মাদক নিরাময় কেন্দ্রের ভূমিকা আশঙ্কাজনক

কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম জুয়েল :
দেশে যত্রতত্র গড়ে উঠেছে তথাকথিত মাদক নিরাময়কেন্দ্র বা হাসপাতাল। কিন্তু এই নিরাময়কেন্দ্রগুলো যে নিজেরাই নিরাময়ের বাইরে চলে যাচ্ছে, সে খবর কজন রাখেন? র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ভাওয়াল মাদকাসক্তি পুনর্বাসনকেন্দ্রে ও রাজধানীর হুমায়ুন রোডের সিরাজউদ্দৌলা মানসিক মাদকাসক্ত হাসপাতালে অভিযান চালানোর পর জানা গেল, সেখানে চিকিৎসার নামে চলছে প্রতারণা ও সন্ত্রাসী।

পুনর্বাসনকেন্দ্রের মালিক নাজনিন ফিরোজা বাঁধনসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। সেই সঙ্গে তাদের জিম্মিদশা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে চলচ্চিত্র অভিনেতাসহ ২৮ জনকে। বাঁধনদের বিরুদ্ধে মাদকব্যবসা, রোগীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, শারীরিক নির্যাতন, অনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা, যৌন হয়রানির অভিযোগ। দীর্ঘদিন ধরে অপরাধের স্বর্গরাজ্য হিসেবে পুনর্বাসনকেন্দ্রটি পরিচালিত হলেও ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের ভয়ে ভুক্তভোগীরা মুখ খুলতে পারতেন না।এ কথা সর্বজনবিদিত যে, মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা করতে হয় অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে। কেবল ওষুধ এর প্রতিষেধক নয়। নিবিড় পরিচর্যা ও সুশৃঙ্খল জীবনযাপন পদ্ধতিই এই রোগ থেকে মুক্তি দিতে পারে। কিন্তু আলোচ্য কেন্দ্রটি অপচিকিৎসা নয়, রোগীদের প্রতি নিষ্ঠুরতাও চালাচ্ছে! রীতিমতো জিম্মি করে টাকা আদায় করত।

যত্রতত্র গড়ে ওঠা এসব নিরাময়কেন্দ্র বন্ধ করা দরকার। সেজন্য সরকারের নজরদারির ব্যবস্থা করতে হবে। সেই সঙ্গে সরকারি উদ্যোগ বাড়ানো দরকার। আর সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন মাদকদ্রব্যের সহজলভ্যতার অবসান ঘটাতে অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া। এর জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে আরো কঠোর প্রদক্ষেপ গ্রহণ করা অপরিহার্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *