মৈশাদীর রেলওয়ে স্টেশন কার্যালয় এখন গোডাউন

তিন বছরেও চালু করা হয়নি কয়েক লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত মৈশাদী রেলস্টেশনের কার্যালয় ভবনটি। যা কিনা বর্তমানে ব্যবহার করা হচ্ছে হার্ডওয়ারের গোডাউন ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মালামাল রাখার কক্ষ হিসেবে। রেলস্টেশনের রক্ষণাবেক্ষণের অভিভাবক থাকা সত্বেও, সেটি যেনো অভিভাবকহীনই পড়ে রয়েছে। তাই যেমন খুশি তেমন করেই ব্যবহার করা হচ্ছে নব-নির্মিত মৈশাদী রেলস্টেশনের কার্যালয় ভবনটি। যে ভবনের কক্ষেগুলোতে রাখা হয়েছে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন মালামাল ও ফার্ণিচার এবং হার্ডওয়ারের প্লাস্টিকের দরজা, পাইপ, লোহা লংকরসহ বিভিন্ন সামগ্রী।

জানা যায়, গত ৩ বছর পূর্বে রেলওয়ের আইডাব্লিউর তত্বাবধানে কয়েক লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত করা হয় মৈশাদী রেলস্টেশন অফিস কার্যালয় ভবনটি। কিন্তু লোকবল সংকটের কারণে সেটি আজও পরিপূর্ণ ভাবে চালু করা হয়নি।

আর এই সুযোগে সেটি গোডাউন হিসেবে ব্যবহার করছেন মৈশাদী বাজারের জুয়েল হার্ডওয়ারের স্বত্বাধিকারী মোঃ জুয়েল। একই সাথে ভবনের বারান্দা এবং তার আশেপাশে ফার্নিচারের বিভিন্ন মালামাল রাখছেন ফার্ণিচার ব্যবসায়ীরা ভবনটিতে মালামাল রাখতে তার চাবিও জুয়েল হার্ডওয়ারের জুয়েলের কাছে থাকে বলে জানা গেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রেলস্টেশনের কার্যালয়ে ভবনটির দুটি কক্ষ জুড়ে জুয়েল হার্ডওয়ারের বিভিন্ন মালামাল রাখা হয়েছে। এবং ভবনটির পেছনে রয়েছে পিপিসি পাইপ, চারপাশ জুড়ে রাখা হয়েছে বিভিন্ন ফার্নিচারের কাঠ। এছাড়াও সেখানে যত্রতত্র রাখা হচ্ছে বিভিন্ন পিকআপ ভ্যান ট্রাক সিএনজি অটোরিক্সা। যার কারণে যাত্রীদের অনেক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

এদিকে স্টেশন ভবন এবং স্টেশনের স্থান জুড়ে এসব মালামাল রাখার কারণে স্থানীয়দের মাঝে অনেক ক্ষোভ বিরাজ করতে দেখা গেছে।
মৈশাদী রেলস্টেশন গেটম্যান শহিদুল ইসলাম জানান, এই ভবনটি ৩ বছর ধরে নির্মিত হয়েছে। কিন্তু স্টেশনে সিএনজি রাখার কারণে গেট ফেলতে সমস্যা হয়। পিকআপ ভ্যান, ট্রাক ও অটোরিক্সা রাখার কারনে যাত্রীরা ট্রেনে উঠতে গিয়ে অনেক সময় পড়ে গিয়ে আহত হয়।
মৈশাদী বাজার কমিটির সভাপতি মোঃ জাহিদ হোসেন জানান, স্টেশনের ব্যাপারে আমাদের কোন বক্তব্য নেই। এটি আমাদের আয়াত্তে নেই। এ বিষয়ে স্টেশন কমিটির সাথে কথা বলতে পারেন।

এই বিষয়ে জুয়েল হার্ডওয়ারের স্বত্বাধিকারী জুয়েল জানান, নুরুল ইসলাম পাটোয়ারীর কথা মতোই আমি আমার হার্ডওয়ারের বিভিন্ন মালামাল সেখানে রেখেছি। এ বিষয়ে কিছু বলার থাকলে আপনারা তার সাথে কথা বলতে পারেন।

স্টেশন কমিটির সভাপতি মোঃ নুরুল ইসলাম পাটওয়ারী বলেন, ‘রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এটি এখনও আমাদের কাছে হস্তান্তর করেননি। সেটির চাবিও আমাদের কাছে নেই। কে বা কারা সেটিতে মালামাল রাখছে সেটিও আমার জানা নেই।

এ বিষয়ে চাঁদপুর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার সোয়াইবুল সিকদার বলেন, এটি প্রায় তিন বছর পূর্বে রেলওয়ে আইডাব্লিউর তত্ত্বাবধানে নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু লোকবল সংকটের কারনে আজও মৈশাদী রেলস্টেশনের কার্যালয় ভবনটি উদ্বোধন করা হয়নি। এটি এখনও আইডাব্লিউর হেফাজতে রয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ে চাঁদপুরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (কার্য) আব্দুর নুর মিয়ার সাথে কথা বলতে চাইলে কয়েকবার চেষ্টা করেও তাকে মুঠোফোনে তাকে পাওয়া যায়নি।

স্টাফ রিপোটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *