চাঁদপুর মাছঘাটে ভোক্তা অধিকারের হানা : ইলিশ ফেলে ব্যবসায়ীদের পলায়ন

স্টাফ রিপোর্টার

দৈনিক চাঁদপুর সময়সহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে চাঁদপুর মাছ ঘাটে ইলিশের আমদানীর সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে সংশ্লিষ্ট প্রশান। চাঁদপুরের নদীগুলোতে মাছে আধিক্য না থাকলেও কোথা থেকে

আসছে এসব মাছ তা খতিয়ে দেখার চেষ্টা করেছে সাংবাদিকরা। এতেই বেরিয়ে আসে আসল রহস্য। মূলতঃ নিষিদ্ধকালীন সময়ে যেসব পাইকাররা জেলেদেরকে নদীতে নামিয়ে মাছ শিকার করেছিল। সেইসব

পাইকাররাই তা বিক্রির জন্য মাছঘাটে আনে। কিন্তু বিধিবাম। এবার আর রক্ষা হলো না। এতোদিন এসব ব্যবসায়ীরা ছিলো ধরাছোঁয়ার বাইরে। কিন্তু যতো যাতনা ভোগ করেছে শুধু জেলেরাই।

দেশের বৃহত্তর ইলিশের পাইকারি বাজার চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছঘাট থেকে অর্ধগলিত ও পচা ৫০০ কেজি (সাড়ে ১২ মণ) ইলিশ জব্দ করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

১ নভেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সুচিত্র রঞ্জন দাসের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অধিদপ্তর চাঁদপুর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নুর হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গত কয়েকদিন চাঁদপুর মাছঘাটে দক্ষিণাঞ্চল থেকে আসা পচা ইলিশ বিক্রির গোপন তথ্য পাই। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার

 

কোস্টগার্ড চাঁদপুর স্টেশনের টহল সদস্য ও মডেল থানার পুলিশ সদস্যদের সহযোগিতায় ওই ঘাটে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে সেখানে পরিত্যাক্ত অবস্থায় অর্ধগলিত ও পচা ৫০০ কেজি ইলিশ জব্দ করে কোস্টগার্ড স্টেশনে নিয়ে আসা হয়। জব্দকৃত ইলিশগুলো চাঁদপুর সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. তানজিমুল

ইসলামের উপস্থিতিতে কোস্টগার্ড স্টেশন এলাকায় মাটিতে ফুঁতে বিনষ্ট করা হয়। তবে এসব পচা ইলিশের কেউ মালিকানা দাবি না করায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
এসব মাছ ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের দিয়ে ধরিয়েছে এসব পাইকাররা। মূলতঃ পাইকারদের কারণেই জেলেরা নদীতে মাছ ধরতে বাধ্য হয়েছিল। এছাড়া এসব পাইকারদের পেছনে রয়েছে কিছু ব্যবসায়ী। যারা চাঁদপুর বড়ো স্টেশন এলাকার ব্যবসায়ী। এসব ব্যবসায়ীদের আড়ৎ থেকেও মাছ জব্দ করা হয়।

 

 

ঘটনার বিবরণে জানা যায় গতকাল ০১ নভেম্বর তারিখ দুপুর ১২ টার সময় সুচিত্র রঞ্জন দাস, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, চাঁদপুর কর্তৃক বড় স্টেশন মাছ ঘাটে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে উক্ত মাছ ঘাট হতে পঁচা ও খাওয়ার অযোগ্য প্রায় ৫০০ কেজি ইলিশ মাছ জব্দ করা হয় যা বিক্রির জন্য বাজারে আনা হয়েছিল। মোবাইল কোর্টের উপস্থিতি টের পেয়ে মাছের মালিক পূর্বেই পালিয়ে যান। তাই প্রকাশ্যে একাধিকবার ঘোষণা করলেও কেউ মাছের মালিকানা দাবী উপস্থাপন করেননি। উক্ত মাছ পঁচা ও খাওয়ার অযোগ্য মর্মে উপস্থিত সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মতামত দেন। জব্দকৃত মাছ পঁচা ও খাওয়ার অযোগ্য বিধায় বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট উক্ত মাছ মাটিতে পুঁতে ফেলার রায় উপস্থিত জনতার সম্মুখে প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, চাঁদপুর সদর, সহকারী পরিচালক, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, চাঁদপুর, চাঁদপুর সদর থানার পুলিশ টিম, পুলিশ লাইন্সের পুলিশ সদস্য ও কোস্টগার্ডের উপস্থিতিতে জব্দকৃত মাছগুলো মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান জনসেবায় এরূপ মোবাইল কোর্ট নিয়মিত পরিচালিত হবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *