এখন পর্যন্ত কেউ জানেন না যে কে আসল ‘মঞ্জুলিকা’

বৈশাখের তপ্ত দুপুর। টি-সিরিজের কার্যালয়ে কলাপাতা রঙের প্যান্ট আর কোট পরে এলেন বলিউড নায়িকা কিয়ারা আদবানি। আর তার সঙ্গে ছড়িয়ে দিলেন যেন একমুঠো হিমেল হাওয়া। প্রথম আলোর সঙ্গে কিয়ারার এদিনের এই আড্ডার শুরুতেই উঠে এল সালমান খানের ঈদের পার্টির কথা। এক ঝলমলে হাসি হেসে তিনি বলেন, ‘দারুণ মজা করেছি। খুব ভালো পার্টি ছিল। অনেক দিন পর দারুণ লাগল।’
বড় পর্দায় ২০ মে মুক্তি পেতে চলেছে কিয়ারা আদবানি অভিনীত ছবি ‘ভুল ভুলাইয়া ২’। আনিস বাজমি পরিচালিত এই ছবিতে তাঁর সঙ্গে আছেন কার্তিক আরিয়ান, টাবু, রাজপাল যাদব, সঞ্জয় মিশ্রসহ আরও অনেকে। এর আগে ‘ভুল ভুলাইয়া’ ছবিতে দেখা গেছে অক্ষয় কুমার, বিদ্যা বালান, আমিশা প্যাটেল ছাড়া অনেককে। সংগত কারণে ‘ভুল ভুলাইয়া ২’ ছবির ঘোষণার পর থেকে কিয়ারার সঙ্গে বিদ্যার ক্রমাগত তুলনা টানা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে কিয়ারার মন্তব্য, ‘“ভুল ভুলাইয়া” জনপ্রিয় ছবি ছিল। আর “ভুল ভুলাইয়া ২” এর ফ্র্যাঞ্চাইজি। তাই স্বাভাবিক নিয়মে তুলনা উঠে আসবে। সব ফ্র্যাঞ্চাইজির ক্ষেত্রে এটা হয়। তবে আপনারা শুধু এই ছবির ট্রেলার দেখেছেন। তাই এখন পর্যন্ত জানেন না যে কে আসল ‘মঞ্জুলিকা’।

এই ছবির সব চরিত্রে আলাদা শেডস আর ব্যক্তিত্ব লুকিয়ে আছে। আমার চরিত্রের ক্ষেত্রেও তাই। “ভুল ভুলাইয়া ২” দেখার পর এই তুলনা টানা বন্ধ হবে বলে মনে হয়।’
কিয়ারাকে শেষ দেখা গেছে আমাজন প্রাইম ভিডিওর ‘শেরশাহ’ ছবিতে। এই ছবিতে ‘ডিম্পল চিমা’র চরিত্রে সবার নজর কেড়েছেন তিনি। তাঁর অভিনীত চরিত্রটি ছোট হলেও জোরদার ছিল। ‘শেরশাহ’ ছবির প্রসঙ্গ উঠতে কিয়ারা বলেন, ‘আমার মনে হয় কোনো ছবির ক্ষেত্রে পর্দায় আপনার উপস্থিতি কতক্ষণ, তা দেখা উচিত নয়। আপনার দেখা উচিত যে এই স্বল্প সময়ের মধ্যে আপনি সবার মনে দাগ কাটতে পারছেন কি না। আপনার চরিত্রটা ছবির জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় ছবিজুড়ে থেকেও দর্শকের মনে জায়গা পাওয়া যায় না। আমার মনে হয় পুরুষ শিল্পীদেরও এই বিষয়ে খোলা মন রাখা উচিত। নারীকেন্দ্রিক ছবিতে যদি স্বল্প উপস্থিতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে, এমন চরিত্র তাদের করা প্রয়োজন।’

অনেকে মনে করেন ‘কবির সিং’ ছবিটি কিয়ারার জীবনের মোড় অনেকটা ঘুরিয়ে দিয়েছে। তবে এ ব্যাপারে মোটেও একমত নন তিনি।

এই বলিউড নায়িকার মতে, ‘আসলে “কবির সিং” ছবি থেকে আমি প্রচুর ভালোবাসা পেয়েছি। অনেকে আমায় বাস্তবে “প্রীতি” বলে ভাবতে শুরু করেছিল। তবে আমি মনে করি যে আমার প্রতিটা ছবি-ই আমার জীবনের “টার্নিং পয়েন্ট”। “ফাগলি” আমার ক্যারিয়ারের প্রথম টার্নিং পয়েন্ট ছিল। কারণ, এই ছবির হাত ধরে আমি ইন্ডাস্ট্রিতে পা রেখেছিলাম। আমি মনে করেছিলাম যে আমি যত কাজ করব, তত বেশি কাজ পাব।

