মোবাইল ব্যাংকিং এ অধিক সতর্কতা প্রয়োজন

টাকা লেন-দেনের জন্য বর্তমান সময়ের সবচাইতে জনপ্রিয় মাধ্যম হলো মোবাইল ব্যাংকিং। দেশে মোবাইল ব্যাংকিং চালু হওয়ার পর থেকে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সকল ক্ষেত্রে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে যে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। মূলতঃ মোবাইল ব্যাংকিং এর কারণে বর্তমান সময়ের ব্যবসার ধরণও পাল্টেছে অনেক খানি। নতুন ধারার ব্যবসার প্ল্যান তৈরি হচ্ছে প্রতিনিয়তই। স্বল্প পুঁজির আইডিয়া তৈরী হয়েছে মূলতঃ এই মোবাইল ব্যাংকিং চালু হওয়ার পর থেকেই।

অফিস আদালত, রেমিটেন্স, প্যামেন্ট, সকল প্রকার কেনাকাটা ও কল-কারখানা পরিচালনা থেকে শুরু করে সকল প্রকার লেনদেন এখন এই মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমেই করা হচ্ছে। এটা হচ্ছে মূলতঃ মূল ব্যাংকের সিস্টেমেটিক জটিলতার কারণেই। মানুষ ব্যাংকে লেনদেনে বিমুখের কারণেই মোবাইল ব্যাংকিং এর জনপ্রিয়তা বেড়েছে।

যদিও মোবাইল ব্যাংকিং এর প্রথম দিকে ছোট ছোট লেনদেন চালু করা হয়, কিন্তু এখন মোবাইল ব্যাংকিং এর মার্চেন্ট একাউন্ট চালু হওয়ার পর থেকে মূল ব্যাংকের মতোই বড় ধরনের লেন-দেন করতে আর কোন সমস্যা হচ্ছে না। এই বিষয়টি বর্তমানে এতোটাই জনপ্রিয় যে দেশের অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেরই এখন মার্চেন্ট একাউন্ট রয়েছে। যার মাধ্যমে প্রতিনিয়ত কোটি কোটি টাকা লেনদেন করা হচ্ছে। বলতে গেলে দেশের সকল সেক্টরেই এখন মোবাইল ব্যাংকিং এক অনিবার্য সত্তায় পরিনত হয়েছে।

এই মোবাইল ব্যাংকিং এর এতো সুবিধার মধ্যেও অনেক অসুবিধাও রয়েছে যে তাতে আর কোন সন্দেহ নেই। সাম্প্রতি মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে দেশে বেশ কিছু অঘটন ঘটে যাওয়ায় সরকার অনেকটা নড়ে-চড়ে বসেছে বলেই মনে হচ্ছে। ইতোমধ্যে ‘নগদ’ মোবাইল ব্যাংকিং অসংলগ্ন লেনদেনের ফিরিস্তি দিয়েছে সরকারকে। সরকার অসংলগ্ন লেনদেনের সাথে জঙ্গি ও সন্ত্রাসদের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখছে।

ধারণা করা হচ্ছে মোবাইল ব্যাংকিং লেন-দেনের সহজলভ্য মাধ্যম হওয়ার কারণে অপরাধীরাও এই মাধ্যমকে বেছে নিয়েছে। ঘুষ লেন-দেন থেকে শুরু করে অবৈধ লেনদেনের সিংহভাগ এখন মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমেই হয়ে থাকে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

সাম্প্রতি চাঁদপুরে ‘বিকাশ’ এর মাধ্যমে প্রতারনার কারণে একটি চক্রকে ধরেছে আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঢাকার একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির বিপুল পরিমান অর্থ এই ‘বিকাশ’ এর মাধ্যমে চক্রটি আত্মসাতের পথ বেছে নেয়। যা শুধু একটি প্রতারণাই নয় বরং মোবাইল ব্যাংকিংকে আবারো প্রশ্নবিদ্ধ করলো এই ঘটনাটি। এতে প্রতীয়মান হয় মোবাইল ব্যাংকিং সহজলভ্যতার কারণে প্রতারক চক্র এই মাধ্যমটিকে বেছে নিয়েছে।

এই ধরনের প্রতারকদেরকে অনলাইন ব্যবসার ক্ষেত্রেও তৎপর দেখা যাচ্ছে। ব্যবসা ক্ষেত্রে প্রতারকরা ক্রেতার কাছ থেকে প্যামেন্ট নিয়ে পণ্য সরবরাহ করছে না। এটা এখন ওপেন সিক্রেটের মতো। এসব প্রতারকরা বার বার প্রতারনার ধরণ পাল্টাচ্ছে বলেই মনে হচ্ছে। সম্প্রতি ই-ভেলি ও ই-অরেঞ্জ নামের দেশের দুটি খ্যাতনামা অনলাইন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠায় মোবাইল ব্যাংকিংর এর লেনদেনে প্রতারণার শঙ্কা আরো জোড়ালো হয়েছে।

আমরা মনে করি সাম্প্রতিক সময়ে মোবাইল ব্যাংকিংকে যেভাবে প্রতারক চক্র ব্যবহার করছে তাতে এই মাধ্যমটিকে আরো ঢেলে সাজানোর সময় হয়েছে। এই মাধ্যমটিকে নিরাপদ করতে এ নিয়ে যথেষ্ট গবেষণার বিষয় রয়েছে। আমরা মনে করি সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল বিষয়টি অধিক গুরুত্ব দিয়ে কার্যকর প্রদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.