মেঘনা নদীতে জাহাজে কাটা পড়ছে বিপুল পরিমানের জাল

স্টাফ রিপোর্টার মেঘনা নদীর চাঁদপুর নৌ সীমানায় কোন চ্যানেল নির্দিষ্ট না থাকায় যাত্রীবাহী লঞ্চ ও লাইটার জাহাজ চলাচলে প্রতিদিনই জেলেদের মূল্যবান জালগুলো কাটা পড়ছে। যে কারণে বড় ধরণের ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছেন জেলেরা। দেড় থেকে দুই লাখ টাকা মূল্যমানের জাল কাটা পড়লে পরদিন মাছ আহরণ বন্ধ হয়ে যায় জেলেদের। লাইটারের লোকদেরকে মৌখিক কিংবা ইশারা দিয়ে জালের উপর দিয়ে না গিয়ে চ্যানেল পরিবর্তন করার জন্য অনুরোধ জানালেও তারা মানছেন না। জাল কেটে যাওয়া প্রতিরোধে নৌ পথের দায়িত্বে থাকা সরকারি বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন জেলেরা।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি বিকেলে চাঁদপুর সদর উপজেলার হানারচর ইউনিয়নের গোবিন্দিয়া গ্রামের মেঘনা নদীর পাড়ে গিয়ে দেখাগেছে বেশ কয়েকজন জেলে জাহাজে কাটা পড়া জাল মেরামত করছে। জাল কাটা পড়ায় তারা আজকে নদীতে মাছ আহরণে নামতে পারেননি।
জেলে নৌকার মালিক বাসানি মিজি বাংলানিউজকে বলেন, নদীতে প্রতিদিনই জেলেদের জাল কাটা পড়ছে। আমরা অনেক সময় জাহাজের লোকদেরকে অনুরোধ করি একটু ঘুরে যাওয়ার জন্য। কিন্তু তারা অনুরোধ রাখেন না। যার কারণে আমাদের মূল্যবান জালগুলো কাটা পড়ে।

একই এলাকার জেলে আবু তাহের, দেলোয়ার হোসেন গাজী ও শাহ্ আলম বলেন, বড় বড় নৌযান ও জাহাজে জাল কেটে যাওয়া দীর্ঘদিনের সমস্যা। এত বড় নদী কিন্তু কোন নির্দিষ্ট নৌ চ্যানেল নাই। যার কারণে জাহাজগুলো তাদের মত করে চলে। আমাদের অনুরোধ তারা রক্ষা করতে পারে না। তবে আমাদের একটি জাল তৈরী করতে অনেক টাকা খরচ হয়। যার কারণে ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে জেলেরা। নৌ পথের দায়িত্বরত সরকারি লোকজন যদি এই বিষয়ে একটু মানবিক হন, তাহলে আমাদের জালগুরো কম কাটা পড়বে।

চাঁদপুর সদর উপজেলার সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, জাহাজে জেলেদের কাটা পড়ে এটি আমরাও জানি। বিষয়টি অবশ্যই দু:খজনক। কিন্তু জাহাজ চলাচলের একটি নির্দিষ্ট নিয়ম আছে। তারা সে নিয়মের মধ্যে চলে। জেলেরাও অনেক সময় দীর্ঘ জাল বেড় দিয়ে রাখার কারণে নৌযান উপর দিয়ে চলে এবং তখনই কাটা পড়ে।

চাঁদপুর বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা একেএম কায়সারুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, নদীতে অবশ্যই নির্ধারিত চ্যানেল আছে। নৌ চ্যানেল সংরক্ষণ করাই বিআইডাব্লিউটিএর কাজ। নদীর যেখানে নৌযান চলাচলে বিপদ হবে সেখানে আমাদের মার্কিং করে দেয়া আছে। তবে আমাদের নৌযান সংরক্ষণ বিভাগ এসব বিষয় নিয়ে কাজ করে।

নৌযান সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগ চাঁদপুরের যুগ্ম পরিচারক মাহমুদুল হাসান থান্ডার্ড বলেন, ১৯৯২ সাল থেকে আমি নৌযান সংরক্ষণ বিভাগে কাজ করছি। যার কারণে আমার সাথে জেলেদের একটি সম্পর্ক তৈরী হয়েছে। এসব বিষয়ে আমি অবগত। আইন বলছে, নৌযান চলাচলে বিঘ্ন ঘটানো যাবে না। নদী নিরাপদ সংরক্ষণ রাখাই আমাদের কাজ। সে আলোকে জেলেরাত প্রতিবন্ধকতাই সৃষ্টি করছে। তবে আমরা জেলেদের বিষয়ে সব সময়ই সহনশীল। বিগত দিনে আমি নৌযান ফেডারেশনগুলোতে বলেছি জেলেদের জালগুলো যেন কাটা না পড়ে সে বিষয়ে একটু মানবিক হওয়ার জন্য। প্রয়োজনে তাদেরকে আবারও বলা হবে।

তিনি বলেন, আমি জেলেদেরকে বলেছি যেখান দিয়ে জাহাজ চলে সেখানে জাল দিয়ে মাছ ধরার দরকার নেই। কিন্তু তারা বলছে নদীর গভীর এলাকায় মাছ বেশী পাওয়া যায়। যার কারণে হাজার হাজার জেলে স্রোত ও গভীর এলাকায় মাছ ধরে। তখন তারা কিভাবে জেলেদের ইশারা কিংবা ইঙ্গিত রক্ষা করবে। কারণ একটির পর একটি জাহাজ আসতে থাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.