এবার শুটিংয়ে শৃঙ্খলা ফিরবে তো

বছর পাঁচেক আগে নিয়ম করা হয়েছিল নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টিভি নাটকের শুটিং শেষ করার। কিন্তু কিছুদিন পর সে নিয়ম মানেননি কয়েকজন নির্মাতা ও শিল্পী। দুই বছর পর গভীর রাত পর্যন্ত শুটিং নিয়ে আবার শিল্পীরা সোচ্চার হন। তখন ছোট পর্দার সংগঠনগুলো সিদ্ধান্ত নেয়, শুটিংয়ের আগে সবাইকে চুক্তি স্বাক্ষর করতে হবে। এবারও পুরোনো চিত্র। কিছুদিন সব ঠিকঠাক চলে। করোনা শুরু হলে আবার দেখা দেয় বিশৃঙ্খলা। এতে সিংহভাগ নির্মাতা পড়েছেন সংকটে। যে কারণে আবার নতুন করে শুটিংয়ের সময় বেঁধে দিয়েছে ফেডারেশন অব টেলিভিশন প্রফেশনালস অর্গানাইজেশন (এফটিপিও), সঙ্গে রয়েছে কড়া বার্তা।

এফটিপিওর নতুন নোটিশে বলা হয়েছে, সকাল ১০টায় শুটিং শুরু হয়ে শেষ হবে রাত ১১টায়। শুটিং শুরুর সব প্রস্তুতি সকাল ১০টার আগেই শেষ করতে হবে। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, শিল্পীর অসুস্থতাসহ বিশেষ কারণে নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করে কাজ শেষ করা যাবে। নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ চাইলে ক্ষতিপূরণের আবেদন করতে পারবে।

কিন্তু এত দিনেও কেন শুটিং শৃঙ্খলায় আনা গেল না? কেন বারবার একই বিষয়ে নোটিশ দিতে হচ্ছে? এ প্রসঙ্গে এফটিপিও চেয়ারম্যান অভিনেতা মামুনুর রশীদ বলেন, ‘আগে থেকেই আমাদের নিয়ম ছিল। কিছু শিল্পী বিলম্বে আসে শুনেছি। এটা নিয়ে অভিযোগ আছে। সবাইকে বলব, সতর্ক হতে। নিয়মের মধ্যে আসা দরকার। গভীর রাত পর্যন্ত শুটিং হলে সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় পড়তে হয় টেকনিশিয়ানদের। দেখা যায়, অভিনয়শিল্পীর পরের দিন কাজ নেই কিন্তু লাইট, ক্যামেরা, প্রোডাকশনের ছেলেদের সকালে অন্য শুটিংয়ে যেতে হয়। আমরা সবাই মিলে একটা পরিবার, এটা শুধু বললেই হবে না, সবার কষ্ট সবাইকে বুঝতে হবে।’

এবার শুটিংয়ে শৃঙ্খলা ফিরবে তো

তবে এফটিপিওর নোটিশে কিছু ফাঁকফোকর রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন কেউ কেউ। রাহাত কবির নামের একজন পরিচালক ফেসবুকে নিজের অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তিনি মনে করেন, পরিচালকদের বাধ্য হয়েই গভীর রাত পর্যন্ত শুটিং করতে হয়। নোটিশ শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, ‘যাহারা ঠিক টাইমে সেটে এসে সহযোগিতা করছে না, তাদের জন্যও একটা নোটিশ জারি করেন না কেন?’ এই পোস্টের নিচে অভিনেতা এ কে আজাদ সেতু, নির্মাতা সরদার রোকনসহ একাধিক কলাকুশলী বিরূপ মন্তব্য করেছেন।

রোকন লিখেছেন, ‘নিকেতন হলো একটা নোটিশ বোর্ড, সেই নোটিশ বোর্ড আমাদের মতো নির্মাতাকে নোটিশটা দেয়, এই হলো নিকেতনের কাজ, কে নেবে তাদের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত, সেই সাহস কার আছে?’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুজন নির্মাতা বলেন, শুধু হাতে গোনা কিছু শিল্পী নিয়মের ধার ধারেন না। তাঁদের কাছে পরিচালকসহ পুরো টিম অসহায়। তাঁরা কেবল আসতেই দেরি করেন না, ফাঁকফোকর বের করে হুট করে শুটিং থেকে চলেও যান।

সহকর্মীদের ফেসবুকের মন্তব্য বিষয়ে এফটিপিওর মহাসচিব ও ডিরেক্টর গিল্ডের সভাপতি সালাউদ্দিন লাভলু বলেন, ‘নোটিশ না দেখে কথা বলা ঠিক নয়। হুট করে কোনো কিছু না বুঝে ফেসবুকে দেওয়াটাও যথার্থ নয়। মুষ্টিমেয় কিছু মানুষ এগুলো লিখেছেন। এ বিষয়ে বোঝার কোনো কিছু থাকলে তাঁরা সবাই আমাদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। সবার স্বার্থেই আমরা কাজ করছি।’ তিনি আরও বলেন,‘আট-দশজনের মতো শিল্পী রয়েছেন, যাঁরা দেরি করে শুটিং সেটে আসেন। তখন ডিরেক্টররা কোনো উপায় না পেয়ে গভীর রাত পর্যন্ত শুটিং করেন। আমরা উল্লেখ করেছি, এবার নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলে, শিল্পী বা কলাকুশলী যাঁর কারণেই শুটিং ক্ষতিগ্রস্ত হোক, তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ হলে সাংগঠনিকভাবে আমরা ব্যবস্থা নেব।’

নোটিশ পেয়েছেন শুটিং হাউস অ্যাসোসিয়েশনভুক্ত শুটিং বাড়ির মালিকেরাও। তাঁরা জানান, গভীর রাত পর্যন্ত শুটিং করে বেশির ভাগ নির্মাতা, প্রযোজক বাড়তি শিফটের টাকা দেন না। উল্টো হুমকি–ধমকি দেন। স্বপ্নিল শুটিং বাড়ির মালিক আবদুল আলীম বলেন, ‘আমরা অকারণে গভীর রাত পর্যন্ত শুটিংয়ের বিপক্ষে। এটা আমাদের জন্য কষ্টকর। সবাইকে বলব, আমাদের মতো গরিবদের সঙ্গে ঝামেলা না করে লাখ টাকার আর্টিস্টদের আগে শুটিংয়ে নিয়ে আসেন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *