বায়ু দুষণ থেকে রক্ষা করতে হবে

কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম জুয়েল এ শহরের চারপাশে রয়েছে প্রচুর ইটভাটা। তা ছাড়া শহরের ভেতরে ও চারপাশে অজস্র কলকারখানা থেকে দিনরাত দূষণকারী উপাদান বায়ুম-লে ছড়ায়।
বোঝাই যাচ্ছে বায়ুদূষণের পেছনে অনেকগুলো কারণ রয়েছে। ফলে এই সমস্যা সমাধানে একটি সামগ্রিক চিন্তা ও পরিকল্পনা জরুরি। সরকারের বিভিন্ন বিভাগ ও কর্তৃপক্ষ সমন্বিতভাবে কোনো উদ্যোগ নিতে না পারলে পরিস্থিতি সামনের দিনগুলোতে ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।
বলার অপেক্ষা রাখে না, দূষিত বায়ু জনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। বাতাসে মিশ্রিত সালফার, সিসা, দস্তা ইত্যাদি ধাতুকণা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর; বিশেষত শিশুদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রাকৃতিক পরিবেশ দূষণের ক্ষতিকর প্রভাবের ফলে বছরে যত মানুষের মৃত্যু ঘটে, তার দুই-তৃতীয়াংশই বায়ুদূষণের ফলে। বায়ুদূষণের কারণে হৃদরোগ, শ্বাসকষ্টজনিত জটিল সমস্যা, ফুসফুসে সংক্রমণ ও ক্যানসার হয়। বিশেষত শিশু ও গর্ভবতী নারীদের স্বাস্থ্যের ওপর বায়ুদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব প্রকট।
সমন্বিত পদক্ষেপ না নিলে বায়ুদূষণ কমানো সম্ভব নয়। ঢাকার চারপাশের ইটভাটাগুলোর পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহার নিশ্চিত করার দায়িত্ব পরিবেশ অধিদপ্তরের, রাস্তাঘাট খোঁড়াখুঁড়ি ও অন্যান্য নির্মাণকাজের সময় ধুলা ওড়ানো বন্ধ করার ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বাধ্য করার দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের। এসব দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা হলে বায়ুদূষণের মাত্রা অবশ্যই কমানো সম্ভব। সেজন্য সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের দায়িত্ববোধ অপরিহার্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published.