শিশুশ্রম বন্ধে সরকারকেই উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে

কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম জুয়েল

শিশুশ্রম একটি নিষিদ্ধ থাশলেও কার্যক্ষেত্রে তা অনেকটাই মানা হচ্ছে না। পারিবারিক ও সামাজিক অসচেতনতার কারণে সরকারও এর কোন প্রতিকার করতে পারছে না। মূলতঃ শিশুশ্রম পতিরোধে পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতার বিকল্প নেই। এর সচেতনতা সৃষ্টির জন্য রাষ্ট্রের অনেক কিছুই করার আছে। এর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে একটি তদারকি বিভাগ থাকা অপরিহার্য বলেই মনেকরছি। সঠিক তদারকি থাকলে শিশু শ্রম কমেই আসবে না বরং একেই বারেই নির্মূল হবে। কারণ আইনের প্রয়োগ প্রশাসনকেই করতে হবে। আইনের প্রয়োগ ছাড়া শিশুশ্রম বন্ধ হবে না। আর শিশুশ্রম বন্ধ না হলে দেশের উন্নয়ন হবে না। যেহেতু সকল শিশুরই শিক্ষার অধিকার রয়েছে। আমাদের দেশের বড়ো একটি অংশ এখনো শিশুশ্রমের সাথে জড়িত। যাদেরকে শিক্ষা অর্জন ছাড়াই বড়ো হতে হচ্ছে। একটি জাতিকে শতভাগ শিক্ষিত করে তুলতে অবশ্যই কঠোরভাবে শিশুশ্রম বন্ধের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
আমাদের দেশে শিশুশ্রমের আরেকটি কারণ হলো দারিদ্রতা। অনেক বাবা মাই দরিদ্রতার কারণে সন্তানকে লেখাপড়ায় না দিয়ে কর্মে লাগিয়ে দেয়। পরিবারের স্বচ্ছলাতার জন্য শিশু সন্তানকে কাজে নিয়োজিত করা কতটা ভুল সিদ্ধান্ত তা বুঝার মতো জ্ঞানও নেই ঐসব পরিবারের। তাই এসব পরিবারের অর্থনৈতিক দায়দায়িত্ব না নিতে পারলেও সন্তানের লেখাপড়া ও ভরপোষণের দায়িত্ব সরকার নিয়ে অবশ্যই এ জাতি আর পিছিয়ে থাকবে না। যা আমরা ইউরোপসহ উন্নত বিশে^ দেখে থাকি। পৃথিবীর অনেক দেশেই শিশুর দায়িত্ব সরকার গ্রহণ করে যথাযথ শিক্ষা ও ভরণপোষণ করে থাকে। এ জন্যই তাদেরকে আজ আমরা উন্নত ও সমৃদ্ধ জাতি হিসেবে আমরা বলে থাকি।
সম্প্রতি দৈনিক চাঁদপুর সময় পত্রিকায় একটি শিশু ও কিশোর পরিবহন শ্রমিক সংক্রান্ত একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদে দেখাযায় চাঁদপুরের অটোরিকশা, সিএনজি, পিকআপ সহ প্রায় সব ধরনের পরিবহনের ড্রাইভার হেলপার হচ্ছে অপরিপক্ক বয়ষের শিশু ও কিশোদের। যা অত্যন্ত হতাশাজনক। আমরা এর পরিবর্তন চাই।
তাই আমরা মনেকরি আমাদের রাষ্ট্রের উচিত এ ব্যাপারে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা। যাতে সকল শিশু তার শিক্ষা ও বেড়ে ওঠার সঠিক পরিবেশ পায় সেই জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় তত্ত্বাবধানে সকল শিশু বড়ো হলে অবশ্যই এ জাতিকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published.