রাজধানী কামরাঙ্গীরচরে অবৈধ গ্যাসের সংযোগ

রাজধানী কামরাঙ্গীরচরে অবৈধ গ্যাসের সংযোগ
রাজধানী কামরাঙ্গীরচরে অবৈধ গ্যাসের সংযোগ

কাজী মেহেদী হাসান-রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের গাজীরঘাটে, বুড়িগঙ্গা, নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি অনুমোদনহীন ডোলার কারখানা। তবে কারখানায় বড় বড় চুলায় দিনরাত পুড়ছে গ্যাস। আগুনের তাপে লোহা গলিয়ে তৈরি হচ্ছে বাসাবাড়িতে ব্যবহারের জন্য ডোলা। কারখানার কর্মরত শ্রমিকরা জানান দিনরাত কাজ চলে দীর্ঘ এই সময়ে যত গ্যাস পোড়ানো হয় তার সবই আসে তিতাস গ্যাসের অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে। তবে শুধুমাত্র এই কারখানাই নয়, এ রকম এ এলাকায় প্রায় দুই শতাধিক অননুমোদিত ডোলার কারখানা রয়েছে কামরাঙ্গীরচরে। যার সবকটিতেই অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে প্রতিদিন মূল্যবান রাষ্ট্রীয় জ্বালানি সম্পদ গ্যাস পোড়ানো হচ্ছে বলে জানাজায়। এদিকে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই গড়ে ওঠা অবৈধ কারখানাগুলো বিশেষ কম্প্রেসার সিস্টেম ব্যবহার করে বাসাবাড়ির বৈধ লাইনে থাকা গ্যাসও টেনে নিচ্ছে নিজেদের সরবরাহ লাইনে।

রাজধানী কামরাঙ্গীরচরে অবৈধ গ্যাসের সংযোগ
রাজধানী কামরাঙ্গীরচরে অবৈধ গ্যাসের সংযোগ

এতে করে তিতাসের বৈধ সংযোগ রয়েছে এমন বাসাবাড়িতে গ্যাস পাওয়া ঠিকমত পাচ্ছেনা। দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি থেকে বাঁচতে রান্নার কাজে লাকড়ি, কেরোসিন চুলা ও এলপি গ্যাস এখন প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছে কামরাঙ্গীরচরবাসীর। তিতাসের গ্যাস না পেলেও ঠিকই বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে গ্রাহকদের। এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ডোলার কারখানা ছাড়াও কামরাঙ্গীরচরে বেশি অবৈধ কারখানা রয়েছে। যার প্রতিটিতে রয়েছে অবৈধ গ্যাস সংযোগ। এই অবৈধ গ্যাস সংযোগকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় কয়েক ওয়ার্ড নেতা একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে বলে এলাকাবাসীর জানায়। জানাযায়, ১৯৯৮ সালে প্রথম গ্যাস সংযোগ পান কামরাঙ্গীরচরবাসী। এরপর দীর্ঘ ২২ বছরে এলাকায় জনসংখ্যা, বাসাবড়ি ও কলকারখানা বাড়লেও নতুন করে গ্যাস সংযোগ দেওয়া বন্ধ রাখছেন সরকার। তবে সরকার ঘোষিত নীতিমালা অনুযায়ী আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্যাস সংযোগ দেওয়া বন্ধ রেখেছে তিতাস গ্যাস র্কর্তৃপক্ষ। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই এলাকার অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে যাচ্ছে কিছু লোক আর হাতিয়ে নিচ্ছে মোঠা অংকের টাকা। এর বাইরে ঝাউচর, ঝাউলাহাটি, গাজীরঘাট ও আলীনগর এলাকায়ও রয়েছে ছোট-বড় বেশ কিছু ডোলার কারখানা। সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, এসব কারখানা বিশেষ কম্প্রেসার সিস্টেম ব্যবহার করে বাসাবাড়ির বৈধ লাইনে থাকা গ্যাস টেনে নিচ্ছে তাদের অবৈধ সরবরাহ লাইনে। অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিতে গড়ে ওঠা চক্রের সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা জরিত রয়েছে এমনকি তিতাস গ্যাসের ঠিকাদারও এই কাজে সহযোগিতা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে নেতারা প্রতি মাসে কারখানাগুলো থেকে নির্দিষ্ট হারে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এলাকার অনেকে জানিয়েছেন এই ভাবে যদি অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে থাকলে তাহলে এই এলাকার বাসাবাড়িতে গ্যাস পাওয়া কঠিন হয়ে দাড়াবে। এই ব্যাপারে অবৈধ গ্যাস সংযোগ কারিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যাবস্থা নিবেন প্রাশাসন বলে জানান এলাকাবাসী। তবে অনুসন্ধানে আগামী পরবে নামসহ প্রকাশ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.