সকল পক্ষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরী

কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম জুয়েল গণমাধ্যমের সূত্রে জানা গেছে, নিউমার্কেটের খাবার দোকানের দাম বা দাম পরিশোধ নিয়ে বচসা থেকেই এতবড় হাঙ্গামার সূচনা। প্রথমে সোমবার মধ্যরাতে, তার পর মঙ্গলবার প্রায় দিনব্যাপী এ সংঘর্ষ চলেছে। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ এসেছে প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর। শান্তি প্রতিষ্ঠায় তাদের তৎপরতাও ছিল প্রথমে ঢিলেঢালা। হয়তো তাদের অবস্থান নির্ণয়ে পুলিশের প্রাথমিক দ্বিধা কাটাতে সময় লেগেছে। কিন্তু আমরা বলব, এ ধরনের পরিস্থিতিতে পুলিশকে নিতে হবে নিরপেক্ষ শক্ত অবস্থান। শোনা যাচ্ছে, ছাত্ররা কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য করে ছাত্রাবাসে রয়ে গেছে এবং আবারও রাজপথ অবরোধ, বিক্ষোভ কর্মসূচি নিয়ে অবস্থান করবে। এ অবস্থায় শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা বেড়েছে। ফলে আমরা বলব, শিক্ষা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিজেদের মধ্যে দ্রুত আলোচনা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং উভয়পক্ষের মধ্যে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। এখানে সময় ক্ষেপণের সুযোগ নেই বলেই আমরা মনে করি।

আমরা জানি, সরকার ও কলেজ কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে ঘটনার তদন্ত করা হবে। তবে এর মাধ্যমে যে প্রকৃত অপরাধী চিহ্নিত হবে বা এ রকম পরিস্থিতি এড়ানোর সম্ভাব্য সুপারিশ পাওয়া যাবে, এ বিষয়ে আমরা নিশ্চিত নই। আমাদের দেশে সাধারণত ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে সাময়িক শান্তি প্রতিষ্ঠায় অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। আইনের পথে চলার বিষয়ে কোনো পক্ষেরই তেমন আন্তরিকতা দেখা যায় না। ফলে প্রায়ই কোনো একটি ঘটনা স্বাভাবিক নিয়মেই ঠা-া হয়ে এলেও যেহেতু সংঘাতের কারণ বিদ্যমান থাকে, সেহেতু পরবর্তী সময়ে সামান্য উত্তেজনার জেরে ব্যাপক সংঘর্ষ বেধে যেতে পারে। বারবার এমন ঘটনাই ঘটছে। আমরা মনে করি, যে কোনো পরিস্থিতির একটি আইনসিদ্ধ গ্রহণযোগ্য চূড়ান্ত সমাধান হওয়া বাঞ্ছনীয়। এ ক্ষেত্রেও আমরা তেমনটিই প্রত্যাশা করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.