শাহরাস্তি দোয়াভাঙ্গা থেকে স্থাপনা সরিয়ে নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা

শাহরাস্তি আঞ্চলিক মহাসড়ক যানজটমুক্ত করতে রাস্তার পাশে অবৈধ স্থাপনা অপসারণে প্রশাসনের নির্দেশের পর ব্যবসায়ীরা নিজ উদ্যোগে তা সরিয়ে নিয়েছেন। রাস্তার পাশে পর্যাপ্ত জায়গা খালি হওয়ায় রোববার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল হতেই পাল্টে গেছে এখানকার চিরচেনা রূপ। রাস্তায় গাড়ি ও সিএনজি চালিত অটোরিক্সার শৃঙ্খলা ফিরে আসায় যানজটমুক্ত হয়েছে ব্যস্ততম এ এলাকা। রোববার সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৮০ ভাগ স্থাপনা সরিয়ে নেয়া হয়েছে। আগামী ২/১ দিনের মধ্যে সকল স্থাপনা সরিয়ে নেয়া হবে বলে জানিয়েছে ব্যবসায়ীরা।

এদিকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে স্থাপনা সরিয়ে নেয়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিরীন আক্তার।

জানাগেছে, চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের অন্তর্গত শাহরাস্তি গেইট এলাকায় রাস্তার দু’ পাশে ২শতাধিক অবৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠায় প্রতিনিয়ত সড়কে যানজট লেগে থাকতো। সড়ক ঘেঁষে গড়ে উঠা এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও অবৈধ দখলের ফলে মূল সড়কের উপর দিয়েই বাস স্টপেজ, সিএনজি ও ব্যটারী চালিত অটোরিকশা স্ট্যান্ড এবং পথচারীদের চলাচল করতে হতো। ফলশ্রুতিতে মহাসড়ক ও উপজেলার প্রধান সড়কে যানজটের কারনে জনদূর্ভোগ বেড়ে যায়।

শাহরাস্তি মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আবদুল মান্নান গত রোববার (২৯ আগস্ট) দুপুরে এসব স্থাপনা অপসারণের জন্য ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলেন ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে স্থাপনা সরানোর অনুরোধ করেন।

পরবর্তীতে (৩১ আগস্ট) মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫ টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিরীন আক্তার এসব স্থাপনা অপসারণের জন্য ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলেন ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে শনিবার (৪ আগস্ট) পর্যন্ত স্থাপনা সরানোর সময় বেঁধে দেন। যার প্রেক্ষিতে ব্যবসায়ীরা নিজ উদ্যোগে এসব স্থাপনা সরিয়ে নিতে শুরু করেন।

স্থানীয় এলাকার বাসিন্দা হোসাইন রবিন জানান, দোয়াভাঙ্গা এলাকার পরিবেশ দেখে খুব ভালো লাগছে। এই পদক্ষেপের এখানকার নিত্য সমস্যা যানজট নিরসন হবে।

শাহরাস্তি মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আবদুল মান্নান ফোকাস মোহনাকে বলেন, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ব্যবসায়ীরা অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেয়ায় তাদের সাধুবাদ জানাই। দোয়াভাঙ্গা এলাকা অবৈধ দখলমুক্ত করা এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার ফলে যানজট নিরসন হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিরীন আক্তার বলেন, অবৈধ দোকান সরিয়ে নেয়ায় যেসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের আর্থিকভাবে সহায়তা করা হবে। তিনি আরও জানান, সরকারি জায়গা দখলমুক্ত হবার পর পুনরায় যাতে দখল না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা হবে। এখানকার যানজট নিরসনে স্থায়ী পরিকল্পনা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.