ফরিদগঞ্জে ইলেকট্রিক শক দিয়ে মাছ শিকার

বিশ্বের উন্নত দেশ গুলোর সাথে তাল মিয়ে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা সমানতালে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আর সেই তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে কিছু বিপদগামী মানুষ অবৈধ পন্থায় বিভিন্নভাবে প্রাকৃতিক সম্পদকে ধ্বংস করছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো সহজ উপায়ে ইলেকট্রনিক্স শর্ট সার্কিট দিয়ে মাছ শিকার। যার প্রবণতা বর্তমানে ফরিদগঞ্জ উপজেলা দৃশ্যমান।

আবার এ ইলেকট্রনিক্স সার্কিট দিয়ে মাছ শিকারের বানানো ফাঁদে অনেক সময় নিজেরাও ক্ষতির সম্মুখিন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উপজেলার উত্তরাঞ্চল কামতা, মুন্সিরহাট, গল্লাক, আষ্টা, ইসলামপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ইলেকট্রনিক্স সার্কিট দিয়ে মাছ শিকার করে যাচ্ছে মৎস্য শিকারিরা। ওই সব এলাকাতে বিভিন্ন জায়গায় ইনভার্টারের সাহায্যে ইলেকট্রিক শক দিয়ে মাছ ধরার প্রবণতা বেড়েই চলেছে।

২০ সেপ্টেম্বর সোমবার শেষ বিকেলে দৃশ্যটি ও ছবি দেখা গেল উপজেলার ইসলাম এলাকায় ডাকাতিয়া নদীতে। বর্তমানে এ সময়টায় নদীর পানি কম থাকে। সেই কারণে কিছু মৎস্য শিকারি এ পদ্ধতিতে মাছ শিকার করছে।

স্থানীয়রা জানায়, ব্যাটারি ও ইনভার্টার দিয়ে বিদ্যুৎ তৈরি করে পানিতে দিতেই মরে যাচ্ছে নদীর মুল্যবান সম্পদ মাছ। আর এতেই বিলুপ্তি হচ্ছে নদীর বিভিন্ন প্রজাতির মাছ এবং তার সাথেও রয়েছে পুঁটি, ট্যাংরা, চিংড়ি, পাবদামত সুস্বাদু মাছ।

প্রতিদিন ইলেকট্রিক শক দিয়ে নদীর ছোট বড় মিলিয়ে ১০-১২ কেজি মাছ ধরে এ মৎস্য শিকারিরা। মাছ ধরার এ অবৈধ মেশিনগুলা ঢাকা থেকে নিয়ে আসা হয়। ওই সব এলাকার বিভিন্ন বাজারে কিছু দোকানে অর্ডারের মাধ্যমে মেশিন পাওয়া যায় বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মৎস্যশিকারি জানায়।

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফারহানা আকতার রুমা জানান, ইলেকট্রনিক্স সার্কিট দিয়ে এভাবে সরাসরি মাছ ধরার কোন অনুমতি নেই। যারা এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংস করছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমরা এভাবে অবৈধভাবে মৎস্য শিকারের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করব। পাশাপাশি মাছের প্রজনন ক্ষমতাও নষ্ট হবে। তাছাড়া মাছের সঙ্গে জলজ প্রাণীরাও মারা যাচ্ছে।

ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি

Leave a Reply

Your email address will not be published.