 এখন-পর্যন্ত-কেউ-জানেন-না-যে-কে-আসল-‘মঞ্জুলিকা

‘লাস্ট স্টোরিজ’-এর মাধ্যমে আমি চিত্র সমালোচকদের নজরে পড়েছিলাম। সবার প্রশংসা পেয়েছিলাম। তখন বোঝার মতো বোধশক্তি ছিল না যে করণ জোহরের মতো নির্মাতার সঙ্গে কাজ করেছি। এখন পেছনের দিকে তাকালে সত্যি গর্ব অনুভব করি। কারণ, ‘লাস্ট স্টোরিজ’-এর মতো সাহসী কনটেন্টে কাজ করেছি। তবে নিশ্চয় ‘কবির সিং’ ছবির পর আমার ক্যারিয়ারের খেলাটাই যেন বদলে গেছে। ‘গুড নিউজ’, ‘শেরশাহ’ এসব ছবি আমাকে এক উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।’
এখন বিটাউনে নারীকেন্দ্রিক ছবির হিড়িক পড়ে গেছে। সবার মনে করছেন যে অভিনেত্রীদের জন্য এখন এক দারুণ সময়।

কিয়ারা সহমত পোষণ করে বলেন, ‘হ্যাঁ, এখন অভিনেত্রীরা দারুণ দারুণ চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পাচ্ছেন। আমাদের জন্য সত্যি দুর্দান্ত সময়। আমিও এমন সব চরিত্রে অভিনয় করতে চাই, যা আমার জন্য অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। নিজের স্বচ্ছন্দের দুনিয়া থেকে বেরিয়ে এসে আমি কাজ করতে চাই। তবে সেই ছবি নারীকেন্দ্রিক না হলেও চলবে।’ ‘ভুল ভুলাইয়া ২’-র মতো ভৌতিক-হাসির ছবিতে অভিনয় করলেও ভূতেও খুব একটা বিশ্বাসী নন কিয়ারা।

প্রিয় ভূতের ছবির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার সবচেয়ে প্রিয় ভৌতিক ছবি “ভুল ভুলাইয়া ওয়ান”। আর “স্ত্রী”-ও দারুণ এক ছবি।’ আগামী দিনে কী ধরনের ছবিতে অভিনয় করতে চান, উত্তরে কিয়ারা বলেন, ‘আমি অ্যাকশনধর্মী ছবিতে কাজ করতে চাই। কারণ, আমি অ্যাকশন ছবি দেখতে ভালোবাসি। এই ঘরানার ছবিতে অভিনয় করলে নিজেকে নিজে চ্যালেঞ্জ দিতে পারব। আশা করি, শিগগিরই যেন একটা অ্যাকশন ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ পাই।’

কথায় কথায় কিয়ারা জানান, এখন চূড়ান্ত ব্যস্ততার মধ্যে তাঁর দিন কাটছে। একদিকে ‘ভুল ভুলাইয়া ২’ ছবির প্রচারণায় ব্যস্ত, আবার এদিকে এক প্যান ইন্ডিয়া ছবির শুটিং শুরু করতে চলেছেন। এ প্রসঙ্গে উচ্ছ্বাস নিয়ে এই বলিউডকন্যা বলেন, ‘রাম চরণের

সঙ্গে এক প্যান ইন্ডিয়া ছবি করছি। এই ছবির বিষয়ে এখনই বেশি কিছু বলতে পারব না। তবে এটুকু বলতে পারি যে সোশ্যাল-পলিটিক্যাল ছবি এটা। দক্ষিণের পরিচালক শংকর এই ছবি পরিচালনা করছেন ২০১৮ সালে মহেশ বাবুর সঙ্গে প্রথম দক্ষিণী ছবি করেছিলাম। আর তারপর থেকে ওখানে আমার অসংখ্য ভক্ত হয়ে গেছে। দক্ষিণের মানুষ আমাকে দক্ষিণী ছবিতে দেখতে চান। তাই বছরে একটা করে দক্ষিণী ছবি করতে চাই। ওখানে আমি সব সময় উষ্ণ অভ্যর্থনা পাই।’

বেশ কিছু দিন ধরে কিয়ারার সঙ্গে সিদ্ধার্থ মালহোত্রার ব্রেকআপ নিয়ে নানা খবর উড়ে বেড়াচ্ছে। এ প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করতে তিনি হাত নেড়ে বুঝিয়ে দেন যে উত্তর দিতে নারাজ। তবে এসব নানা উড়ো খবর প্রসঙ্গে কিয়ারা বলেছেন, ‘আমাকে ঘিরে নানা সব খবর আমি পড়ি। তবে কিছু খবরকে একদম পাত্তা দিই না। আমাকে নিয়ে যদি কিছু গঠনমূলক সমালোচনা হয়, তা নিশ্চয় মন দিয়ে পড়ি। তবে আমার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে যদি কিছু চর্চা হয়, সেটা মাথায় নিই না। আমি আমার অভিনয় সম্পর্কে দর্শকের প্রতিক্রিয়া জানতে উন্মুখ হয়ে থাকি। তাদের সব সমালোচনা মাথা পেতে নিই। কারণ, তারা আমাকে যেহেতু ভালোবাসে, তাদের মতামত দেওয়ার অধিকার আছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.