শিশু সন্তানকে হত্যা করে মাটিতে পুঁতে রাখলো সৎ মা

 

 

হাজীগঞ্জ প্রতিনিধি

হাজীগঞ্জের আহম্মদ (৩) শিশুকে হত্যা করে বসতঘরে গর্ত করে রেখেছেন সৎ মা। নিখোঁজ ঘটনার নাটক

সাজিয়ে বের হয় এই লোমহর্ষক হত্যার মূল ঘটনা। হাজীগঞ্জ থানা পুলিশের ব্যাপক তদন্তে ও সৎ মাকে

জিঙ্গাসাবাদের মধ্যে দিয়ে হত্যাকান্ডের ঘটনা শিকার করেন সৎ মা কোহিনূর বেগম। পরে সৎ মাকে সঙ্গে

নিয়ে শিশু আহম্মদ এর মৃতদেহ উদ্ধার করে রামগঞ্জ থানা পুলিশ। ফুটফুটে শিশু আহম্মদের মরদেহ

ময়নাতদন্তের জন্য থানা নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় সৎ মা কোহিনূর বেগমকে আটক দেখানো হয়।

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানা হেফাজতে নেওয়া হয় ঘাতক কোহিনূর বেগমের মা ও খালাকে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, শিশু আহম্মদ এর পিতা হাজীগঞ্জ উপজেলার ৬নং বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের

জিয়ানগর গ্রামের ছৈয়াল বাড়ির হাফেজ শাহ মিরন তার প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেন

রামগঞ্জ উপজেলার ৭নং উত্তর দরবেশপুর ইউনিয়নের দরবেশপুর গ্রামের চৌকিদার বাড়ির কোহিনূর

বেগমকে। কোহিনূর বেগমও তার আগের স্বামীকে তালাক দিয়ে হাফেজ শাহ মিরনকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন।

গত শুক্রবার (২৬ আগষ্ট) আগে কোহিনূর বেগম তার স্বামী শাহ মিরনের প্রথম ঘরের শিশু সন্তানকে নিয়ে

বাবার বাড়ি রামগঞ্জের দরবেশপুর গ্রামে বেড়াতে যান। সেখানে গিয়ে কয়েকদিম অবস্থান করার পর সৎ

ছেলে আহম্মদকে শুক্রবার (যে কোন) সময়ে হত্যা করে। হত্যাকান্ডের কোন আলামত যেন না থাকে এজন্য

তিনি শিশুটির মৃতদেহ বসতঘরের খাটের নিচে মাটিতে পুঁতে রাখে। পরে তিনি হাজীগঞ্জের ভাড়া বাসা চলে

আসেন। শনিবার (২৭ আগষ্ট) থেকে শিশু আহম্মদ নিখোঁজ হয়েছেন বলে এলাকার মানুষজনের মাঝে ছড়িয়ে দেন। পরে চাঁদপুর ডুবুরি দলকে খবর দিয়ে এলাকার কয়েকটি পুকুরে শিশু আহম্মদের সন্ধানে নামানো হয়।

কিন্ত তারা শিশুটির হদিস পায়নি। পরে শিশুর পিতা শাহ মিরন হাজীগঞ্জ থানা অভিযোগ দায়ের করলে সৎ মা

ও সৎ নানীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে শিশুটিকে লাথি মেরে হত্যার দায় শিকার

ঘাতক সৎ মা কোহিনূর বেগম। পরে আইনীকার্য শেষে রামগঞ্জ থানা পুলিশের নিকট ঘাতক মা’কে হস্তান্তর

করে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ।

এরপর পরই পুলিশের রামগঞ্জের সার্কেল শেখ সাদীর নেতৃত্বে থানা পুলিশ সৎ মা কোহিনূর বেগমকে সঙ্গে

 

নিয়ে বসতঘরের খাটের নিচে মাটিতে পুঁতে রাখা শিশু আহম্মদের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে শিশুটির লাশ

 

 

ময়নাতদন্তের জন্য থানা নিয়ে যাওয়া হয়। ময়নাতদন্ত শেষে পিতার নিকট আহম্মদের মরদেহ আনুষ্ঠানিক

ভাবে হস্তান্তর করবে রামগঞ্জ থানা পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুর সৎ মাকে আটক দেখিয়েছে পুলিশ এবং

 

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সৎ নানীকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়।

হাজীগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের পর সৎ মা হত্যার

দায় শিকার করার পর রামগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে সৎ মা কোহিনূর বেগমকে হস্তান্তর করা হয়।

পুলিশের লক্ষীপুর জেলার রামগঞ্জের সার্কেল শেখ সাদী বলেন, আমরা লাশ উদ্ধার করেছি। ময়নাতদন্ত শেষে

পিতার নিকট লাশ হস্তান্তর করা হবে। সে সাথে ঘাতককে আটক দেখানো হয়েছে। এই হত্যাকান্ডের সাথে

আর কেউ জড়িত আছে কি না সেটিও আমরা দেখছি। আর কেউ জড়িত থাকলে তাদেরকেও আইনের আওতায় নিয়ে আসবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published.