিনে খেতে হয়। অথচ এর পরেও চাল কম দেয়া এবং বিনিয়মে টাকা নেয়াটা জুলুমের মধ্যেই পরে।
টাকা নেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে ২ নং ওয়ার্ডের মেম্বার জাহিদ হোসেন খান বলেন, সবার কাছ থেকে টাকা নেইনি। কিছু কিছু জেলের কাছ থেকে টাকা নিয়েছি। তবে কারো থেকে ২শ’ টাকা, আবার কারো থেকে ১শ’ টাকা করে নেয়া হয়েছে। চাউল উঠানোর পরিবহন খরচ পোষাতেই এই টাকা নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

বালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল্যা পাটোয়ারি চাউল কম দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ৭৮১ জন নিবন্ধিত জেলের জন্যে ৬৩ টন চাউল বরাদ্দ পেয়েছি। কিন্তু গোডাউন থেকে সঠিক পরিমাণে চাউল পাওয়া যায় না। আর লেবারকে টাকা না দিলে তারা মাল লোড করে না। তাছাড়া প্রতিটি বস্তার ওজন প্রায় ১কেজি। এসব কারনে কিছু চাল কম হয়। সরকারি ভাবে পরিবহন বাবদ যে খরচ দেয়া হয় তাও অনেক কম।

জেলেদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আমি অভিযোগ পেয়েছি যে অনেক জেলের কাছ থেকে মেম্বাররা ২শ’ টাকা করে নিয়েছে। এটি কোন মতেই ঠিক হয়নি। আমি পরিস্কারভাবে মেম্বারদের বলে দিয়েছি, যাতে তাদের টাকা ফিরিয়ে দেয়া হয়। শুধু ফিরিয়ে দিলেই হবে না, তাদের টাকা বুঝে পাওয়ার স্বাক্ষর এনে আমাকে দেখাতে হবে। কোন মেম্বারের অনিয়মের দায় আমি নেব না।

Leave a Reply

Your email address will not be published.