ভেজাল বন্ধে চাই আইনের যথাযথ প্রয়োগ

কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম জুয়েল ভেজালকারীরা মূলত একটা লক্ষ্য সামনে রেখে এসব কাজ সবার চোখের সামনে প্রতিনিয়ত করে যাচ্ছেন। তা হলো অধিক মুনাফা। এটাই তাদের প্রধান ও একমাত্র লক্ষ্য। কিন্তু তাদের অধিক মুনাফার লালসার কারণে অপূরণীয় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সব মানুষ। অবশ্য এসব বিষয় নিয়ে বিচলিত হওয়ার সামান্যতম অবকাশ নেই তাদের। এই লোভে অসাধু এসব ব্যবসায়ী জনসাধারণের হাতে প্রকারান্তরে বিষ তুলে দিচ্ছে। যা আমরা বুঝেও বুঝি না। অথচ তারাও কি বোঝে এই ভেজালের নেতিবাচক প্রভাব থেকে মুক্ত নয় তাদের সন্তানরাও! ভেজাল খাদ্যে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি নানাভাবে।
আর সে পরিসংখ্যান রীতিমতো পিলে চমকানো। গত দুই দশকে আমাদের চিকিৎসক ও পুষ্টিবিশেষজ্ঞরা বারবার ভেজাল খাদ্য বিষয়ে তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়ে এলেও কর্ণপাত করছেটা কে?

যদিও তথ্যটা ভয়ানক হলেও সত্য। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভেজাল পণ্য ও খাদ্যদ্রব্যে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহারে মানুষের মৃত্যুহার দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে খাদ্যে ভেজালজনিত বেশ কয়েকটি রোগ আমাশয়, অ্যাপেনডিক্স, রক্তচাপ, হৃদরোগ ও কিডনি রোগ আর ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুহার উদ্বেগজনকহারে বাড়ছে। এসব রোগে মানুষের মৃত্যুহার বেড়ে যাওয়ার পরিসংখ্যান সত্যিই উদ্বোগজনক। সবার জন্যই ভয়ানক। কিন্তু এতসব তথ্যের মধ্যেও খাদ্যে ভেজাল দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে বল্গাহীনভাবে। যা দিনকে দিন নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ছে। আর এই নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ার মূলত একটাই কারণ। সহজ কথায় আইনের যথাযথ প্রয়োগের অভাব। আইন আছে কিন্তু নেই এর সঠিক প্রয়োগ।

আইন থাকলেও আইনের যথাযথ প্রয়োগ না করা। এসব কারণে ভেজালকারীরা মূলত খাদ্যে ভেজাল মেশাতে সাহস পাচ্ছেন। রমজান মাসে যা হয় মাত্রাতিরিক্ত। অথচ প্রশাসনের সঠিক আর কার্যকর উদ্যোগ এবং সবার একটু সচেতনতাই পারে আমাদের এসব বিষ থেকে মুক্ত রাখতে। তাই আর পেছনে ফিরে না তাকিয়ে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে এখনই। কারণ এর সঙ্গে জড়িত মানুষের জীবন। জড়িত ভবিষ্যৎ প্রজন্মের, ভবিষ্যৎও।

Leave a Reply

Your email address will not be published.