লঞ্চে ঢাকামুখী মানুষের ঢল

স্টাফ রিপোর্টার পবিত্র ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ৯ দিনের ছুটি শেষে মানুষ ফিরছে নিজ নিজ কর্মস্থলে। মাঝখানে ৫ মে একদিন বিভিন্ন সরকারি অফিস খুললেও ছুটির আমেজ তখনো কাটেনি। ফলে ৯ দিনের ছুটির পরই অফিসের প্রকৃত ব্যস্ততা শুরু হবে আজ থেকে। আজ সবাই অফিস এবং নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরবেন বাড়ীতে ফিরে যাওয়া মানুষগুলো। তবে গত দুই দিনে চাঁদপুরের ট্রেন ও লঞ্চে যাত্রীদের প্রচন্ড চাপ লক্ষ করা গেছে।
টানা ৯ দিনের ঈদের ছুটি শেষে আজ রোবার খুলছে অফিস-আদালত। কর্মস্থলে যোগ দিবেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা। গতকাল শনিবার ছিল ঈদের ছুটির শেষ দিন।
স্বজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন শেষে বুধবার থেকেই রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছেন অনেকে।
এবার ঈদুল ফিতরের ছুটি শুরু হয় আগেভাগেই। গত ২৯ ও ৩০ এপ্রিল ছিল সপ্তাহিক ছুটি। এরপর ১ মে ছিল মে দিবসের ছুটি। এরপর ২, ৩ ও ৪ মে ছিল ঈদের ছুটি।
করোনার বিধিনিষেধের কারণে গত দুই বছর ঈদ উদযাপন করতে ঢাকার বাইরে যেতে পারেননি অনেক মানুষ। কিন্তু এবার মানুষের চলাচলে কোনো ধরনের বিধিনিষেধ না থাকায় প্রচুর মানুষ ঢাকা ছাড়েন।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার ফেসবুকে নিজের ভ্যারিফায়েড অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে লিখেন, ‘১লা মে পর্যন্ত তিন দিনে ঢাকা শহর ছেড়ে যাওয়া সিমের সংখ্যা ৭২ লাখ ৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এর আগের দুদিনে আনুমানিক ৩০ লাখ সিম ঢাকার বাইরে গিয়ে থাকলে সিমের মোট সংখ্যা কোটি অতিক্রম করে গেছে। ১লা মে সর্বোচ্চ প্রায় ২৯ লাখ সিম ঢাকা ছেড়েছে।’
পোস্টে ঈদের তিন দিনে কোন মুঠোফোন অপারেটরের কী পরিমাণ সিম ঢাকার বাইরে গেছে, তার একটি হিসাবও সংযুক্ত করেছেন টেলিযোগাযোগমন্ত্রী। তার ওই পোস্ট অনুযায়ী, তিন দিনে গ্রামীণফোনের ৩৩ লাখ ৪৫ হাজার ৫০৭ সিম, রবি আক্সিয়াটা লিমিটেডের ১৮ লাখ ২৪ হাজার ৯৫৬ সিম, বাংলালিংকের ১৭ লাখ ৮৮ হাজার ৩১২ সিম ও টেলিটকের ২ লাখ ৪৬ হাজার ২৫০ সিম ঢাকার বাইরে গেছে।
ঈদুল ফিতর উদযাপন শেষে কর্মস্থলে ফিরে যেতে চাঁদপুর লঞ্চঘাটে ঢাকামুখী যাত্রীদের চাপ বেড়েছে। সকাল থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত সিডিউলের লঞ্চগুলো পর্যাপ্ত সংখ্যক যাত্রী নিয়ে সদরঘাটের উদ্দেশ্যে চাঁদপুর লঞ্চঘাট ত্যাগ করছে।
চাঁদপুর-ঢাকা, চাঁদপুর-নারায়ণগঞ্জের মধ্যে চলাচলকারী নিয়মিত লঞ্চ ছাড়াও যাত্রীদের সুবিধার্থে অতিরিক্ত লঞ্চের ব্যবস্থা রেখেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। যাত্রীদের সার্বিক নিরাপত্তায় তৎপর রয়েছে প্রশাসন।
শনিবার (৭ মে) দুপুরে চাঁদপুর লঞ্চঘাটে দেখা গেছে, জেলার আট উপজেলা, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ট্রলারে আসা শরীয়তপুরের বহু সংখ্যক যাত্রী ঘাটের পন্টুনে অবস্থান করছে। তাদের নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে প্রশাসন, নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) কর্মকর্তারা।
রায়পুর থেকে আসা ঢাকাগামী যাত্রী রায়হান বলেন, ঈদুল ফিতর উদযাপন করার জন্য বাড়িতে এসেছি। পরিবারের সঙ্গে ঈদের সময়টাও ভালো কেটেছে। এখন কর্মস্থলে নিরাপদে যাওয়ার চিন্তায় আছি।
হাজীগঞ্জ উপজেলার আরেক যাত্রী মোহাইমিনুল ইসলাম বলেন, করোনার কারণে গত দু’বছর ঈদে বাড়িতে আসতে পারেনি। এ বছর ঈদের আগেই বাড়িতে এসেছি। স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে অনেক আনন্দ করেছি। বিশেষ করে শিশুরা বাড়িতে এসে খুবই মজা করেছে। এখন কর্মস্থলে ভালোভাবে যাওয়ার প্রত্যাশা।
চাঁদপুর নৌথানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান বলেন, বৃহস্পতিবার থেকেই ঢাকাগামী যাত্রীদের চাপ বাড়তে শুরু করেছে। লঞ্চঘাটে আমাদের পুলিশ সদস্যরা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছে। এখন পর্যন্ত খুবই শান্তি-শৃঙ্খলার মধ্যে যাত্রীরা যেতে পারছেন।
চাঁদপুর বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা এ কে এম কায়সারুল ইসলাম বলেন, ঈদুল ফিতর উদযাপন শেষে ঢাকাগামী যাত্রীদের চাপ বেড়েছে। বিআইডব্লিউটিএ, প্রশাসন, নৌপুলিশ, কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি যাত্রীদের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। আমাদের পর্যাপ্ত সংখ্যক লঞ্চ রয়েছে। যাত্রী সাধারণের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। তবে কিছু যাত্রী সাধারণের অসহযোগিতার কারণে ব্যবস্থাপনায় কিছুটা বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। তারা আমাদের সহযোগিতা করলে তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে কোনো ধরনের সমস্যাই হবে না।

তিনি আরও বলেন, শনিবার ভোর থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সদরঘাটের উদ্দেশ্যে চাঁদপুরঘাট ত্যাগ করেছে ১২টি লঞ্চ। নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে ১০টি লঞ্চ। মধ্য রাত পর্যন্ত লঞ্চ নির্গমন অব্যাহত থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.