লঞ্চের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে

কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম জুয়েল লঞ্চডুবির ঘটনা এ দেশে নতুন কোনো বিষয় নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা, চালকদের অশুভ প্রতিযোগিতা, দায়িত্ব-কর্তব্যে অবহেলা, অদক্ষতা, ফিটনেসবিহীন লঞ্চ চলাচল করার ‘সুযোগ’ পাওয়াসহ লঞ্চে ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করাই বাংলাদেশে লঞ্চ দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। প্রতিটি দুর্ঘটনার পর কিছুদিন এ নিয়ে হইচই হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বেশ কয়েকটি করে তদন্ত কমিটি গঠন করে। কিন্তু তদন্ত কমিটি কী অনুসন্ধান করে, কী সুপারিশ করে- তা দেশবাসীর কাছে অজানা থেকে যায়। প্রভাবশালী লঞ্চ মালিকরা যেমন তদন্তকাজে বাধা হয়ে দাঁড়ান, তেমনই কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নেও বিভিন্নভাবে বাধা দেন। অভিযান-১০ লঞ্চের অগ্নিকা-ের পরও এ রকম কয়েকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটিগুলো কী রিপোর্ট দিয়েছে কিংবা দোষীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা, এসবের কোনোকিছুই আর সামনে আসেনি।
প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের নিয়মিত নৌযান পরিদর্শন করার কথা রয়েছে। তারা নিয়মিতভাবে এগুলোর দেখভাল করলে অনেক দুর্ঘটনাই ঘটত না। কিন্তু কে শোনে কার কথা! আমাদের এখানে বিভিন্ন দুর্ঘটনার পর কিছুদিন তারা দায়িত্ব পালন করেন। এর পর আর কোনো খবর থাকে না। যেমন অভিযান-১০ লঞ্চে দুর্ঘটনার তিন দিন পর ঢাকা থেকে বরগুনা আসার সময় লঞ্চে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি দেখেছি। কেবিনের ভেতরে আলাদা করে লাইফ জ্যাকেটও পেয়েছি। কিন্তু মাস তিন পার না হতেই সেসবের ছিটেফোঁটাও নেই এ রুটে চলাচল করা একটি লঞ্চেও। কিছুদিন আগে ঢাকা থেকে বরগুনা আসা-যাওয়ার পথে দেখে এসেছি আগের মতোই নিজেদের স্টাইলে চলছে এই রুটের লঞ্চগুলো। লাইফ জ্যাকেটও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে কেবিন থেকে। বিআইডব্লিউটিআইয়ের কর্মকর্তারা যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতেন, তা হলে স্মরণকালের ইতিহাসের ওই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর এত দ্রুতই আগের মতো গাছাড়াভাবে চলতে পারত না নিশ্চয়ই।
দেশে প্রতিটি দুর্ঘটনার পেছনে রয়েছে মূলত অসতর্কতা কিংবা দায়িত্বে অবহেলা। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এভাবে আর কতদিন? এমএল আশরাফ উদ্দিন-২ লঞ্চটি যেভাবে ডুবে গেল কিংবা অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকা-ের কারণে যেভাবে মানুষ প্রাণ হারাল, তা কোনোভাবেই সাধারণ কোনো দুর্ঘটনা নয়। নৌপথকে নিরাপদ করতে অচিরেই এগুলোর সুরাহা করতে হবে। এ জন্য প্রচলিত আইনকে যুগোপযোগী করার সময় এসেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.