ভাংচুর আতংকে চাঁদপুর সিয়াইপি বাঁধের ব্যাবসায়ীরা পাউবোর নোটিশ উচ্ছেদ সাময়িক স্থগিত

ভাংচুর আতংকে চাঁদপুর সিয়াইপি বাঁধের ব্যাবসায়ীরা পাউবোর নোটিশ উচ্ছেদ সাময়িক স্থগিত
ভাংচুর আতংকে চাঁদপুর সিয়াইপি বাঁধের ব্যাবসায়ীরা পাউবোর নোটিশ উচ্ছেদ সাময়িক স্থগিত

মোঃ মাহফুজ উল্যাহ খান-চাঁদপুরের সেচ প্রকল্প সিআইপি বেড়িবাঁধ এবং পাউবোর খাল সংলগ্ন দোকান ও স্থাপনা সরানোর নোটিশ দিয়েছে পাউবো চাঁদপুর।
ফলে উচ্ছেদ আতংকে রয়েছে স্থাপনা মালিক ও ব্যাবসায়ীগন। উচ্ছেদের নামে পুনঃদখলের পায়তারা চলছে বলে অনেকের আশংকা। অভিযোগ রয়েছে, সরকার দলিয় রাজনৈতিক চাপে এমন উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে পাউবো, করনা ও মানবিক বিবেচনায় উচ্ছেদ স্থগিত করতে আহবান জানাচ্ছেন সূধীসমাজ ও ব্যাবসায়ীগন।
জানা যায়, চাঁদপুর সদর বাগাদী চৌরাস্তা বাজার, ঢালীরঘাট বাজার, নানুপুর ও পশ্চিম সকদীতে উচ্ছেদ আতংকে আছে ব্যাবসায়ী ও স্থাপনা মালিকগন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সিআইপি খালের পাড়ে বেড়ীবাঁধ সংলগ্ন ৬৫ মাইল এরিয়ায় অসংখ্য বাজার রয়েছে। বাজারে অসংখ্য দোকান পাকা, সেমিপাকা ও কাঁচাপাকা। এসব দোকান একদিনে কিংবা এক বছরে গড়ে উঠেনি। এই বাজারগুলোর পরিচিতি সুনাম তৈরী হয়েছে দীর্ঘ দিনে।
এক সময় অবৈধভাবে সরকারী সম্পদে স্থানীয় জনগন নিজ নিজ সুবিধা অনুসারে দোকানপাট তৈরী করলেও পরবর্তীতে এসবের ক্ষেত্রে সরকার প্রদত্ত নীতিমালা অনুসরন করেই তৈরী করা হয় এবং সরকারের নির্দিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমেই তা নিয়ন্ত্রিত হয়ে আসছে। এমনকি সরকারের নির্দিষ্ট দপ্তরে এর লীজ সংক্রান্ত তথ্য জমাসহ নির্দিষ্ট একটা বাৎসরিক ফি ও জমা দেওয়া হয়। তথ্য অনুযায়ী এসব স্থাপনা সম্পুর্ন অস্থায়ী সময়ের জন্য লীজের শর্তে বলা থাকে যে সরকার যখনই এইসব স্থাপনা প্রয়োজনে উচ্ছেদের ইচ্ছা করবে তখনই তা বাস্তবায়নের অধিকার সংরক্ষণ করে।

সরকারী সম্পদে এমনটাই আইন থাকলেও অবস্থান করা কোন প্রতিষ্ঠান কে উচ্ছেদ করার অধিকারের চেয়ে উচ্ছেদের প্রয়োজনীয়তা ও পূনর্বাসনের বিষয় খুবই গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। এই উচ্ছেদের প্রয়োজন ও পূনর্বাসনের বিষয়ে কোন চিন্তা ভাবনা সরকারের থেকে থাকলে তা সংশ্লিষ্ট জনগন ব্যাবসায়ী মহলকে অবহিত করা উচিত।
ইতিমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড মৌখিক নোটিশ, মাইকিং ও গত ২৯মার্চ লিখিত নোটিশের মাধ্যমে জানিয়েছেন। নিজ দায়িত্বে সরিয়ে নেয়ার সময়ের শেষদিন নোটিশ বিলি করায় অবাক হয়েছেন ব্যাবসায়ীরা। ইচ্ছেকৃতভাবে ব্যাবসায়ীদের ক্ষতিগ্রস্থ করার চেষ্টা করছে পাউবো এমন অভিযোগ অনেকের।

অভিজ্ঞমহল মনে করেন, শুধু সরকার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় সরকার প্রশাসন সহ সরকার দলীয় পদস্থ ব্যাক্তিগনকে খুশি করার জন্য কোন বিশেষ প্রয়োজন ব্যাতীত শুধুমাত্র দখলমুক্ত কিংবা দখল নবায়নের কিংবা কোনরূপ ভিন্ন চিন্তায় যেন এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা না হয়।

কেউ কেউ এ উচ্ছেদকে জানজট বা রাস্তা অবমুক্তকরণ করতেই এ উচ্ছেদ বলছেন, সেক্ষেত্রে রাস্তাঘাটের জানজট সৃস্টির কারন হিসেবে ফুটপাত কিংবা রাস্তায় কোন পরিবহন স্টপেজ থাকলে সেগুলোর ব্যাপারে স্থানীয় বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটিকে নির্দেশ করলে তারা অবশ্যই সেগুলো উচ্ছেদের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে মনে করেন।

সচেতনমহলের ধারণা, করোনা মহামারীর কারনে সৃস্ট ব্যাবসায়ীক মন্দা যখন বিশ্বময় তখন এই সংকটময় সময়ে গ্রামগঞ্জের ছোটখাট ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানগুলো, যেগুলোতে সাধারণতঃ দরিদ্র গ্রামঞ্চলের মানুষের জীবনধারনের নূন্যতম নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী খুচরা বিক্রয় করা হয়। সামান্য পুঁজির ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ীদেরকে পথে বসানোসহ সম্পূর্ণ নিঃস্ব করার এমন প্রয়োজনে উচ্ছেদ কাম্য নয়। আতংকিত গ্রাম্যবাজারের ব্যাবসায়ী ও ঘর মালিকগনকে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা না করার সংবাদ দিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড আসস্থ করবেন, এমনটাই আশা করছেন তারা।

উচ্ছেদের সংবাদে ইতোমধ্যেই এলাকাগুলোতে ব্যাপক গুঞ্জন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা লেখা চোখে পড়ছে। সরেজমিন, বিভিন্ন বাজারে ব্যাবসায়ীদেরকে দোকান পাট খালি করে মালামাল বাড়ি ঘরে নিয়ে যেতে দেখা যায়।

ইতোমধ্যেই ব্যাবসায়ীদের পক্ষে সুপারিশের নামে অজ্ঞাত লোকেরা ব্যাবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা পয়সা নিয়েছে বলে সূত্রে জানা যায়।

গত ৩০মার্চ উচ্ছেদের কথা থাকলেও উচ্ছেদ কার্ক্রম শুরু করেনি পানি উন্নয়ন বোর্ড। মৌখিক ভাবে জানাযায়, সাময়িক ভাবে উচ্ছেদ কর্মসূচী স্থগিত করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এ ব্যাপারে পাউবোর কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সচেতন মহল মনে করছেন, এসকল ব্যাবসায়ীদেরকে স্থায়ী বন্দোবস্তের আওতায় নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের রাজস্ব বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.