মতলব উত্তরে অভিনব পদ্ধতিতে সবজি চাষ

চাঁদপুরের মতলব উত্তরে কীটনাশকের ব্যবহার ছাড়াই হলুদ ও ফেরোমন ফাঁদসহ নানা কৌশল ব্যবহার করে সবজির চাষ হচ্ছে। এসব সবজি বিষমুক্ত হওয়ায় স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ। এ ছাড়া উৎপাদন খরচ কম ও দাম বেশি পাওয়ায় লাভবান হচ্ছেন কৃষকেরা। ফলে এই অঞ্চলের কৃষকদের এতে আগ্রহ বাড়ছে। স্থানীয় কৃষি বিভাগ এই প্রযুক্তিতে সবজি চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছে বলে জানা গেছে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় মেঘনার চরাঞ্চলসহ ছেংগারচর পৌরসভা, ষাটনল, দুর্গাপুর ইউনিয়নে ব্যাপকভাবে সবজির চাষ হয়। চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২৫০ হেক্টর জমিতে বিষমুক্ত পদ্ধতিতে বেগুন, পটল, করলা, চালকুমড়ার ঢ্যাঁড়স, ঝিঙে ও শিম চাষ হয়েছে। আগে সবজি চাষের সময় অনেকে না বুঝেই মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক প্রয়োগ করতেন। এতে খরচ বেশি হওয়ায় ও স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকায় বিষমুক্ত সবজি চাষে কৃষকদের আগ্রহী করার উদ্যোগ নেয় স্থানীয় কৃষি বিভাগ।
সরেজমিনে টমেটো ও বাঁধাকপিসহ কিছু খেতে গিয়ে দেখা যায়, খেতজুড়ে ঝুলিয়ে রাখা আছে ছোট ছোট প্লাস্টিকের বয়াম ও আঠা লাগানো হলুদ কাগজ। কাছে গিয়ে দেখা যায়, এগুলো ক্ষতিকর পোকা দমনের ফরোমন ফাঁদ। এই চাষি সময় সোলেমানের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, এ বছর তিনি ৫২ শতক জমিতে ফরোমন ফাঁদ ব্যবহার করে সবজি চাষ করেছেন। এতে কম খরচে বেশি ফসল উৎপাদন করা যাচ্ছে।

বাজারে বিষমুক্ত পদ্ধতিতে চাষ করা এই সবজির চাহিদা বেশি হওয়ায় দামও বেশি পাওয়া যাচ্ছে। এ পদ্ধতিতে কীটনাশক খরচ কম হওয়ায় উৎপাদন খরচও কম। তাঁর সফলতায় অনেক কৃষক এই পদ্ধতিতে সবজি চাষ করতে আগ্রহী হচ্ছেন বলে তিনি জানান।
মেঘনার চরের কুমড়া চাষি আলাউদ্দিন বলেন, বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যে হলুদ ফাঁদ ও ফরোমন ফাঁদসহ অন্যান্য পোকা দমন পদ্ধতিতে চলতি মৌসুমে চরাঞ্চলের ১৫ হেক্টর জমিতে চাল কুমড়া চাষ করেন এখানকার কৃষকেরা।

এসব পদ্ধতিতে ক্ষতিকর পোকা দমন হওয়ার পাশাপাশি বাড়তি খরচ করে কীটনাশক প্রয়োগ করতে হচ্ছে না কৃষকদের। ফলে কীটনাশকের ব্যয় সাশ্রয় ও উৎপাদিত সবজি স্বাস্থ্যসম্মত হওয়ায় বাজারে ন্যায্য দাম পাওয়া যাচ্ছে। এতে কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন।

করলা চাষি ইব্রাহিম গাজী বলেন, ‘বিষ প্রয়োগ ছাড়াই আমি করলা চাষ করছি। এতে কৃষি বিভাগ পোকা দমনের জন্য বিভিন্ন ধরনের ফাঁদ ব্যবহারসহ আমাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, চলতি বছর উপজেলায় উৎপাদিত সবজির দাম ও চাহিদা বেশি হওয়ায় খুশি কৃষকেরা। বিষমুক্ত পদ্ধতিতে সবজি চাষে বাড়তি কীটনাশক খরচ কম হওয়ায় উৎপাদন খরচ কমেছে। পাশাপাশি উৎপাদিত বিষমুক্ত এসব সবজির চাহিদা বাজারে বেশি থাকায় ও দাম ভালো পাওয়া বিষমুক্ত নিরাপদ সবজি চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। কৃষক পর্যায়ে এই পদ্ধতি ছড়িয়ে দিতে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে কৃষি বিভাগ।

মতলব উত্তর প্রতিনিধি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *