১০০ কোটি নয় ৪ কোটি: পরিচালকের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে যা বললেন অনন্ত জলিল

গত ঈদুল আজহায় মুক্তি পাওয়া ‘দিন: দ্য ডে’ ছবিটি এরমধ্যে বেশিরভাগ হল থেকে নেমে গেছে। শুরু থেকে বলা হয়েছে, এ ছবির বাজেট ১০০ কোটি টাকা। হঠাৎ এই ছবির পরিচালক মুর্তজা অতাশ জমজমের ইনস্টাগ্রাম পোস্ট থেকে জানানো হয়, ছবির বাজেট ৪ কোটি টাকা! অতাশ জমজমের চুক্তিপত্র সবার সামনে প্রকাশ ও চার কোটি টাকা বাজেটের খবরটি জানানোর কয়েক দিন পর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিলেন অনন্ত জলিল। প্রথম আলোকে পাঠানো এক বার্তায় অনন্ত জলিল বলেন, ‘এটা যৌথ প্রযোজনার মুভি, দুটি দেশের মধ্যে। সুতরাং বাংলা কোনো অ্যাগ্রিমেন্ট গ্রহণযোগ্য হয় কি না, তা আপনাদের সবারই জানা। আমি হলফ করে বলতে পারি। এই অ্যাগ্রিমেন্ট সম্পূর্ণভাবে বানোয়াট।’
কথায়–কথায় অনন্ত জলিল এ–ও জানালেন, চাইলে তিনি এই কথাগুলো আরও আগেই বলতে পারতেন। তবে তিনি মাঝের কয়েক দিন অপেক্ষা করেছেন তাঁর ভক্ত ও মিডিয়ার আচরণ দেখার জন্য। যা দেখে তিনি হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়েছেন।

এরপর তিনি মূলত ক্ষোভ প্রকাশ করেন সেসব মানুষ ও সংগঠনের প্রতি, যাদের তিনি বিভিন্ন সময় আর্থিক সহায়তা করেছেন।

অনন্ত বলেন, ‘যেকোনো দুর্যোগ হলে অনন্ত ঝাঁপিয়ে পড়ে। কারও বিপদ হলে অনন্ত ছুটে যায়। মানুষের সহযোগিতায় ঝাঁপিয়ে পড়ে। আমার ফ্যান ক্লাব হয়েছে। কয়েক দিন আগেও তাদের ২৫ লাখ টাকা দিয়েছি। কিছুদিন আগে সিলেটে ৩০ লাখ দিয়েছি বন্যার জন্য। ঢাবিতে বন্যার্তদের জন্য পাঁচ লাখ দিলাম। করোনার সময় আমি বস্তিতে বস্তিতে ঘুরেছি। আমার ওয়াইফ তার বাচ্চাদের নিয়ে সাহায্য দিয়েছে। জেলায় জেলায় ঘুরে বেড়িয়েছি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। নিজের জীবনের মায়া করিনি। এই সময়ে এসে দেখলাম, তারা আমার জন্য আন্দোলন করে কি না। না, কেউ আমার হয়ে দাঁড়ায়নি। তার মানে, আমি এত দিন যা করেছি, ভুল করেছি। মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমার ভুল ছিল।’

ইনস্টগ্রামে এক পোস্টে ‘দিন: দ্য ডে’ পরিচালক মুর্তজা অতাশ জমজম চুক্তিপত্র প্রকাশের পাশাপাশি অনন্তের বিরুদ্ধে বকেয়া অর্থ পরিশোধ না করা, চিত্রনাট্য–শুটিং লোকেশন পরিবর্তনসহ একাধিক অভিযোগ এনেছেন। এমন অভিযোগ তুলে সম্প্রতি ‘মামলার হুমকি’ও দিয়েছিলেন ইরানি এই নির্মাতা।

 ১০০-কোটি-নয়-৪-কোটি-পরিচালকের-অভিযোগের-পরিপ্রেক্ষিতে-যা-বললেন-অনন্ত-জলিল

প্রথম আলোর পাঠকদের জন্য অনন্ত জলিলের পাঠানো বিবৃতির উল্লেখযোগ্য অংশ তুলে ধরা হলো:
১. আপনাদের অবগতির জন্য জানাচ্ছি, বাংলাদেশে শুটিংয়ের সময়ও ইরান থেকে ১৭ জনের একটি টিম নিয়ে আসেন মিস্টার মুর্তজা। আপনারা মিশা ভাই ও খোরশেদ আলম ভাইকে সবাই চেনেন, তাঁদের একবার ফোন করে জিজ্ঞেস করবেন, মিশা ভাইসহ অন্যান্য বাংলাদেশি আর্টিস্ট ছিলেন, শুটিংয়ে একবারও আমি কোনো ডিরেকশন দিয়েছি কি না? কারণ, মিস্টার মুর্তজা সাহেবের সাথে আমাদের দেশের একজন গুণী ডিরেক্টর ছিলেন। তাঁর নাম মিস্টার শেখ জামাল। তিনিও এই ইন্ডাস্ট্রিতে ৩৫ বছর ধরে কাজ করেন। তাঁরা একত্রে মিলে মিস্টার মুর্তজা ও শেখ জামাল বাংলাদেশের শুটিংটি পরিচালনা করেন।

২. আপনারা মুভিটি দেখেছেন, কিছু অংশ বাংলাদেশ ছাড়া মুভিটির বড় অংশগুলো ৩টি দেশ মিলে শুটিং হয়েছে। সে দেশের আর্টিস্ট, টেকনিশিয়ানসহ সমস্ত কিছু মিস্টার মুর্তজা অ্যারেঞ্জ করেছেন এবং শুটিং সম্পূর্ণ করেছেন। সাথে আমাদের বাংলাদেশের কিছু টেকনিশিয়ান কাজ করেন। আমাদের টেকনিশিয়ানরাও তাঁদের সাথে পারফেক্টভাবে কাজ করতে পারেননি। কারণ তাঁদের এক একজনের এক এক ভাষা।

৩. এবার আসি মুভিটির বাজেট নিয়ে। মুভিটির শুটিং শুরু হয় ২০১৯ সালে এবং শেষ হয় ২০২০ সালে। আপনারা আমার ইন্টারভিউগুলো দেখতে পারেন, টেলিভিশন, নিউজ পেপার, সোশ্যাল মিডিয়াতে মুভিটির রিলিজের আগমুহূর্ত পর্যন্ত এবং রিলিজের পরেও একটি ইন্টারভিউতে দেখাতে পারবেন যে আমি বলেছি, এই মুভিটির ইনভেস্টর আমি, আমি সব সময় বলে এসেছি, শুধু বাংলাদেশের শুটিংয়ের ইনভেস্টর আমি। ২০২১ সালে ২৭ ফেব্রুয়ারি লা মেরিডিয়ান হোটেলে ‘দিন: দ্য ডে’ এবং ‘নেত্রী: দ্য লিডার’ মুভির একটি অনুষ্ঠান করা হয়। সেই অনুষ্ঠানে মুর্তজা, ইরানের শিল্পীরা উপস্থিত ছিলেন। মুর্তজা প্রেস কনফারেন্সের সময় আমাকে বলেন, শুটিংয়ে তিনি যে বাজেট নির্ধারণ করেছিলেন, তার চেয়ে তিনি অনেক বেশি অর্থ শুটিংয়ে খরচ করেন। মিস্টার মুর্তজার বলা অ্যামাউন্ট প্রেস কনফারেন্সে আমি বলি এবং আমার ইন্টারভিউগুলোতেও একই কথা বলি, তিনি যে মুভির বাজেটের কথা বলেছিলেন। মিস্টার মুর্তজা তুলে ধরেছেন, আমার ৪-৫ লক্ষ ডলার তাঁকে শুটিং খরচের জন্য দেওয়ার কথা। অ্যাগ্রিমেন্ট অনুযায়ী সম্পূর্ণ টাকা দেই নাই। আপনাদের অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে অ্যাগ্রিমেন্ট অনুযায়ী বাংলাদেশের শুটিংয়ের সমস্ত খরচ আমার দেওয়ার কথা, সে অনুযায়ী বাংলাদেশের শুটিংয়ের সমস্ত খরচ আমি বহন করি।

সেখানে ১ কোটি টাকা লাগল বা ৪ কোটি টাকা লাগল, সেটা তো মিস্টার মুর্তজার দেখার বিষয় না। বাংলাদেশের শুটিং খরচ ছাড়া বিদেশের কোনো শুটিং খরচই আমার দেওয়ার কথা না, আমাদের ট্রাভেলিং কস্ট ছাড়া, এয়ার টিকিট ছাড়া। সেখানে আমি তাঁকে ডলার দিব, এই প্রশ্ন উঠবেই–বা কেন?
৪. আমরা যখন বিদেশে শুটিংয়ে যাই, মুর্তজা আমাদের অনেক সম্মান দিয়েছেন, ফাইভ স্টার হোটেলে রেখেছেন, এমনকি তাঁর বাসায়ও দুই দিন আমাদের ফুল টিমকে দাওয়াত দিয়েছেন। আমি ঠিক একই রকমভাবে ইরানের ১৭ জনের টিমকে সোনারগাঁও হোটেলে রাখি ১৮ দিন এবং অনুরূপ সম্মান আমরাও দিয়েছি তাদের ফুল টিমকে। মুর্তজার সাথে আমার কখনো কোনো মতভেদ বা খারাপ সম্পর্ক হয় নাই। কে বা কারা নিজের স্বার্থের জন্য মুর্তজার সাথে আমার এই দ্বন্দ্বের সৃষ্টি করেছেন, সেটা তাঁরাই ভালো জানেন এবং মুর্তজাই বলতে পারবেন। মুভি রিলিজের আগপর্যন্ত আমার ও মুর্তজার সাথে কখনোই কোনো খারাপ সম্পর্ক ছিল না, আমি আশা করি, আগামীতেও থাকবে না। যাঁদের স্বার্থের জন্য এই ষড়যন্ত্র করেছেন, তাঁদের মুখোশ একদিন ঠিকই মিস্টার মুর্তজাই প্রকাশ করবেন বলে আমার আত্মবিশ্বাস।

Leave a Reply

Your email address will not be published.