মাদকের বিস্তার রোধে প্রয়োজন বিকল্প উদ্যোগ

সম্প্রতি চাঁদপুরে মাদকের বিস্তার লক্ষ করা যাচ্ছে। প্রায় প্রতিদিনই মাদক ব্যবসায়ী বা কারবারিদের আটক হতে দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে গাঁজার চালান আসছে সবচেয়ে বেশি। এসব গাঁজার উৎস কোথায় তা জানা না গেলেও এর চাহিদা যে ব্যাপক তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এর সাথে এখনো চলমান রয়েছে ইয়াবার আমদানী। মাদক কারবারিরা তাদের কৌশল পাল্টিয়ে মাদক পাচার করছে বলে পুলিশ সূত্র সাংবাদিকদের বলেছেন।

সম্প্রতি চাঁদপুরের বিভিন্ন পত্রিকায় মাদকের ভয়াল চিত্র ফুটে উঠেছে। পরিত্রকার পতিদিনের সংবাদের একটি অংশ থাকে মাদক জব্দ ও কারবারিদের আটক সংক্রান্ত। মাদক কারবারিরা আটক হচ্ছে দেখে আমরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে সাধুবাদ জানাই। বিশেষ করে পুলিশ বাহিনীর তৎপর অবস্থানের কারণে মাদক কারাবারিরা খুব একটা সুবিধা করতে পারছে না বলেই মনে হচ্ছে।

তবে শঙ্কার বিষয় হলো গ্রামের আনাচে কানাচেও মাদকের ভয়াল থাবা শুরু হয়েছে। নিভৃত পল্লিতে মাদকসেবীদের আনাগোনা দেখা যায়। দেখা যায় মাদক কারবারি সেই অজপাড়া গাঁয়ের কোন কৃষক বা দিন মজুরের ছেলে। এটা অত্যন্ত দুঃখ জনক বিষয়। অসহায় দরিদ্র পিতামাতার সন্তানরা আগে এসব কাজে জড়াতো না। কিন্তু বর্তমানে দেখা যায় শহর থেকে গ্রামের অসহায় নারী পুরুষরা মাদক বিস্তারের সাথে জড়িয়ে পড়েছে।

অনেকে মনে করছেন দারিদ্রতার পাশাপাশি পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান না থাকার কারণে মানুষ মাদকের দিকে ঝুঁকছে। তাঁদের এই মনেকরাটা অমুলক নয়। আমরা মনেকরি মানুষের আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্ধ্বগতি এর জন্য অনেকাংশে দায়ী। তাই সরকারের কাছে আমরা দাবি করবো যত দ্রুত সম্ভব দ্রব্যমূল্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনতে হবে। আর না হয় এর ভয়াবহ পরিনতিতে সমাজে বিপর্যয় দেখা দেবে। মাদক পরিবহনে সহজ হওয়ার কারণে কর্মহীন কিছু অসাধু মানুষ ইনকামের জন্য এর সাথে জড়িয়ে পড়ছে। তাই এসব মানুষদের মধ্যে মাদক বিমূখতা সৃষ্টি করতে হলে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি মানুষ যাতে কম পয়সায় নিত্য পণ্য ক্রয় করে স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারে সে জন্য সরকারকেই প্রদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম জুয়েল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *